প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : মুজিব জন্মশতবার্ষিকী ও আমাদের আত্মোপলব্ধি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : ১৯৭৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন অনেক বছর নীরবে, নিভৃতে কিছু মানুষের মধ্যে স্মরিত হতো, পালন করার অনুকূল পরিবেশ ছিলো না। এরপর থেকে ধীরে ধীরে অনেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন করে আসছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় সরকারিভাবে জাতীয় শিশু-কিশোর দিবস নামে বাড়তি মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। আবার বিএনপি ও চার দলীয় জোটের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে এসব দিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বাতিল থেকেছে অথচ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের নেতার চাইতেও বড় ঐতিহাসিক পরিচয়ে আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তানে পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে স্বায়ত্ত শাসনের এক রাজনৈতিক অপরিহার্য আন্দোলনে রূপদান করতে সক্ষম হন, সফল হন পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে, পূর্ব বাংলার জনগণের জাতিগত ঐক্য সুদৃঢ় করতে। এর ফলেই সম্ভব হয়েছিলো পূর্ব বাংলায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইকে মুক্তিযুদ্ধ ও জনযুদ্ধে রূপান্তরিত করতে। এই যুদ্ধ আমাদের দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র।

জনগণ তাকে এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, জাতি-রাষ্ট্রের জনক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। জনগণই তাকে পৃথিবীর বড় বড় নেতাদের মতো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার উপাধি বঙ্গবন্ধু প্রদান করেছে। সুতরাং বাংলাদেশ রাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধুকে যারা আওয়ামী লীগের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করতে নিরন্তর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা রাজনীতির পোকামাকড়, অপশক্তি, রাষ্ট্র ও সভ্যতার বিপরীত শক্তি ছাড়া আর কিছু নয়। বঙ্গবন্ধু যখন রাজনীতির দলীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তখন তার বয়স মাত্র ২৯ বছর। এর আগেই তিনি রাজনীতির একজন তরুণ নেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন, অপরিহার্য করে তোলেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকে তিনি এই বাংলার ভাষা সংস্কৃতি ও জাতিগত অধিকারের এক আপোসহীন লড়াই শুরু করেন, নেতৃত্ব দেন এবং সেটিকেই স্বাধীনতায় রূপান্তরিত করেন। মাত্র ২৪-২৫ বছরের রাজনৈতিক লড়াই, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব প্রদানের হাতেনাতে পাওয়া ফল হচ্ছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। তিনি ছাড়া এমন নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার নেতা দ্বিতীয় আরেকজনও ছিলেন না। তার ছিলোপ জাতি-রাষ্ট্রের স্বপ্ন, সেই স্বপ্নই তিনি জাতির অন্তরে বুনন করেছিলেন।

১৯৭১-এ এর ফল পেতে জনগণ সর্বোচ্চ ত্যাগে আত্মনিয়োগ করেছিলো। যোগ্য নেতা ছাড়া জনগণ কখনো একা একা স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে না। বঙ্গবন্ধু সেই স্বপ্নের রূপকার ও বাস্তবায়নকারী ছিলেন। বয়স তখন তার গড়াতে গড়াতে ৫১তে উপনীত হলো। এই বয়সের একজন নেতা আমাদের স্বাধীনতা দিতে সক্ষম হলেন। আমরা কি বিষয়টি গভীরভাবে এটি একবারো ভাবি? স্বাধীনতা লাভের পর তিনি একটি আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে সংবিধান, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, শিক্ষানীতি ইত্যাদি প্রণয়ন করলেন, হাত দিলেন রাষ্ট্র ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনে। তখন তার বয়স ৫৫ চলছিলো। এরপর তাকে হত্যা, ক্ষমতা দখল, তার রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিকল্পনা পরিতাজ্য, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানানোর নেপথ্য শক্তির ষড়যন্ত্র, বিকৃত ইতিহাস বিকৃত প্রচারণা।

সর্বাধিক পঠিত