প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সিরাজদিখানের বাজারে মধুর ফল কচি তাল

জাহাঙ্গীর চমক: [২] জ্যৈষ্ঠের মধু মাসের নানান রকম বাহারী সব ফলের পাশাপাশি সিরাজদিখানে ছোট বড় বাজার গুলোতে উঠেছে কচি তাল। প্রথম অবস্থায় কচি তালের শাসের কদর বেশি হওয়ায় ও মুন্সীগঞ্জ থেকে এনে বিক্রি করতে হয় তাই দাম একটু বেশি। প্রতি পিস তালের শাস বিক্রি হচ্ছে ১০টাকায়। সে হিসাবে একটি আস্তো তাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

[৩] এ অবস্থায় কচি এই মিষ্টি মধুর তালের শাসের স্বাদ নিতে পারছে না অনেকে।

[৪] উপজেলার প্রতিটি এলাকার তালগাছ গুলোতে কচি তালে ভরে গেছে। মধু মাসের এ ফলকে কেউ বলে তালের শাস, কেউ বলে তালের আটি। গরমের মধ্যে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে তালের শাস অনেক উপকারী। এর রয়েছে অনেক গুনাগুন। তাই জ্যৈষ্ঠের এ মধু মাসে বাজারে নানা ফল উঠলেও সব জায়গায় জনপ্রিয় এই তালের শাস। গ্রীস্মের এই দিনে তালের শাস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। বর্তমানে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে। বিক্রেতা শাস কাটার সাথে সাথে ক্রেতারা দড়িয়ে থাকে শাস নেয়ার জন্য।

[৫] সিরাজদিখানের বেশ কয়েকটি গ্রামেই তাল গাছ রয়েছে। তালের শাস অতি সু-স্বাদু হওয়ায় সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে তালের শাস একটি জনপ্রিয় ফল। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে তালের শাস বিক্রি করে এই মৌসুমে অনেক হত দরিদ্র মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

[৬] তালের শাস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দুর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ, বিকমপ্লেক্স সহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাস রক্তশূন্যতা দুর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।

[৭] তালের শাস বিক্রেতা নাহিদ জানান, তিনি প্রতিবছরই এ সময়ে তালের শাস বিক্রি করে সংসার চালান। সিরাজদিখানে তাল গাছ কম থাকায় মুন্সীগঞ্জ থেকে তাল ক্রয় করে শাস বিক্রি করেন। করোনাভাইরাসে সব কিছু বন্ধ থাকায় এবার একটু দেরি করেই চলছে তালের শাসের ব্যবসা।

[৮] আরেক বিক্রেতা মোঃ কাঞ্চন শেখ জানান, এই ব্যবসায় লাভ যেমন, কষ্টও তেমন। প্রতিদিন প্রায় ৩শ থেকে ৪শ শাস বিক্রি করা যায়। একটি শাস আকার ভেদে ৮ থেকে ১০টাকা দরে বিক্রি করা হয়ে থাকে। এতে তার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা লাভ হয়।

[৯] গবেষক ড. মোঃ সাইদুল ইসলাম খান অপু জানান, তালের শাস খুব সুস্বাদু। গরমে কচি তালের শাস খেতে ভালই লাগে। তবে তাল গাছ এক পায়ে দাড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে উকি মারে আকাশে, কবির সে কবিতার মতো সারি সারি তাল গাছ রাস্তার দুধারে এমন দৃশ্য আর চোখে পড়েনা। কালের বিবর্তনে এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তাল গাছ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে তাল গাছে বাসা বানানো সেই বাবুই পাখি । পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আমাদের বেশী বেশী তালের বীজ বোপন করা দরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত