প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ১৩০ বছরের বৃদ্ধের ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক ভাতা

বিপ্লব বিশ্বাস: [২] এলাকার বাসীর মতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বয়ষ্ক লোক তফিল উদ্দিনের ভাগ্যে জোটেনি বয়ষ্ক ভাতা। বৃটিশ শাসন আমল ও পাকিস্তান শাসন আমল দেখে জাতীয় পরিচয় পত্রনুযায়ী তার বয়স ১১০ বছর। অথচ এই বৃদ্ধ লোকটির জোটেনি বয়ষ্ক ভাতার কার্ড।

[৩] ইউপি চেয়ারম্যানের ভাষ্য বয়স্ক ভাতার আওতায় আনতে ওই ব্যক্তির নাম উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে পাঠানো হয়েছে। তবে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তলিকায় নাম নেই শতবর্ষী ওই বৃদ্ধের।

[৩] তার নাম তফিল উদ্দিন। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের কানিপাড়া গনাইরকুটি (চৌধুরী বাজার) গ্রামে। জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ১৯১১ সালের ২৯ নভেম্বর। জাতীয় পরিচয় পত্র নং-৪৯১০৬৩৮৪৬৬৭৩৮। তবে এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবী জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম সাল ভুল লেখা হয়েছে। তার প্রকৃত বয়স ১৩০ বছর। ধারণা করা হচ্ছে তিনি [৪]বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বয়স্ক নাগরিক। যিনি একাধারে বৃটিশ শাসন আমল ও পাকিস্তান শাসন আমল দেখেছেন। তিনি এখনো ও কোরআন শরীফ পড়ছেন। তবে চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ায় ইদানিং কোরআন পড়তে খানিকটা সমস্যা হচ্ছে।

[৫] তফিল উদ্দিনের ছেলে আবুল হাসেম ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “বাবার বয়স তো কম হয়নি! তিনি আর এখন একা একা চলাফেরা করতে পারেন না। বাবা এখন পর্যন্ত বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পাননি। আর কত বয়স হলে আমার বাবা সরকারি সুবিধা পাবেন? চেয়ারম্যান-মেম্বার কাছে বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি। শুধু ‘দেখবো বলেই তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন।” তিনি আরো জানান, “আমরা পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোন। সকলের আলাদা সংসার। বাবা আমার সাথেই আছেন। তিনি বার্ধক্য জনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ভিটে মাটি ছাড়া আমার কোন জমি নাই। বাজারে একটি ছোট দোকান আছে। দোকানের সামান্য আয় দিয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভরণপোষণ এবং লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে বাবার চিকিৎসা খরচ বহন করা আমার পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো বাবার চিকিৎসা চালানো সহজ হতো।”

[৬] এ ব্যপারে সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। নতুন তালিকার জন্য তার নাম পাঠানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত তিনি ভাতা পাবেন।[৬]উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, ভূরুঙ্গামারীতে এত প্রবীণ ব্যক্তি আছে সেটা জানতাম না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত