প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] খাশোগজি হত্যার পর এবার সৌদি যুবরাজের টার্গেট আব্দুল আজিজ !

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর সৌদি আরবের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছেন তার বন্ধু ওমর বিন আব্দুল আজিজ৷ সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক এই সাংবাদিক এখন কানাডায় বাস করেন৷ দেশটির পুলিশ তাকে সম্ভাব্য হুমকির ব্যাপারে সতর্ক করেছে৷

[৩] ওমর আব্দুল আজিজ জানেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না৷ এ কারণেই অনেক বছর ধরেই কানাডায় আশ্রয়ে আছেন তিনি। এখন তিনি বলছেন, রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ তার বিরুদ্ধেও হামলা হতে পারে বলে তথ্য পেয়েছে৷ সে হুমকির উৎপত্তি সৌদি আরব বলেও জানিয়েছে পুলিশ৷ আজিজ গার্ডিয়ান পত্রিকা এবং নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিওতে এমন দাবি করেছেন।

টুইটে শেয়ার করা ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ বিন সালমান ও তার লোকজন আমার ক্ষতি করতে চায়৷ তারা আমাকে হত্যা করতে চায় নাকি অপহরণ, তা জানি না৷’ ওমর বিন আব্দুল আজিজকে কয়েক বছর আগে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হয়৷ জার্মানির ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স এর গুইডো শ্টাইনবার্গ মনে করেন, ‘তার অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ এরই মধ্যে সৌদি সরকারের বিরোধিতাকারী সবাইকে চুপ করিয়ে দেয়া হয়েছে৷ তাদের বেশিরভাগই হয় কারাগারে, অথবা অন্যকোনোভাবে তাদেরকে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছে৷’ কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকায় আব্দুল আজিজের গুরুত্ব আরো বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি৷

[৪] এবারই প্রথম কানাডিয়ান পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করলো বলে জানান আব্দুল আজিজ৷ তার আইনজীবী আলা মহাজন গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, ‘এই হুমকির তথ্য খুবই নির্ভরযোগ্য৷’ কাওয়াকিবি ফাউন্ডেশনের প্রধান এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকর্মী ইয়াদ আল-বাগদাদী জানান, তারা আরো আগে থেকেই এমন হুমকির আশঙ্কা করছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, অনেকদিন ধরেই তাকে টার্গেট করে রেখেছেন এমবিএস (মোহাম্মদ বিন সালমান)৷’

[৫] আল-বাগদাদীও এমবিএসের অধীনে সৌদি নীতির কট্টর সমালোচক৷ তিনি এখন নরওয়েতে বাস করেন এবং ২০১৯ সালে তাকেও সৌদি আরব থেকে হুমকি পাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল৷ আল-বাগদাদীর সঙ্গে কখনো আব্দুল আজিজের দেখা না হলেও দুজনই লেখালেখি ও একই ধরনের নীতির পক্ষে কথা বলেন৷ ২০১৮ সালে তুরস্কে সৌদি দূতাবাসে খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাশোগির বন্ধু ছিলেন এরা দুজনই৷

আব্দুল আজিজের পাঁচ লাখের মতো ফলোয়ার রয়েছে টুইটারে৷ নিজের আর্টিকেলে তিনি নিজেকে সৌদি আরবের শীর্ষ তিন টুইটার ইনফ্লুয়েন্সারের মধ্যে জায়গা দিয়েছেন৷ এর মধ্যে তিনি আছেন নির্বাসনে, দ্বিতীয় জনকে আটক করা হয়েছে, তৃতীয় জন নিখোঁজ রয়েছেন৷

[৬] আব্দুল আজিজের মতে, ২০১৭ সালে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর দেশটিতে টুইটারও পাল্টে গেছে৷ এর আগে মানুষ টুইটারে পোস্ট করে নিজেদের মত জানাতে পারতো, সমালোচনা করতে পারতো৷ এখন সেটাও পারে না। সূত্র: ডয়চে ভেলে, বিডি প্রতিদিন/প্রিয়ডটকম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত