প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলাদেশেও করোনা রোগিদের জন্য হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিষিদ্ধ হলো

লাইজুল ইসলাম : [২] হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, এটি ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে জানা গেছে, ওষুধটি করোনা রোগীদের মৃত্যুহার বৃদ্ধি, শরীরে হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যাসহ নানা সমস্যা তৈরি করে।  তাই আপাতত এর ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

[৩] সে অনুযায়ী, কোভিড-১৯ রোগীদের ওপর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশও একই পথ অনুসরণ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশও।

[৪] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ওষুধটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

[৫] কমিউনিক্যাবল ডিজিস কন্ট্রোল সিডিসি এর পরিচালক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসি বলেন, এই ওষুধটি আমরা গুরুতর রোগির জন্য ব্যবহার করিনি। সাধারণ রোগিদের জন্য ব্যবহার করেছি। নিষেধাজ্ঞার কথা হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

[৬] এর আগে, প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে কোভিড চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ইতিবাচক ফল দিতে পারে জানানোর পর বেশ কয়েকটি দেশ এটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এটি সেবন করেছেন বলে জানিয়েছিলেন।  হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে করোনাযুদ্ধের ‘গেমচেঞ্জার’ বলেও অভিহিত করেছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে নেতিবাচক ফল আসায় মার্কিনীরাও এই ওষুধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

[৭] তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য প্রতিরোধী ওষুধ হিসেবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বাড়িয়েছে ভারত। এছাড়া, বেশ কিছু জায়গায় এখনও এই ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষা চালাচ্ছে সুইস ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নোভারটিস। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড ও থাইল্যান্ডের মাহিদল অক্সফোর্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ ইউনিট করোনার চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে।

 

 

সর্বাধিক পঠিত