প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চলচ্চিত্র শিল্পে সংকট ২৫টি সিনেমা হল আর খুলবেই না

নিউজ ডেস্ক : এক সময় সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রী-পরিচালকদের দেখার জন্য ডাকসাইটে মন্ত্রী-আমলা থেকে শুরু করে বহু ঘরের রমণীরাও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতেন। ‘আশির দশকে সর্বাধিক হিট ছবির নায়ক ওয়াসিমের ছবি দেখতে আসা দর্শকরা তাকে দেখে পর্দায় পয়সা ফেলত’- এমন প্রবাদ পুরান ঢাকার অলিগলিতে।

আরও বেশি জানতে লায়ন সিনেমা হলের কর্ণধার মির্জা খালেকের শরণাপন্ন হতে হবে। ফাইভ স্টার হোটেলগুলো জ¦ল জ¦ল করত সিনেমার ডাকসাইটে কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রীর আগমনে। সিনেমা হল মালিক শুনলে লোকের চোখ ছানাবড়া হয়ে যেত। এ চিত্রটা গত দেড় দশকে বদলে গেছে। এখন মন্ত্রীর আগমনে সুপারস্টারদের লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে তাদের সেলফিবাজি করতে দেখা যায়। কথায় বলে ‘নাই কাজ তো খই ভাজ।’

গত দশকের শুরুতে জোট সরকারের সময় সিনেমাশিল্পে ধসের সূচনা। সময়টা বদলে গত এক যুগ ধরে প্রগতিশীল ধারার সরকার ক্ষমতায়, তারপরও চলচ্চিত্র এগিয়ে যাওয়ার বদলে তিনগুণ পিছিয়ে গেছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসে সিনেমা হল বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে কেউ বলতে পারছেন না, সিনেমা হলের ভবিষ্যৎ কী?

ভবিষ্যৎ পরিষ্কার শতাধিক সিনেমা হল থেকে আরও অন্তত গোটা পঁচিশ আর কখনই খুলবে না। চুয়াডাঙ্গার পান্না, বকশিগঞ্জের ঝংকার, গোপালদির চলন্তিকা, সিলেটের বিডিআর, খুলনার সঙ্গীতা, চট্টগ্রামের সিনেমাপ্লেক্স, চট্টগ্রামের বিডিআর, লক্ষ্মীপুরের হ্যাপী, ঢাকার গীত-সঙ্গীত, পুনম, শ্রীনগরের ঝংকার, স্বপ্নপুরী অন্যতম। এ ছাড়া গাজীপুরের কয়েকটি সিনেমা হলও বন্ধের ভাবনায় মত্ত যদি না চালু রাখার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পায়।

এমনিতেই ভালো এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছবির অভাবে সিনেমা হলগুলো ক্ষতির চরমসীমায় তার ওপর করোনায় এই সেক্টরের মালিকরা প্রায় নিঃস্ব। মুখে মুখে মাল্টিপ্লেক্স চিৎকার করলেও বাস্তবতা সেগুলো চালাতে যে সংখ্যক কনটেন্ট দরকার তা উৎপাদনে আমরা সক্ষম নই। সেক্ষেত্রে সিনেমার জন্য হাত বাড়াতে হবে হলিউড বলিউডে। আমাদনিকৃত ছয় ছবির ব্যাপারটা এখনো ফাইলচাপা। খবরে প্রকাশ তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে ছয় মাস দেনদরবার করতে হয়েছে প্রযোজক সমিতিকে। দীর্ঘ সময় লাগার পেছনের কারণ বলতে গিয়ে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন- প্রযোজক নেতাদের নিজেদেরই কোনো ছবি নেই, সাধারণ সদস্য কেউ ছবি করতে এসে তাদের কাছ থেকে ভালো ধারণা পায় না। তাদের সঙ্গে বসা না বসা সমান কথা।

করোনার এই সংকটে প্রতিবেশী দেশ বেশ কিছু ছবি সিনেমা হলের বদলে অনলাইন প্লাটফর্মে মুক্তি দিয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধারাটি তৈরিতে অনেকে তৎপর হয়েছেন। দরকার প্রচুর কনটেন্ট। আর সেটা হলে একযোগে সব সিনেমা হল বন্ধ হতে সময় লাগবে বড়জোর এক বছর।

সরকার যদি এ অবস্থার পরিত্রাণ চায়- বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এফডিসিকে প্রাণচঞ্চল দেখতে চায় তা হলে সিনেমা সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারবেন উত্তরণ ঘটাতে। এটা বাস্তবায়ন করতে ভ্যাট মওকুফ করে নামমাত্র মূল্যে এফডিসির সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অভিজ্ঞদের বসাতে হবে, ছবিশূন্য প্রযোজক সমিতির নেতৃবৃন্দকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, হলের উন্নয়নে আলাদা কমিটি করে সহজশর্তে ঋণের ব্যবস্থা এবং আগামী অন্তত তিন বছরের জন্য বিদ্যুৎ বিল মওকুফের ব্যবস্থা করা, গুণী প্রবীণদের সঙ্গে তরুণ প্রতিভাদের দিয়ে বাণিজ্যিক ধারার ছবি নির্মাণে শতভাগ সহযোগিতা অন্তত দুই বছর দেওয়া, ছবির বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়া, ইউটিউবসহ অন্যান্য প্লাটফর্মকে জবাবদিহির আওতায় আনা। নয়তো এক বছর পর আঙুল উঁচিয়ে বলতে হবে ‘এখানে এক সময় শুটিং হতো, এই যে মধুমিতা-অভিসার কনভেনশন সেন্টার দেখছ এখানে এক সময় সিনেমা হল ছিল। হাজার মানুষ লাইন ধরে সিনেমা উপভোগ করেছেন।’ ক্ষতি অনেক হয়ে গেছে। উল্লিখিত বিষয়ের বাস্তবায়ন যত দ্রুত দৃশ্যমান হবে তত দ্রুত আমরা পচন ঠেকিয়ে ফিরতে পারব। সূত্র : প্রিয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত