প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনায় আক্রান্ত রাজনীতিবিদেরা

ডেস্ক রিপোর্ট : কোভিড-১৯ তথা করোনায় আক্রান্তের সারি লম্বা হয়েই চলেছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। প্রথম আক্রান্ত রোগী শনাক্তের চার মাসের মাথায় এসে সংক্রমিতের তালিকায় ঢুকে পড়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এরইমধ্যে রাজনীতিকদের মধ্যেও সংক্রামক এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। ঢাকা টাইমস

করোনা আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন সরকারের একজন মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্যসহ দলটির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এর বাইরে বিএনপি, বিকল্প ধারা, সিপিবি, নতুন যাত্রা করা এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আছেন। তবে দুই একজন ছাড়া বাকিরা শারীরিকভাবে অনেকটা সুস্থ আছেন।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।

জানা গেছে, আক্রান্তদের কেউ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ আবার করোনায় মৃতদের দাফনে অংশ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন। এদের কেউ কেউ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

দেশে করোনার প্রকোপ শুরুর পর গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ছয় দফায় বাড়ানো এই ছুটি শেষ হয় ৩০ মে। এসময় কর্মহীন মানুষের পাশে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবেও পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আবার করোনায় মৃতদের দাফনের কাজেও এগিয়ে যান। আক্রান্তদের ধারণা, মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়েই তারা সংক্রমিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আক্রান্ত যারা

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি। এই অবস্থার মধ্যে তার ব্রেনস্ট্রোক হওয়ায় তিনি গভীর কোমায়।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থেকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি এখন অনেকটা সুস্থ। গত বুধবার দ্বিতীয় করোনা টেস্টের রেজাল্টও ‘নেগেটিভ’ এসেছে এই আওয়ামী লীগ নেতার।

দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আক্রান্ত হয়েছেন। সিলেটে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় রবিবার বিকালে তাকে সিএমএইচে আনা হয়েছে। কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

মোহাম্মদ নাসিম ছাড়াও বর্তমান সংসদ সদস্যদের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন শহীদুজ্জামান সরকার (নওগাঁ-২)। তিনি বাসায় চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হয়েছেন। এছাড়াও আক্রান্ত হয়েছেন এবাদুল করিম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬), ফরিদুল হক খান দুলাল (জামালপুর-২)। ফজলে করিম চৌধুরী এরইমধ্যে সুস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে সেই তুলনায় অনেকটা নিরাপদে আছেন দলটির নেতারা।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান ও তার স্ত্রী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল সভাপতি ও কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও তার স্ত্রী আফরোজা খন্দকার। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এছাড়া দলটির শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

কাউন্সিলর খোরশেদ শুরু থেকে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন করে ব্যাপক আলোচনা আসেন। তবে তার এবং স্ত্রী আফরোজা লুনা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সমস্যায় পড়ে যান তিনি। কারণ স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলেও কোথায় চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সহায়তায় তারা স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। খোরশেদের স্ত্রী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তবে এখনো খোরশেদের করোনা নেগেটিভ আসেনি।

এদিকে রেজ্জাক খান ও তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান  জানিয়েছেন তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

নতুন গঠিত দল আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মনজু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সম্প্রতি। তবে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। শরীর এখনও দুর্বল। বর্তমানে বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলটির একজন শীর্ষ নেতা।

এদিকে কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল, তার মা এবং মেয়ে করোনায় আক্রান্ত। এছাড়া সারা দেশে দলটির প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দলটির নেতাদের দাবি, কেউ ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে, কেউ গার্মেন্ট শ্রমিকদের সঙ্গে দাবি আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে বিকল্প ধরার প্রেসিডিয়াস সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে দলের প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রেস সচিব মো. জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন। ডা. রফিকুল বর্তমানে বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত