শিরোনাম
◈ ইলিয়াস আলী গুম: ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত ◈ ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তীব্র সতর্কতা ◈ ওয়ান-ইলেভেনের তিন কুশীলব ডিবি হেফাজতে: মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরোচ্ছে নতুন তথ্য ◈ জ্বালানি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের ◈ দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল‌্যা‌ন্ডের কা‌ছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল ◈ তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ ওকে লাথি মেরে বের করে দিন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের ◈ বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি সংকটে প্রথমে ফুরিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ! ◈ শিশুশিল্পী লুবাবার বিয়ে আইনত বৈধ কি না, বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে?

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২০, ০৮:২১ সকাল
আপডেট : ১২ এপ্রিল, ২০২০, ০৮:২১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আলী রীয়াজ : গণমাধ্যমকে জরুরি সেবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক

আলী রীয়াজ : তথ্য জানা নাগরিকের অধিকার, কখনো কখনো সঠিক তথ্য জানার উপরে জীবন-মৃত্যু নির্ভর করে, সেই সময়ে তথ্য জানা কেবল অধিকার নয় তথ্যই লাইফলাইন। কোরোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে যে সব পেশার সদস্যরা তাদের জীবন বিপন্ন করে সবার জন্য কাজ করছেন, সাংবাদিকরা তাদের অন্যতম। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার যানবাহন চলাচল এবং চলাফেরার উপরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যে সব জরুরি সেবাকে আওতামুক্ত রেখেছিলো গণমাধ্যমকে তা থেকে বাদ দিয়েছে। ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনায় যে সব জরুরি সেবা নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে তালিকা দেওয়া হয়েছে সেখানে গণমাধ্যমের উল্লেখ নেই। এই নির্দেশনায় অবশ্য এটা বলে হচ্ছে যে এর আগে মন্ত্রিপরিষদ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি এবং চলাচলের বিষয়ে যে সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো তা বহাল থাকবে। ২৪ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিলো, ছুটি বা বন্ধ সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের জন্য প্রযোজ্য হবে, স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদপত্রসহ অন্যান্য জরুরি প্রতিষ্ঠান চলবে। ৫ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিলো যে, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত যে ছুটি দেওয়া হয়েছে তাতে জরুরি সেবাসহ সংবাদপত্র এর আওতামুক্ত থাকবে। ৬ এপ্রিল বলা হয়েছিলো সন্ধ্যা সাতটা থেকে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হলেও সংবাদপত্র এর আওতামুক্ত থাকবে। কিন্তু ৯ এপ্রিলের তালিকায় যে পাঁচ ধরনের যানবাহনের চলাচলের বিষয়ে বাধা নিষেধ না থাকার কথা বলা হয়েছে তাতে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করা হয়নি। গণমাধ্যমকে জরুরি সেবা বলে বিবেচনা করে সুস্পষ্টভাবে তালিকাভুক্ত না করলে সংবাদ মাধ্যমের জন্য তথ্য সংগ্রহ এবং তা নাগরিকদের কাছে পৌঁছানোর কাজ বাধাগ্রস্ত তো হবেই উপরন্তু বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রকমের বাধা নিষেধের কারণে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে যথাযথ খবর প্রচার বিঘিœত হচ্ছে। এখন যদি তাদের চলাচল অবাধ না করা যায় তবে তা আত্মঘাতী হবে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যের জন্য সম্প্রতি কয়েক দিনে বেশ কিছু ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কথিত গুজব প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে সংক্রমণের মাত্রা সরকারি হিসাবেই দ্রুত বাড়ছে এবং তার ব্যাপ্তি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। এই পটভূমিকায় এই বিষয়ে অস্পষ্টতা বা গণমাধ্যমকে জরুরি সেবা বিবেচনা না করা তথ্যের অবাধ প্রবাহের ব্যাপারে সরকারের অনীহা বলেই প্রতীয়মান হবে। যখন নাগরিকদের দরকার আরও বেশি তথ্য, সঠিক তথ্য সেই সময়ে যে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রতিবন্ধকতা এই সন্দেহকেই জোরদার করবে যে, সরকার সঠিক তথ্য প্রচারে আগ্রহী নয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিষয়ে সরকারিভাবে দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ইতোমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। প্রস্তুতি নিয়ে সরকারের দেওয়া বক্তব্যগুলো যে সঠিক ছিলো না সেটি এখন দিবালোকের মতো সত্য। এখন সব কিছু যেভাবে মোকাবেলার চেষ্টা করা হচ্ছে তাতেও রয়েছে সমন্বয়হীনতা, সরকার প্রায়োরিটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে একধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছে তা সরকারের কার্যকলাপ লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়। এই অবস্থায় আরও বেশি অস্বচ্ছতা আরও বিপদ তৈরি করবে। সেই কারণেই অবিলম্বে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়ে গণমাধ্যমকে জরুরি সেবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়