প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা আর জ্বর মানেই যে করোনা নয়, তা যেন না ভুলি

রিফাত হাসান : সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা আর জ্বর মানেই যে করোনা নয়, তা যেন না ভুলি। অন্তত যারা সতর্ক চলাফেরা করেন, করোনার দিনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও আইসোলেশনের কালচার মেইনটেইন করছেন, তাদের জন্য। কয়েকদিন আগে একজন মধ্যরাতে আমাকে ইনবক্সে নক করলেন, তার করোনার লক্ষণ দেখা দিয়েছে, কিন্তু কেউ ফোন ধরছে না, কী করবে বুঝতে পারছেন না। আমি হেলথ প্রফেশনাল নই, একজন সচেতন নাগরিক আর সামান্য লেখালেখি করি। কিন্তু মনে হলো তার সঙ্গে কথা বলতে পারি ও ভরসা দিতে পারি, আমার জ্ঞান অনুযায়ী। ব্যক্তিগতভাবে আমি সৌভাগ্যবান, যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ডাক্তার বন্ধুবান্ধব ও ছোট ভাইকে নক করলেই পরামর্শ পেতে পারি, কিন্তু এই ছেলের তেমন সুবিধা নেই বলেই আমারে নক করলো। মধ্যরাতেই তারে কল দিতে বললাম। ছেলেটি অল্প বয়সী, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, একটি মেসে থাকে, আলাদা রুমে, আলাপে জানলাম। তাদের মেসে এই মুহূর্তে কেউ নেই সে আর অন্য একজন ছাড়া। গলাব্যথা, কাশি আর জ্বর। সে বাড়িতে চলে যাবে কিনা এটাও চিন্তা করছিলো। তার বিবরণ শুনে আমি অভয় দিলাম, আপনার করোনার সম্ভাবনা কম। গলাব্যথা, জ্বর এই সময়ের সাধারণ সিন্ড্রোম। আমার যে একমাস ধরে এ সব ছিলো তারে জানালাম। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওযা নিরাপদ, জানালাম। ভিটামিস ‘সি’ আর ইমিউন তৈরি করে এমন খাবার আর হালকা ব্যায়াম করতে বললাম। বাড়িতে যাওয়া উচিত হবে না, কারণ গণপরিবহন ছাড়া উপায় নেই, আর গণপরিবহন এই মুহূর্তে তার জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারে, যেহেতু দুর্বল শরীর। তবে আইসোলেশনের কালচার মেনে চলতে পরামর্শ দিলাম। ফেসবুকে পাওয়া কিছু ইমারজেন্সি পরামর্শ দিতে রাজি ডাক্তারের নম্বর দিলাম।
আমার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ সর্দি-কাশি আর শ্বাসকষ্টের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ছিলো, তাই এই অভয়। এরপর থেকে সকাল-বিকাল তার খোঁজ নিতাম। তৃতীয় দিন তার জ্বর কমলো। পরের দিন গলাব্যথাও কমলো। এই ইতিহাস এ জন্যই বললাম, আজকে একটা খবর দেখলাম, এক রাবি ছাত্রের সর্দি, কাশি, জ্বর আর তার চিকিৎসা ঘরে বসে করছে বলে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলো, আর পুলিশ এসে তাকে মেডিকেলে ভর্তি করালো আর পরিবারকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার আদেশ দিলো। এই যে গণহিস্ট্রিয়া, এ ব্যাপারে ভাবা দরকার। আপনাকে বাঁচতে হবে, সেজন্য গণহিস্ট্রিয়া, এটা নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। অন্যের প্রতি এমপেথি কোথায় আমাদের? আমার মতে, সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বরে হাসপাতালের চেয়ে ঘর নিরাপদ, যদি ঘরের লোকজন করোনা কালচার মেইনটেইন করে চলতে সক্ষম হন। আর যদি করোনাই হয়, তার জন্য তো কোনো রিমেডি নেই, আপনার নিজের ইমিউন সিস্টেম আর আল্লাহর রহমত ছাড়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত