শিরোনাম
◈ মালয়েশিয়া যাত্রাকালে বিমানে যাত্রীদের সঙ্গে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ সিজেপি’র এক মাস: ‘আমাদের কথা শুনছে মানুষ’ ◈ বজ্রপাতে তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীসহ সারাদেশে নিহত ১১ ◈ প্রবাসীদের আইন মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, বন্দিদের মুক্তিতে কূটনৈতিক তৎপরতার আশ্বাস ◈ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপিপুত্র ও যুবদল নেতা সজীব ডিএমপির ডিবি হেফাজতে ◈ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিজেপির জয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ◈ মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কুয়ালালামপুরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ◈ সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা শুরু ◈ ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই: বাংলাদেশে কেন বাড়ছে শিক্ষিত বেকার ◈ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ বাংলাদেশির

প্রকাশিত : ০১ জুন, ২০২০, ০৫:২৭ সকাল
আপডেট : ০১ জুন, ২০২০, ০৫:২৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] যে নদীই কেড়ে নিয়েছে সব-বেঁচে থাকার তাগিদে সেই নদীর জলে ফের নেমে পড়েছেন ওঁরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :[২] ওদের মিন, মাছ ধরে শুরু হয়েছে নতুন করে আবার বাঁচার লড়াই। আমপানের দিন মাতলা নদীর জল বাঁধ ভেঙে গ্রামে ঢুকে প্লাবিত হয়েছে ক্যানিংয়ের মধুখালি, দক্ষিণ বুদোখালি, রেদোখালির মতো বহু এলাকা। ঘটিবাটি, জামাকাপড়— কিছুই রক্ষা করতে পারেননি অসংখ্য মানুষ। নদীর প্রবল স্রোত আর জলোচ্ছ্বাসে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। কেউ ত্রাণ শিবিরে আছেন। কেউ ভাঙাচোরা বাঁধের উপরে এক খণ্ড প্লাস্টিক টাঙিয়ে মাথা গুঁজেছেন।

[৩] বাসন্তীর সোনাখালি, বরপাড়া, হাজিরচক গ্রামেরও একই অবস্থা। সেখানেও হোগল নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। নদী সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেলেও সেই নদীই সুন্দরবনের বহু মানুষের জীবন ধারণের একমাত্র পথ। কেউ মাছ ধরেন, কেউ কাঁকড়া, কেউ মিন। কাঁকড়া ধরতে জঙ্গলে ঢুকে বাঘের হানায় বহু প্রাণ যায়। তবু পেটের টানে খাঁড়ি পথে নৌকো ভাসান।

[৪] সুলেখা, মঙ্গলা, নারায়ণীরা নদীতে নেমে পড়েছেন মিন ধরতে। জাল হাতে সুলেখা বলেন,‘‘মিন না ধরলে খাব কী? জল ঢুকে তো সব ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। দু’মুঠো চিঁড়ে আর একটু গুড় ছাড়া কিছুই পাইনি। ও দিয়ে কি আর পেট চলে ? বাচ্চাকাচ্চাদের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে চাই।”নারায়ণী সর্দারের কথায়, ‘‘নদী বার বার আমাদের গিলে খায়। তবু নদীর উপরেই ভরসা করে বেঁচে থাকি আমরা। এ ছাড়া কোনও গতি নেই।

[৫] পঞ্চাশ বছরের নারায়ণীর চোখে এখনো আয়লার স্মৃতি ভাসে। সে সময়েও হোগল নদীর জল গ্রামে ঢুকে সব ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলেছেন। এ বার বিপর্যয় ডেকে আনল আমপান। নারায়ণীরা জানেন, মারলে নদী মারবে, বাঁচালেও বাঁচাবে সে-ই। গ্রামে নদীর নোনা জল ঢুকেছে। ফলে আগামী কয়েক বছর চাষ হবে না। পুকুরের মাছও সব মরেছে। নদীতে মাছ, মিন ধরা ছাড়া এই মুহূর্তে বিকল্প জীবিকা নেই।

[৬] বরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুরবালা বর বলেন, ‘‘মিন ধরে তা-ও দিনে ৭০-৮০ টাকা রোজগার হচ্ছে। দু’টো চালে-ডালে জুটে যাচ্ছে।’’ ক্যানিংয়ের মধুখালি গ্রামের বাসিন্দা সবিতা মণ্ডল ছেলে রবিনকে সঙ্গে নিয়ে মাতলা নদীতে মিন ধরছিলেন। বললেন, ‘‘আয়লায় গ্রাম তছনছ হয়ে গিয়েছিল। এলাকায় কোনও কাজ নেই। স্বামী অন্য রাজ্যে কাজ খুঁজতে চলে গেলেন। এখন লকডাউনে ফিরে এসেছেন। রোজগার বন্ধ। এ দিকে নদীর বাঁধ ভেঙে আবার সব ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সাতজনের সংসার। কাজ না করলে কী করে চলবে? তথ্য আনন্দবাজার।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়