প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনার প্রতিরোধ বিষয়ক প্রচারণা নেই গ্রাম অঞ্চলে

এইচএম দিদার(দাউদকান্দি, কুমিল্লা): [২] গ্রাম ও গ্রামীণ পথ আমাদের শেঁকড়, আমাদের ঐতিহ্য। শহরে থিতু হয়ে আজ অনেক প্রতিষ্ঠিত, আমলা-কামলা, জজ ব্যারিস্টার ও এমপি-মন্ত্রী।তারা অনেকেই গ্রামীণ জীবনের শীতল পরশ আর শৈশব ডিঙিয়ে গেছেন।হয়তো তারা অনেকই ভুলে গেছেন সেই গ্রামের আঁকা-বাকা জীবনের কথা।পুরানো সেই বটবৃক্ষের শেঁকড়ের কথা,শেঁকড়ের টান,নাড়ীর টানের কথা আবার অনেকেই ভুলতে পারেন না। অনেকেই জীবনের টাইম লাইনের স্মৃতির টানের কথা অবকাশ পেলেই মনের গহীনে জিইয়ে রাখা স্মৃতির পৃষ্ঠা উল্টে দেখতে গিয়ে ভাবনায় নস্টালজিক হোন সেই ফেলে আসা স্মৃতিতে। কোভিড-১৯ ভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব।বৈশ্বিক মহামারি এ ভাইরাসের সংক্রমণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিশ্বে মৃতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
[৩] যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো বিশ্ব। এক দেশ থেকে আরেক দেশ, এক শহর থেকে আরেক শহর লকডাউনে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে। উঁড়াল পথ,নৌ পথ,স্থলপথ বন্ধ ঘোষণা করে কোনো কোনো দেশে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।কী যেনো এক স্তব্ধতা আর শুনশান নিরব আঁধার গ্রাস করলো গোটা বিশ্বকে।চীনের উহান শহরে উদ্ভব কোভিড-১৯ ভাইরাস।এ ভাইরাসের সংক্রমণে চিনে প্রাণহানি হয়েছে ৮ হাজার মানুষের। তবে চীনের নামি-দামি চিকিৎসকদের দীর্ঘ ৩ মাসের নিরলস প্রাণপণ প্রচেষ্টায় সফলতার কাছাকাছি, আপাদত চীন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে। চীনের দুঃসাহসিক চিকিৎসকরা কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণের আঁধার ও নিরবতা ভেঙে দিতে পেরেছে বলেই জনজীবনে আবার ফিরে এসেছে কোলাহল।ইতোমধ্যে সফলভাবে চীন এ মহামারির ধকল কাটিয়ে ওঠায় চিকিৎসকদের প্রসংশিত করে মন্তব্য করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কর্তা।আক্রান্ত দেশসমূহকে চীনেকে মডেল অনুকরণ হিসেবে মেনে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। তবে বিশেষত, চীন এ গভীর সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য প্রধান যে পদক্ষেপটি নিয়েছিলো। সেটা হলো তারা আক্রান্ত উহান শহরটিকে “লকডাউন” করে গোটা চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করে তারপর দৃঢ়তার সাথে প্রাণঘাতি করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসকরা দিন-রাতে সেবা দিয়ে সফল হয়। তাদের সচেতনতা ও শতর্কতাই ছিলো চিকিৎসার মূল অস্ত্র। সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্য ৩ লাখ ৭২ হাজার,মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্য ৩৩ জন।মৃত্যুর সংখ্যা ৩ জন। নিশ্চিত অনুমান করা যাচ্ছে, আমরা নিজেরা যদি শতর্ক ও সচেতন না হই তাহলে কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের ছোবলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলবে।তখন আমাদের দেশে ভয়ার্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যাবে মহুর্তেই ।তখন সেই সংকটাবস্থা কাটিয়ে ওঠা ও শামাল দেয়া আমাদের জন্য অনেক কঠিন হবে।
[৩] শহরের অলি-গলিতে, হাট-বাজারে করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা করছেন রাজনীবিদরা, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন আর্তমানবতাবাদী সংস্থা। কেউ কেউ আবার পথচারী, এতিম, অসহায় দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ডওয়াশ বিতরন করছেন।
তবে এর উল্টো চিত্র গ্রাম এলাকায়,করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে কী কী করতে হবে তা জানা নেই গ্রামের মানুষের।জানা নেই এ ভাইরাসের উপসর্গ কী কী। এ ভাইরাসের সংক্রমণে যদি গ্রামের মানুষ আক্রান্ত হয় তবে এ দেশ হবে মৃত্যুপুরীর দেশ। তাই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে শহর-নগরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষদেরও সচেতনতামূলক বিষয়ে শতর্ক করতে হবে। আর এই শতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও তরুণ শিক্ষার্থীরা মূখ্য ভূমিকা নিতে হবে।
দাউদকান্দি -মেঘনা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ঘুরে দেখা যায় ,মানুষ কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত।কেউ ফসলর জমিতে,কেউ রুটি-রুজির সন্ধানে ব্যস্ত।আবার কেউ চা দোকানে বসে চা পান করে সিগারেট ফুঁকছে। আবার কিছু লোক একত্রে গাদাগাদি করে গদগদবচন করছে। করোনা ভাইরাস কী এ বিষয়ে জানতে কথা হয় মেঘনা উপেজলার লুটেরচর ইউনিয়নের পুরানবাটেরা গ্রামের লালন নামের এক দিনমুজুরের সাথে তিনি বলেন,” হুনতাছি করুনা আইছে, বহুত মাইনসে মইরা গেছে।তয় বাজি(বাবা) মউত আইলে মরতে অইব।আমরা গরীব মানুষ কামকাজ কইরা পেট চালাইত অইব।”
দাউদকান্দি উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের গোলাপের চরের ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল কাদির বলেন, ” গ্রামের মানুষ বিভিন্ন টেলিভিশনের সংবাদ শুনে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানতে পেরছে কিন্তু এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কী কী শতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এমন সচেতনতা নাই। ” দাউদকান্দি পৌরসভার সমাজকর্মী ও সাংবাদিক তৌফিকুল ইসলাম রুবেল বলেন,”গ্রামের মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার বিষয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক প্রচারনা করা অত্যন্ত জরুরি ,তবে এ মহুর্তে উপজেলার মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীরা ও সমাজের শিক্ষিত তরুণরা উদ্যোগী হয়ে জনসচেতনামূলক প্রচারণা করার জন্য দায়িত্বশীল মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, কভিড-১৯ মহামারি ভাইরাস প্রতিরোধে প্রচারহীনতার অভাব গ্রাম অঞ্চলে যদি চলমান থাকে তবে মারাত্মক ঝুঁকিতে পরবে ৮৭ হাজার গ্রাম। তাই যতো দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত