প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হাসপাতাল নয়, আগুনের খবর প্রথমে ৯৯৯-এ জানান রোগীর স্বজন

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] রাজধানীর বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসার জন্য তৈরি আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবরটি প্রথম জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ দিয়েছিলেন চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন। সেখান থেকে বার্তা পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট।

[৩] পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশ বলেছে, অস্থায়ীভাবে নির্মিত ওই আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিনির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল কি-না কিংবা এ ঘটনায় হাসপাতালের গাফিলতি ছিল কি-না তা তদন্ত করা হবে এবং এ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৪] ফায়ার সার্ভিস সদরদফতরের ডিউটি অফিসার কামরুল আহসান জানান, ইউনাইটেড হাসপাতালের মূল ভবনের বাইরে স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবরে বুধবার (২৭ মে) রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সেখানে পাঠানো হয়। রাত ১০টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে আমাদের জানানো হয়েছে এসির বিস্ফোরণের কারণেই আগুন লেগেছে। আগুনে পুরো আইসোলেশন ইউনিট পুড়ে গেছে, যদিও মূল ভবন অক্ষত রয়েছে।

[৫] আগুনের খবরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। পরিদর্শন ও সার্বিক খোঁজ-খবর নেয়ার পর তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় এক রোগীর স্বজন গেইটে দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি ৯টা ৪৮ মিনিটে আগুন দেখে ৯৯৯-এ ফোন করেন। আমরা তার ফোন চেক করেছি। এর ফলে ধরে নিতে পারি অগ্নিকাণ্ডের সূচনা ৯টা ৪৮ মিনিটে। পরে ভাটারা থানার মাধ্যমে আমরা ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত মেসেজ পাঠাই। তবে ফায়ার সার্ভিস আসা পর্যন্ত সময়ে হঠাৎ করেই আগুন বড় পর্যায়ে চলে যায়, এর ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।

[৬] প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে তিনি বলেন, রোগীর স্বজনরা এসির স্পার্কিং থেকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তাছাড়া, ওই ইউনিটের প্রায় সকল দ্রব্যাদি অনেক বেশি দাহ্য ছিল। সেখানে অনেক ধরনের স্যানিটাইজেশন উপাদান ছিল, যা খুবই দাহ্য পদার্থ। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প সময়ে আগুন এখানে খুব বড় রূপ নেয় এবং পাঁচজন রোগী মৃত্যুবরণ করেন।

[৭] নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন করোনা আক্রান্ত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে তিনজনের করোনা পজেটিভ এবং দুজনের নেগেটিভ ছিল বলে চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন। এদের চারজন পুরুষ এবং একজন নারী। তাদের তিনজনের বয়স ৭০ বছরের ওপরে, একজনের বয়স ৪৫ এবং আরেকজনের বয়স ৫০ বছর।

[৮] সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, যেহেতু দুজনের করোনা নেগেটিভ ছিল, তাই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের স্বজনদের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। বাকি তিনজনের মরদেহ আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী ধর্মীয় বিধান মেনে দাফন বা সৎকার করা হবে।

[৯] তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আমরা ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেব। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি-না বা অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা ছিল কি-না খতিয়ে দেখা হবে। সে অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত