প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান এবং ঢাকায় যথাযথ কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করুন

 

পলাশ রহমান: প্রবাসীদের কোনো ঠিকানা নেই। প্রবাসীরা জিপসি। দেশে গেলে হয় প্রবাসী, বিদেশে এলে অভিবাসী। আসলে প্রবাসীদের কোনো ঠিকানা নেই। বন্ধন নেই। প্রবাসীরা হলো টাকার কল। টিপ দিলে টাকা পড়বে, এর বাইরে প্রবাসীদের কোনো কাজ নেই, ব্যবহার নেই। আলাদা করে ভাবার কিছু নেই। ঢাকার হাজি ক্যাম্পে যে জঘন্য ঘটনা ঘটেছে তা না ঘটালেও চলতো। কুড়ি-বাইশ ঘণ্টা জার্নি করে প্রবাসীরা দেশে গেছে। তারা সবাই ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত। পরীক্ষার জন্য বা কোয়ারেন্টাইন করার জন্য হাজি ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে খুব ভালো কথা, সেখানে তাদের জন্য ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়নি কেন? খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি কেন? চারপাশে ময়লা-আবর্জনা থকথক করছিলো কেন? এমনকি বসার জায়গা পর্যন্ত ছিলো না, কেন? কোনো প্রবাসী তো বলেনি কোয়ারেন্টাইন করবে না। তাদের সঙ্গে যে অমানবিক পশুর মতো আচরণ করা হয়েছে তারা সেটুকুর প্রতিবাদ করেছে মাত্র।

এতেই তোমাদের সহ্য হচ্ছে না? ফেসবুক ভরে ফেলেছো প্রবাসীদের গালমন্দ করে। সত্যিই তোমরা পারোও। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবাসীদের যারা গালমন্দ করেছে তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রবাসীদের দারা সুবিধা ভোগী। সো গলা উঁচু করার আগে একবার ভেবে দেখা দরকার ছিলো। বাংলাদেশে একমাত্র প্রবাসীরাই উঁচু গলায় কথা বলতে পারে। প্রবাসীদের জন্য সরকারের কোনো ইনভেস্ট নেই, কোনো খরচ নেই, সহযোগিতা নেই। বরং প্রতি পদে পদে নির্যাতন, হয়রানি করা হয়। এয়ারপোর্টে নির্যাতন করা হয়। পাসপোর্ট অফিসে নির্যাতন করা হয়। দূতাবাসে নির্যাতন করা হয়। সামান্য সার্টিফিকেট প্রদান বা পাসপোর্ট নবায়নের জন্য গাদাগাদা অর্থ নেওয়া হয়।

খারাপ ব্যবহার করা হয়। এর পরও প্রবাসীরা টুঁ-শব্দ করে না। কলুর বলদের মতো টাকার যোগান দিয়ে যায়। একমাত্র প্রবাসীরাই গলা তুলে বলতে পারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার রিকশাওয়ালা, নাপিতরা (কোনো পেশাকে ছোট করা উদ্দেশ্য নয়) পর্যন্ত প্রবাসীদের কাছ থেকে সরাসরি সুবিধা ভোগ করে, করেছে। এই মুহূর্তে যে প্রবাসীরা দেশে গেছেন, যাচ্ছেন তারা প্রায় সবাই বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন। মাসের শেষে তারা যখন মোটা অঙ্কের টাকা দেশে পাঠিয়েছেন তখন কিন্তু কেউ জানতে চায়নি, সে খেয়েছে কিনা? তার কিছু লাগবে কিনা? নিজের খরচ রেখেছে কিনা? ঢাকায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় কোয়ারেন্টাইন করা যেতো। হয়তো বাড়তি কিছু টাকা খরচ হতো, কিন্তু তাতে খুব বেশি ক্ষতি হতো না। তাদের মানসিকভাবে, সামাজিকভাবে, পারিবারিকভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অপদস্ত করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি, হচ্ছে না। মানুষ হন, মানবিক হন। দেশটা তো ভরে ফেলেছেন দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা দিয়ে। দেশে করোনা প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ান। প্রয়োজনে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান এবং ঢাকায় যথাযথভাবে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত