প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফরিং ক্যামেলিয়া : পিরিয়ড হলে কেউ যৌন সুখ পায় না, পর্নো দেখে কারও পিরিয়ড হয় না, যৌনাঙ্গ দিয়ে তিন-চার দিন ক্রমাগত রক্ত ঝরা কোনো আনন্দের বিষয় নয়

ফরিং ক্যামেলিয়া : পিরিয়ড নিয়ে যে পরিমাণ লেখালিখি ফেসবুকে হয়েছে, তাতে আমার মনে হয়েছিল, পিরিয়ড যে একটা স্বাভাবিক বিষয়, সেটা এতদিনে নিশ্চয়ই বাঙালি বুঝে গেছে। প্রতি মাসে আমি এবং আমরা মেয়েরা যে অমানসিক কষ্ট পাই, সেটা নিশ্চই এখন সবাই বোঝে। তাই বহুদিন এই বিষয় নিয়ে লিখিনি। কিন্তু সম্প্রতি সেনোরার পিরিয়ড নিয়ে বানানো বিজ্ঞাপনটার নিচে এবং সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে কচি পাঁঠা সম্প্রদায়ের প্রচ্চুর ম্যাৎকার দেখে মনে হলো, চুপ থাকলে অন্যায় হবে। অন্তত প্রত্যেকটা সচেতন এবং বিবেকবান মানুষের জন্য হলেও আমার লেখা উচিত। এরপর পাঠাগণ মানুষ হবেন কিনা, সেটা তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

সেনোরা এডটার কনসেপ্ট হলো, ভাই তার বোনকে, এই করোনার এই ঘর-বন্দি সময়ে, অনলাইন থেকে প্যাড কিনে দিচ্ছে। কী চমৎকার একটা বিষয়। এডটা দেখে আমার ছোট ভাইয়ের কথা মনে হলো। আমরা দুই ভাই বোন। আমার ছোট ভাইটা, কেন আমার বোন হলো না, সেই আক্ষেপ আমার কখনো হয়নি। কী করে হবে, ভাই আর বোন যে আলাদা হয়, এই ধারণা আমাদের

মধ্যে কখনো হয়নি। আমার প্যাড আমার ভাই কিনে আনুক, আমার বাবা আনুক, আমার আত্মীয়, কিংবা বন্ধু সেটাই তো স্বাভাবিক বিষয়। ভাই কে যদি আমি আমার শারীরিক কষ্টের কথা বলতে না পারি, তবে সে কিসের ভাই , কীসের বোন কীসের আপন জন।
এবার ফিরি বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে, বিজ্ঞাপনটার বিষয়ে পাঠাগণ তাদের কমেন্টে লিখছেন, পিরিয়ড মানে নোংরা বিষয়। কেউ কেউ স্বপ্ন দোষ, মাস্টারবেসনের সাথে পিরিয়ডের তুলনাও দিয়ে দিছেন। এক কাঠি বেশি পাঠাগণ, প্যাডকে কনডমের সঙ্গে তুলনা করছেন। অথচ পিরিয়ড হলে কেউ যৌন সুখ পায় না, পর্নো দেখে কারও পিরিয়ড হয় না। যৌনাঙ্গ দিয়ে তিন চার দিন ক্রমাগত রক্ত ঝরা কোনো আনন্দের বিষয় না, তল পেটে অসহ্য ব্যথা হওয়া, সারা রাত না ঘুমিয়ে বসে থাকা কোনো উচ্ছ্বাসের বিষয় না। এরপর প্যাড কিনে আনার সময় দোকানদার থেকে শুরু করে চারপাশের মানুষের কুৎসিত দৃষ্টির সম্মুখীন হওয়া নিশ্চয়ই উপভোগ্য না ।

 

ওনারা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারতেন, ওনাদের জন্ম যে প্রক্রিয়ায়, যে প্রক্রিয়ায় সমস্ত মানুষের জন্ম সেটা নোংরা না। এই যে প্রতি মাসে মেয়েরা পিরিয়ডের ব্যথা সহ্য করে, তার ফলাফল ওনাদের পৃথিবীতে আগমন, ওনারা আমি কিংবা আমাদের অস্তিত্ব থাকা। ওনাদের মায়েরা এই কষ্ট নেয়া প্রত্যাখ্যান করলে, ওনাদের এই সব লেখার সুযোগ হতো না। ওনারা একটু গুগল করলেই জানতেন, যে সব মেয়েরা প্যাড কিনতে পারে না, তারা নোংরা কাপড়, তুলা এসব ব্যবহার করে রোগে আক্রান্ত হন। প্রচুর মেয়ে প্রতি বছর এই সব রোগে মারা যান। এই স্বাভাবিক বিষয়টা প্লিজ বুঝুন, ভাই যদি বোনের জন্য ওষুধ কিনতে পারে তবে প্যাডও পারবে, বাবা যদি মেয়ের জন্য ব্রাশ কিনতে পারে তবে প্যাডও কিনতে পারবে। আপনার বোনটা যে প্রতি মাসে প্রচ- কষ্ট পায় সেটা বুঝুন। তাকে সাহস দিন, তার পাশে থাকুন। তার কি লাগবে জিগ্যেস করুন। সময় থাকতে মানুষ হওন , পাঠা থাকা নিশ্চয়ই খুব ট্যাঁসসস না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত