শিরোনাম
◈ এনসিপির ‘সুপার সিক্সটিন’ কী, কারা আছেন এই তালিকায় ◈ সৌদি আরবে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের ◈ দেশে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এবার পুলিশের বিশেষ ইউনিট ◈ শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া সেই রুমির বার্তা, ‘আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না’ ◈ অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান, নতুন করে উত্তেজনা ◈ আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে , জানা গেল কারণ ◈ ব্যাংকে আমানতের সুদ কমছে, সঞ্চয়ের টাকা কোথায় রাখলে নিরাপদ ও বেশি লাভ? ◈ সৌদি আরবে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা যাচাই করছে সরকার ◈ সাজেকে অবরোধ-সহিংসতায় পর্যটন ব্যবসায় ধসের শঙ্কা, পর্যটকশূন্য ভ্যালিতে ৭৬ কোটি টাকার ব্যবসা নিয়ে শঙ্কা! ◈ মাতারবাড়ীতে কয়লার ছাই ফেলার জমিতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ, অর্থায়ন করবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২০, ১০:১১ দুপুর
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২০, ১০:১১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ৩৫ টাকার মুরগির বাচ্চা এখন ১ টাকাতেও নিচ্ছে না কেউ

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] বিক্রি হচ্ছে না হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলছে হ্যাচারি প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনাভাইরাসের কারণে গোটা দেশে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে পোল্ট্রি শিল্পেও। মুরগি, বাচ্চা, ডিম কোনও কিছুই বেচা-কেনা যাচ্ছে না। আর তাই মাথায় হাত পড়েছে এ শিল্পের ব্যবসায়ীদের।ফেসবুক, জাগোনিউজ, প্রিয়ডটকম

[৩] গাজীপুর জেলার টঙ্গী কুদাবো এলাকার পোল্ট্রি খামারি সেলিনা পারভীন ১০ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে কয়েকদিন আগে তার ডিম পাড়া আড়াই হাজার মুরগি বিক্রি করেছেন। ডিমের দাম ক্রমান্বয়ে কমতে থাকা এবং খাবারের দাম বাড়তে থাকায় তিনি মুরগিগুলো বেচে দেন। পরিস্থিতি দেখে তিনি এ ব্যবসা চালিয়ে যাবেন কি-না, সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

[৪] সেলিনা বলেন, খামার খালি দেখে হ্যাচারি মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতি পিস মুরগির বাচ্চার দাম ১ টাকা করে বিক্রির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। তারা ৫ হাজার বাচ্চা নেয়ার প্রস্তাব করেছে। আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে কতোদিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বলা যাচ্ছে না। এমনিতেই ১০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আর লোকসানের ভার বাড়াতে চাই না।

[৫] সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর অঞ্চলের আফিল হ্যাচারি ও কাজী হ্যাচারিসহ ছোট-বড় ৫টি হ্যাচারিতে প্রতিদিন ৪ লাখ বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিটি বাচ্চা উৎপাদনে হ্যাচারি মালিকদের খরচ হয় ৩২ টাকা। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে পোলট্রি মুরগির ব্যবসায় এক প্রকার ধস নেমেছে। হ্যাচারি থেকে খামারিরা বাচ্চা কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।

[৬] সূত্র জানায়, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করায় তা তাৎক্ষণিক বন্ধ করা যাচ্ছে না। এজন্য প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলতে হচ্ছে। গুজবে পোলট্রি মুরগির মাংস বিক্রিতেও ধস নেমেছে। এতে কোটি কোটি টাকার লোকসানের শিকার হ্যাচারি মালিকরা।

[৭] যশোরে সবচেয়ে বেশি বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আফিল অ্যাগ্রো লিমিটেড প্রতিদিন ১ লাখের বেশি বাচ্চা উৎপাদন করে। এ ফার্মের টেকনিক্যাল ম্যানেজার তোফায়েল আহমেদ জানান, ডিম পাড়ানোর ৪ মাস আগে একটি মুরগি প্রস্তুত করা হয়। এ মুরগি টানা দেড় বছর ডিম দেয়। প্রতিদিন বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ২১ দিনের ডিম ইনকিউবেটর মেশিনে চাপাতে হয়। একদিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি করা হয়। বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ করতে হলে কমপক্ষে ২১ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আবার উৎপাদন প্রক্রিয়া একবার বন্ধ করলে পুনরায় চালু করা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে হ্যাচারি একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রতিষ্ঠান শত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়বে।

[৮] পোলট্রি শিল্পের সবচেয়ে বড় বিপণন প্রতিষ্ঠান তামিম মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) খন্দকার ইদ্রিস হাসান জানান, একদিন বয়সী প্রতিটি বাচ্চা উৎপাদন খরচ ৩২ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ টাকারও কম দরে। তাও আবার ক্রেতা খুঁজে আনতে হচ্ছে। শুধু বাচ্চা নয়, লেয়ার মুরগির ডিম ও পোলট্রি ফিডেও করোনার প্রভাব পড়েছে।

[৯] তামিম মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের উপ-ব্যবস্থাপক (ব্রয়লার) আব্দুল মুকিত জানান, যশোর অঞ্চলের ১ হাজার খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে শুধু আফিল ফার্ম থেকে উৎপাদন হয় দিনে ২৫ হাজার কেজি। এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে খরচ হয় ১১০ টাকা। বর্তমানে বাজার পড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারও পড়তির দিকে। এ অঞ্চলে প্রতিদিন ৫ লাখ ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে আফিল ফার্ম উৎপাদন করে ৪ লাখ। প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ সাড়ে ৭ টাকা। অথচ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬ টাকা। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

  • সর্বশেষ