প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ সেমাই, কিভাবে এলো এই সেমাই রীতি!

মুসবা তিন্নি : [২] সেমাইয়ের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের সম্পর্কটা কীভাবে তৈরি হলো তার হদিস পাওয়াটাও বেশ মুশকিল। বাঙালির সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের মধ্যযুগের ইতিহাস গ্রন্থে যেটুকু পাওয়া যায় তার মধ্যে সেমাইয়ের উল্লেখ নেই। কিন্তু ফিরনির আছে। নবাব আলিবর্দী খাঁর খাদ্য তালিকায় খিচুড়ির উল্লেখযোগ্য অবস্থান ছিল। সেমাইয়ের উল্লেখ পাওয়া যায় না মোগল রসুইঘরেও। অর্থাৎ সেমাই মোগলাই খাবারের মধ্যে পড়ে না।

[৩] মধ্যযুগের সাহিত্যে অনেক খাবারের নাম পাওয়া যায়। কিন্তু সেমাইয়ের নাম কোথাও নেই। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষাতে সেমাইয়ের নাম একেক রকমের। বাংলা অবশ্য সেমাই। তবে হিন্দি, উর্দু ও পাঞ্জাবিতে সেমিয়া অথবা সেভিয়াঁ। মারাঠিতে বলে সেমাইয়া, গুজরাটিতে সেই এবং তেলেগু, তামিল ও মালায়লামে সেমিয়া।

[৪] সেমাইয়ের খানিকটা আন্তর্জাতিকতাও আছে। বাঙালি সেমাই ভিন্ন নামে আছে গ্রিসে। আছে আফ্রিকার সোমালিয়াতেও। সেখানে তার নাম কাদ্রিয়াদ। বাংলাদেশে শুধু ঘি দিয়ে ভেজে যেভাবে দমে সেমাই রান্না হয়, সোমালিয়ার কাদ্রিয়াদ রান্নার প্রণালি সেই একই রকম।
সেমাইয়ের কাছাকাছি কিছু পদ পাওয়া যাবে ইরান ও তুরস্কেও। নাম অবশ্য ভিন্ন। বাংলা অভিধানে সেমাই শব্দটাকে কোথাও বলা হয়েছে হিন্দি, কোথাও বলা হয়েছে দেশি।

[৫] ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, গ্রিক শব্দ সেমিদালিস থেকে সেমাই শব্দের উৎপত্তি। তবে ব্যাপারটা সরাসরি ঘটেনি। সেমিদালিস শব্দের মূল অর্থ হলো ময়দা। ময়দা অবশ্য ফারসি শব্দ। যা হোক, এই সেমিদালিস শব্দ সংস্কৃত ভাষায় প্রবেশ করে সমিদা রূপ ধারণ করে। সমিদা থেকেই তৈরি হয় সেমাই, সেমিয়া ইত্যাদি শব্দ এবং এইসব নামের মিষ্টান্ন দ্রব্য।

[৬] ভারতের অনেক রাজ্যেই সেমাই নানাভাবে খাওয়া হয়। বিভিন্ন পালাপার্বণেও সেমাই রান্নার রেওয়াজ রয়েছে। তা ছাড়া, উপমহাদেশের মুসলমানমাত্রই ঈদের দিনে সেমাই খায়। পাকিস্তানেও সেমাই ছাড়া ঈদ হয় না।

[৭] সেমাইয়ের ইংরেজি নাম পাওয়া যায় ভারমিসেলি। শব্দটা ইতালীয় ভারমিয়েল্লি শব্দের ইংরেজি রূপ। স্বাদ ও রন্ধনপ্রণালির দিক থেকে সেমাইয়ের স্বাদ ভারমিসেলি বা ভারমিচেল্লির কোনো সম্পর্ক নেই। মিল রয়েছে শুধু চেহারায়।

[৮] আমাদের দেশে সেমাই কেন এত জনপ্রিয়?

‘দ্রুত তৈরি করা যাচ্ছে, দামে সস্তা। ফলে এটি অনুষঙ্গ হয়ে গেছে। পোলাও, কোর্মার মতো তাই এটিও সবার কাছে জনপ্রিয়।’ বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও পাকিস্তানে ঈদে সেমাই খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে অন্যান্য অন্যান্য মুসলিম দেশে ঈদে এত আয়োজন করে সেমাই খাওয়া হয় না।

সূত্র : ইতিহাস ও মিথলজি

সর্বাধিক পঠিত