প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা : ছুটি বাড়াতেই হবে

দীপক চৌধুরী : গোটা বিশ্বে এখন একমাত্র শব্দ করোনাভাইরাস। সেরাদেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।তারা অসহায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশঙ্কা করছেন প্রায় দু লাখ মানুষ প্রাণ হারাবে। নিউইয়র্কজুড়ে আতঙ্ক। থমথমে অবস্থা বিশ্বে। এর চিকৎসাব্যবস্থা, চিকিৎসাসরঞ্জাম, প্রতিষেধক তৈরি নিয়ে বিশ্বে বাঘাবাঘা বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা কূলকিনার পাচ্ছেন না। কী হতে যাচ্ছে বিশ্বে। অর্থনীতির ওপর ভয়ংকর চাপ সৃষ্টি হবে বিশ্বে।আমাদের অবস্থা কী হতে পারে কল্পনা যায়? এরপরও আমাদের ধৈর্য ধরতেই হবে। ছুটি বাড়াতে হবে। ঘরে থাকা একমাত্র পথ। স্লোগান হতে হবে, ঘরে থাকুন। কোয়ারেন্টিন মানুন। এ ক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর হতেই হবে। কারণ, এরতো ম্যাজিকেল স্যলূসন সভব নয়।

২০১২/১৩ সালের দিকে সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশে সার্স ভাইরাস ছড়ায়নি। কেউ কেউ মনে করেন, তা থেকে একটু আশা যে এটাও যেহেতু সার্স এরই একটি প্রজন্ম, তাই এটা ছড়াবে না এ দেশে। এছাড়া করোনা সংক্রমণের রাশ টেনে ধরতে পারে উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়া। উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়া নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের রাশ টেনে ধরতে পারে। একটি গবেষণাপত্রে নাকি বলা হয়েছে, এশিয়ার যে দেশগুলোয় বর্ষা মৌসুম রয়েছে, সে দেশগুলোয় এই ভাইরাস হয়তো কিছুটা কম ছড়াতে পারে। নানাকথা উড়ছে। তবে কোনও কোনও গবেষক বলেছেন, এসবকথার যুক্তি নেই।

ছুটি আর ভালো লাগছে না এ কথা অনেকেই বলতে পারেন কিন্তু উপায় কী। আপাতত সামনে কোনো উপায় নেই। করোনাভাইরাস শরীরে গোপনীয়ভাবে থাকে ১৪ দিন। শুরুতে এর উপস্থিতি কেউ বুঝতে পারে না। অথচ কেউ যদি এর মধ্যে সংক্রমিত হয় এবং সে যদি আলাদা না থাকে তবে বাকিদের মাঝেও এ রোগ ছড়াতে থাকবে। এ বিষয়টা অনেকেই এখনও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছেন না বা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। নির্দিষ্ট সময়ে রোগ হিসেবে এর প্রকাশ ঘটে। সরকারের ছুটি পেয়ে আমরা গণপরিবহনে, হাটে, মাঠে, ঘাটে সর্বত্র ছুটেছি। নিজের অজ্ঞাতে একে অপরের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছি। এ কারণেই কেউ কেউ বলেন, ১৪ দিনের ভিতরই এর প্রকোপ দেখা যায়। যাতে কোনোভাবে এটি আমাদের জন্য বিপদ না হতে পারে সে লক্ষেই আমাদের সবার নিজ নিজ পদক্ষেপ নিতে হবে। করোনাভাইরাসকে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ আমরা দিতে পারি না। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসে টানা ১০ দিনের ছুটি চলছে। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ছুটির মেয়াদ আরও কিছুদিন বাড়ানো হবে কিনা তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই জানেন। আমরা জানি, ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নাকি ৪৯ জন রোগী শনাক্ত। সশস্ত্র বাহিনী মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ২৪ মার্চ থেকে সশস্ত্র বাহিনী নেমেছে। মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বিরামহীন কাজ করছেন।

তিনি নিজেই মনিটর করছেন। দেশের সার্বিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন। করোনায় কর্মহীনদের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ বিতরণে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ এটি। আমার বাড়তি বক্তব্য হলো, এক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের এ কাজে সম্পৃক্ত করার কথা বিবেচনায় নেওয়া উচিৎ। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষকরা খুবই ভালো জানবেন কোন অভিভাবকটি অসচ্ছল আর কোন পরিবারটি সচ্ছল, কে ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য কে নয়। এটা জরুরি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়, সারাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে শহর ও গ্রামে কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন অবস্থায় আছে। যেসকল কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সমস্যায় আছেন প্রধানমন্ত্রী সেই সকল কর্মহীন লোক ( যেমন- ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার) যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে সংসার চালায় তাদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। চিঠিতে আরও বলা হয়, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক, কৃষি শ্যমিকসহ উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা দিতে হবে। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে বিত্তশালী ব্যক্তি, সংগঠন, এনজিও কোনও খাদ্য সহায়তা দিলে জেলা প্রশাসকরা প্রস্তুতকৃত তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করবেন, যাতে দ্বৈততা পরিহার করা যায় এবং কোন কর্মহীন মানুষ যেন বাদ না পড়ে। সামগ্রিকভাবে সমন্বিত কার্যক্রম এ মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আমি মনে করি, তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামশহরে প্রাথমিক সরকারি শিক্ষকদের কাজে লাগান খুবই দরকার; এ মুহূর্তে থেকে। করোনাআক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকা ঘোষণা করা হচ্ছে। আমাদের জন্য যা স্বস্তিদায়ক। যেখানে সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। সেখানে সেই তুলনায় আমরা এখনো ভাল আছি। কিন্তু করোনা নিয়ে গুজব রটানো হচ্ছে। গুজবরটনাকারীদের কঠোর সাজা দরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক একটা কথা বলেছেন সম্ভবত মনের দুঃখে। তাহলে কী করোনায় আরও বেশি আক্রান্ত চাই? আরও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ুক চাই? আমরা বলব, না, কখনও না।সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো আরও বাড়ানো ও কঠোর হওয়া চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রম সমন্বয় করতে আজ ৬৪টি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন। গণভবনে সকাল ১০টায় এই ভিডিও কনফারেন্স শুরু হবে এবং ৬৪টি জেলার কর্মকর্তারা এই ভিডিও কনফারেন্সের সঙ্গে সংযুক্ত হবেন।
লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত