প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লকডাউন মানায় করোনার বিস্তার হয়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : [২] বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গত ১৮ই এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ইসলামিক বক্তা যোবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় যোগ দিয়েছিলো হাজার হাজার মানুষ। বিপুল এই জনসমাগমের পর পেরিয়ে গেছে তিন সপ্তাহের বেশি সময়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি ঠাঁই করে নিয়েছিলো আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমেও। লকডাউন অমান্য করে এমন জনসমাগম নিয়ে হয়েছিলো তীব্র সমালোচনা।

[৩] ঘটনার পরপরই করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে জেলার সরাইলের পাঁচটি, আশুগঞ্জ উপজেলার দুটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার একটি গ্রামকে লকডাউন করে দেয়া হয়। এরপর দু সপ্তাহের লকডাউন ও কোয়ারেন্টিন শেষে জেলা প্রশাসন বলছে ওই সব গ্রামে কারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্ধান মিলেনি।

[৪] জেলা সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলছেন, তারা গ্রামগুলো থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছেন, তবে কারও করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত একজন করোনা পজিটিভ নারীকে পাওয়া গেছে যিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছিলেন।

[৫] তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্য স্বস্তির। জানাজায় অনেক লোক জড়ো হওয়ার প্রেক্ষাপটে যেসব ব্যবস্থা প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে সেটা কাজ করেছে। লকডাউনও সবাই মেনে চলেছে। অনেকে নিজে থেকেই কোয়ারেন্টিনে ছিলো। ফলে সংক্রমণ বা এর বিস্তার হয়নি। আমরাও এখনো মনিটর করে যাচ্ছি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল টিম কাজ করছে।

[৬] যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ হাজার হাজার মানুষের এসব গ্রামগুলো থেকে মাত্র ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা বলছেন, অনেকেই লকডাউন মানেনি। আবার ব্যাপক কোনো পরীক্ষাও হয়নি। এখন তো কোনো বিধিনিষেধই নেই। করোনা নেই বলে এখন সবাই তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো পরীক্ষাই হয়েছে হাতেগোনা কয়েক জনের।

[৭] যদিও তখন পুলিশ জানিয়েছিলো যে স্থানীয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানাজা আয়োজনের আগে সরকারি নির্দেশনা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছিলো। কিন্তু পরে তা আর দেখা যায়নি বরং সরাইল ছাড়াও আশেপাশের অনেক জেলা, উপজেলা ও গ্রাম থেকে মি. আনসারীর অনুসারীরা এসে জানাজায় যোগ দেয়। এই ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারও করেছিলো সরকার।

[৮] সরাইলের যে ইউনিয়নের বেশি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছিলো সেই পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: দ্বীন ইসলাম বলছেন করোনায় সংক্রমিত হওয়ার কোনো উপসর্গ কারও মধ্যে না পাওয়ায় এখন আর লকডাউন সেখানে কার্যকর নেই। তিনি বলেন, আমার চারটা গ্রাম লকডাউন ছিলো। অনেকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে পজিটিভ কেউ নেই। জানাজার পর তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। তাই লকডাউন আর নেই। তবে কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা যায় কি-না সেদিকে আমরা খোঁজ রাখছি। উপসর্গ না দেখা দেয়ায় নতুন করে কারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার আছে বলে তারা মনে করছেন না।

[৯] তবে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন বলছেন জানাজায় বিপুল জনসমাগমের পর সেখানে চারপাশের গ্রামগুলো লকডাউন করা, কোয়ারেন্টিনে রাখা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার সুফল পাওয়া গেছে। সেখানে এক জায়গায় অনেক সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি। তবে নরসিংদীতে আমরা অনেক রোগী পেয়েছি যাদের সাথে এর সম্পৃক্ততা ছিলো। এটা ঠিক যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহামারী ঘনীভূত হয়নি। তবে ছড়িয়েছে অন্যত্র, বিশেষ করে নরসিংদীতে।

[১০] তিনি জানান, নরসিংদীতে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই মৃদু লক্ষণযুক্ত, যাদের অধিকাংশই সুস্থ হওয়ার পথে। তার মতে ওই জানাজাকে কেন্দ্র করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তারের যে আশংকা ছিলো সেটি আপাতত কেটে গেছে বলেই মনে করছেন তারা।

[১১] ওদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৭ জনের। সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে ঈদের আগে দোকানপাট না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ