প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওজন নিয়ন্ত্রণ, হাড় গঠন, দাঁত ও চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে আনারস

অনলাইন ডেস্ক: বর্ষাকালীন নানা ফলের মধ্যে আনারস অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল। মধুর রসে টুইটুম্বর, সুমিষ্ট গন্ধ, পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ ও নানা খাদ্য উপাদানে ভরপুর এই ফল মানবদেহের রোগ প্রতিরোধে বিরাট ভূমিকা পালন করে।আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। হাড় গঠন, চোখের সমস্যা সমাধান, দাঁতা ও মাড়ির সুরক্ষা, হজমশক্তি বৃদ্ধিসহ নানাগুণ রয়েছে ফলটিতে।

আসুন জেনে নেয়া যাক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ আনারসের গুণগুলো:

ওজন নিয়ন্ত্রণে: শুনতে অবাক লাগলেও আনারস আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার এবং অনেক কম ফ্যাট রয়েছে। সকালে আনারস বা সালাদ হিসেবে এর ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

হাড় গঠনে: আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনও রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায়: আনারসের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে।

চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এ রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।

হজমশক্তি বাড়ায়: আনারস আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন, যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন আনারস খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

রক্ত জমাটে বাধা দেয়: দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এই ফল। ফলে শিরা-ধমনির (রক্তবাহী নালি) দেয়ালে রক্ত না জমার জন্য সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত যেতে পারে। হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে হৃদপিণ্ডকে কাজ করতে সাহায্য করে।

খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম আনারসে (জলডুগী) পুষ্টির যেসব উপাদান রয়েছে: ৯২.৪ গ্রাম জলীয় অংশ, ০.১ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ৩০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ০.৯ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম চর্বি, ৬.২ গ্রাম শর্করা, ১৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৮৩০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন, ০.১১ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২, ২১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত