শিরোনাম
◈ দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ: ইসি সচিব ◈ দুপুরে এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন ◈ ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ককে ‘অগ্রাধিকার’ দেবে জামায়াত: এনডিটিভিকে শফিকুর রহমান ◈ এবার সারা বাংলাদেশের ভোটের চিত্র একরকম, কিন্তু গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি অন্যরকম ◈ ভোট দেওয়া শেষে সবাইকে 'ঈদ মোবারক' জানান প্রধান উপদেষ্টা ◈ রুমিন ফারহানার অ‌ভি‌যোগ, বিভিন্ন জায়গায় সিল মারার পায়তারা করছে ◈ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পুত্র থেকে যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন  ◈ বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই, জামায়াতের নতুন স্বপ্ন: সারাদেশে চলছে ভোট গ্রহণ ◈ ভোটের দিনে স্বাভাবিক রয়েছে মেট্রোরেল ও ট্রেন চলাচল ◈ রাজধানীতে ডিএমপির অশ্বারোহী দলের টহল, কেন্দ্রে কেন্দ্রে উৎসবের আমেজ

প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল, ২০২০, ১০:৩০ দুপুর
আপডেট : ০৭ এপ্রিল, ২০২০, ১০:৩০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] চাকা না ঘোরায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ পরিবহণ শ্রমিক

সুজন কৈরী: [২] করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। বন্ধ রয়েছে বাস, মিনিবাস, লেগুনাসহ সকল গণ পরিবহন। এতে বিপাকে পড়েছেন এই সেক্টরের শ্রমিকরা। আয় না থাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। সরকার, পরিবহণ মালিক, শ্রমিক নেতাসহ কারো থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা মিলছে না বলেও অভিযোগ তাদের। যদিও শ্রমিকদের নিয়ে ভাবার কথা বলছেন পরিবহন নেতারা।

[৩] পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিজন চালক ও হেলপার প্রতিদিন কাজ করতে পারেন না। একদিন পর একদিন করে কাজ করতে হয়। অর্থাৎ মাসে ১৫ দিন। একদিনে যে আয় হয়, তা দিয়ে তাদের চলতে হয় দুই দিন। ছুটিতে তাদের অবস্থা নাজুক। অধিকাংশ শ্রমিকের ঘরে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য নেই। দিতে হবে বাড়ি ভাড়াও।

[৪] রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে দক্ষিণ বনশ্রী রুটে চলাচলকারী তরঙ্গ প্লাস পরিবহণের চালকের সহকারী আক্তারুজ্জামান বলেন, সরকার বা শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। কাজ না থাকায় আয় নেই। তিনি বলেন, আমরা সরকার থেকে কোনো সাহায্য পাই নাই। মালিক পক্ষ ও নেতারাও কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করেন নি।

[৫] একই পরিবহনের চালক সুমন বলেন, চার তারিখ পর্যন্ত গাড়ি বন্ধ থাকার কথা ছিল। এখন আবার বেড়েছে। আমরা কি খাই, কীভাবে চলি কেউ দেখে না। বাসা ভাড়া আছে, সংসারের বিভিন্ন খরচ আছে। আমরা দিন আনি দিন দিন খাই। টাকা জমাতে পারিনা যে, কোনো প্রয়োজনে তা ভেঙে খাওয়া যাবে। পরিবহণ মালিকদের পক্ষ থেকেও কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না।

[৬] মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান থেকে শ্যামলি রুটে চলাচলকারী উড়াল পাখি পরিবহণের চালক রিপন হোসেন জানান, সাধারণ ছুটির পর পরিবহণ বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এক ব্যাগ খাবার পেয়েছেন তিনি। যা সর্বোচ্চ তিন দিন চলবে। রিপন বলেন, একদিন গাড়ি চালাইলে হাজার টাকার মতো ইনকাম হয়। এই ইনকামে দুই দিন চলি। কারণ আমরা একদিন পরপর গাড়ি পাই। গত দশ দিনে কোনো ইনকাম নাই। কেউ একবার আমদের দিকে ফিরেও তাকায় নি।

[৭] গাজীপুর থেকে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কে চলাচলকারী ভিক্টর পরিবহণের একটি বাসের হেলপার নিজাম বলেন, ছুটি ঘোষণার পর থেকেই বাস বন্ধ। কোনো আয় নেই। কিছু টাকা জমানো ছিল। তা দিয়ে বাজারসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনেছি। এখন হাত একেবাওে খালি। কীভাবে কি হবে বুঝতে পারছি না। শ্রমিকদের এই কষ্টে পরিবহণ নেতাদের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

[৮] একই অবস্থা রাজধানীতে চলাচলকারী বিভিন্ন বাস, মিনিবাস, লেগুনা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন শ্রমিকদের।

[৯] এ বিষয়ে বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এ্যানায়েত উল্লাহ বলেন, শ্রমিকদের জন্য মালিকরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে যতটুকু সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করছেন। এটা মানবতার ব্যাপার। মালিকরা যে যেভাবে পারছে করছেন। এছাড়া শ্রমিকদের সহায্য-সহযোগীতার জন্য সরকারের সঙ্গেও কথা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়