প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিমান চলাচল বন্ধই থাকছে চার অভ্যন্তরীণ রুটে

ডেস্ক নিউজ: দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চলাচল শুরু হয় ১ জুন। পরবর্তী ধাপে ফ্লাইট চলাচল শুরুর কথা ছিল রাজশাহী, বরিশাল, কক্সবাজার ও যশোর রুটে। কিন্তু এ চার জেলার বিমানবন্দরে চিকিৎসক ও জরুরি মেডিকেল সুবিধা না থাকায় তা এখনই চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও চিকিৎসক বরাদ্দ চেয়ে দুই মাস আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিল বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সূত্র: বণিক বার্তা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) বেঁধে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী, কভিড-১৯-এর সংক্রমণ পরিস্থিতিতে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে অবশ্যই চিকিৎসক ও মেডিকেল সহকারীসহ প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব উপকরণ থাকতে হবে। কিন্তু এ মুহূর্তে রাজশাহী, বরিশাল, কক্সবাজার ও যশোর বিমানবন্দরে কোনো চিকিৎসক নেই বলে বেবিচক সূত্রে জানা গিয়েছে। এমনকি যাত্রীদের মধ্যে কভিড-১৯-এর কোনো লক্ষণ আছে কিনা, সেটি পরিমাপেরও কোনো ব্যবস্থা নেই এসব বিমানবন্দরে। ফলে এ চার রুটে সহসাই যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর অনুমতি দিতে পারছে না বেবিচক।

বর্তমানে বাংলাদেশে সচল বিমানবন্দর রয়েছে আটটি। এর মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বাকি যে পাঁচ বিমানবন্দর শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের জন্য ব্যবহূত হচ্ছে, সেগুলো হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর, যশোর বিমানবন্দর, বরিশাল বিমানবন্দর, রাজশাহীর শাহ মাখদুম বিমানবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু সৈয়দপুর বিমানবন্দরেই সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক নিয়োজিত আছেন।

আইকাওর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ একটি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রস্তুত রাখতে হয়। একই সঙ্গে ইউনিটটির নিকটবর্তী বড় কোনো হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্তি থাকতে হয়, যাতে যেকোনো জরুরি অবস্থায় বিমানবন্দরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে তাত্ক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠানো যায়। চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে ব্যবহূত হওয়ায় বিমানবন্দর দুটিতে আগে থেকেই চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট রয়েছে।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের জন্য ব্যবহূত বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না এতদিন। তবে কভিড-১৯ পাল্টে দিয়েছে সবকিছু। বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ করতে হলে বিমানবন্দরে অবশ্যই একজন চিকিৎসক ও মেডিকেল সহকারীসহ প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখার নিয়ম বেঁধে দিয়েছে আইকাও।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব রুখতে মার্চের শেষ নাগাদ ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করা হয়। যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করে পুনরায় ফ্লাইট চালু করার বিষয়ে সে সময় থেকেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছিলাম। এর অন্যতম হচ্ছে প্রতিটি বিমানবন্দরে অন্তত একজন করে চিকিৎসক, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা, যা অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোয় ছিল না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে বেবিচকের পক্ষ থেকে দুই মাস আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরের জন্য সেখানকার সিভিল সার্জন একজন চিকিৎসক দিয়েছেন। এ কারণে সৈয়দপুরে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখনো অভ্যন্তরীণ চার বিমানবন্দরের জন্য চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। ফলে ওই সব বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেয়া হয়নি।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, কভিড-১৯-এর সংক্রমণ চলাকালে বিমানবন্দরে অন্তত একজন চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়া ফ্লাইট পরিচালনা করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। হঠাৎ করেই কোনো যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার যাত্রীদের স্ক্রিনিং ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, সেটাও একজন চিকিৎসক বা মেডিকেল স্টাফ ছাড়া নির্ণয় করা কঠিন। তাই সবসময়ই যেকোনো পরিস্থিতির জন্য বিমানবন্দরগুলোকে প্রস্তুত রাখতে হয়। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত