প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যসংকট ও প্রতিকার

ইসমাঈল আযহার: [২] ইসলামের দৃষ্টিতে সকল উর্বর জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসা চাই। জমির মালিক যেই হোক তা যেন অনাবাদ না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘‘তোমাদের যার জমি আছে সে যেন তাতে চাষাবাদ করে, যদি নিজে না করতে চায় তবে যেন অন্য ভাইকে জমিটি চাষ করার জন্য দান করে দেয়।’’

[৩] এটি ইসলামের আখলাকি তথা নৈতিক নির্দেশনা। তবে বিশেষ প্রয়োজনে ইসলামী রাষ্ট্র অস্থায়ীভাবে এমন আপদকালীন আইনও করতে পারে, যাতে করে ফসল উৎপাদনে অনাগ্রহী জমির মালিক আগ্রহী কৃষকদেরকে তা বিনিময় ছাড়া ধার দেয়। এভাবে সকল উর্বর জমিকে চাষের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশনা প্রদান করেছে ইসলাম।

[৪] শুধু উর্বর জমিতে ফসল করার নির্দেশনা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ইসলাম। বরং মরুভূমি এবং অন্যান্য অনুর্বর জমিকে সেঁচের মাধ্যমে চাষের আওতায় নিয়ে আসার এক অপূর্ব ও যুগান্তকারী ঘোষণাও প্রদান করেছেন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোনো মৃত [অনুর্বর] জমিকে জীবিত করবে সেটির মালিক হবে সে নিজে।’’ অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বা পরিত্যাক্ত সম্পত্তি কেউ স্ব-উদ্যোগে আবাদ করে ফসলের উপযুক্ত করলে এর মালিকানা-স্বত্ব সে ভোগ করবে। এমনটি করতে হলে সরকারের পূর্বঅনুমোদন নেওয়া লাগবে কিনা-এ ব্যাপারে মুজাতাহিদীনে কেরামের দু’টি মত রয়েছে। তবে বিষয়টি সকল মাজহাবে স্বীকৃত। ফিকহ ও হাদীসে বিষয়টি ‘ইহয়াউল মাওয়াত’ নামে প্রসিদ্ধ। যার অর্থ হচ্ছে, ‘মৃতদের জীবিত করা।’ এভাবেই ইসলাম সকল খালি ভূমিকে ফসল উৎপাদনের আওতায় এনে খাদ্যসংকট থেকে বাঁচার পথ দেখিয়েছে। সমগ্র বিশ্বে যত জমি খালি পড়ে আছে সেগুলোর কিছু অংশও যদি এভাবে উর্বর করে তাতে খাদ্য উৎপাদন করা হয় তবে সহজেই বর্তমান সংকট দূর করা সম্ভব।

[৫] হাদীস ও সীরাতের কিতাবসমূহে একটি অধ্যায় রয়েছে ‘আলইক্তা’ নামে। যার অর্থ জমি বরাদ্দ দান। দেশের পরিত্যক্ত ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সরকারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমিগুলো ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার বিধান রয়েছে ইসলামে। বর্তমানে দেখা যায় ‘তেলা মাথায় তেল দেওয়া’র অবস্থা কার্যকর। অর্থাৎ সরকারি জমি বরাদ্দ পেয়ে থাকেন প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিগণ। প্রান্তিক কৃষকগণ তার আশাও করতে পারে না। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে তারাই এ ব্যাপারে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। আর তাদের হাতে জমি গেলেই সেটিতে ফসল উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সরকার ইচ্ছা করলে চাষাবাদ করার শর্তেই তা ওদেরকে দিতে পারে।

[৬] এটি ইসলামী বর্গা ব্যবস্থা। জমিমালিক ও কৃষকের মাঝে কিছু শর্তযুক্ত চুক্তির মাধ্যমে এটি কার্যকর হয়। এ ব্যবস্থার ফলে জমির মালিক নিজে ফসল না করতে পারলেও অন্য কৃষক দিয়ে করিয়ে লাভবান হতে পারে। অপর দিকে কৃষি কাজে পারদর্শী লোকজন অন্য মানুষের জমিতে ফসল করে উপকৃত হওয়ার সুযোগ পায়। আর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বেড়ে দেশের খাদ্যভান্ডার সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

[৭] ইসলামের দৃষ্টিতে নদীনালা ও খালবিলের পানি যৌথ সম্পদ। এতে কখনো ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘‘মানুষ তিনটি বিষয়ে যৌথ অংশীদার- পানি, আগুন ও ঘাস।’’ ইসলাম এ ব্যবস্থা এজন্য দিয়েছে যেন কোনো প্রভাবশালী, ক্ষমতাবান বা ধনাঢ্য ব্যক্তি এককভাবে সকল পানি কুক্ষিগত করে নিতে না পারে। এমনকি কারো যদি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় সেচের অনেক পানি থাকে এবং তা লোকটির কোনো কাজে না আসে তবে ওই পানিও অন্য কৃষকদেরকে তাদের জমির জন্য দিয়ে দিতে ইসলাম উৎসাহিত করে।

[৮] বর্তমানে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো দ্রব্যের দাম বাড়ার গন্ধ পেলেই বা কোনো গুজবের আওয়াজ পেলেই এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী তাদের সকল স্টক গোপন করে ফেলে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। ইসলামে এর কোনো সুযোগ নেই, বরং এ ধরনের সকল মজুদদারি ইসলামে নিষিদ্ধ। কেউ এমনটি করলে সে কঠিন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য এবং তার সকল অবৈধ স্টক খোলা বাজারে এনে সাধারণ মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া ইসলামের নির্দেশ। সূত্র: আল কাউসার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত