প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনার কালে কী করা? কী করছি? চিকিৎসককে নিয়ে ভাবনা, পড়ুন একটু

ডা. ইকবাল আনোয়ার : এবার ধুমধুমাইয়া লবণ গুজবের পদাঙ্ক অনুসারে সবাই কিনতে লেগে গেছে। বলা হচ্ছে আতঙ্কের কিছু নেই কেবল সতর্কতা প্রয়োজন, অন্যদিকে টেলিভিশনে সারাসময় ধরে কেবল মৃত্যু, ফ্লাইট বাতিল, সতর্কতা, জরিপ ও ব্যবস্থা গ্রহণের নানা খবর, টকশো সব চ্যানেলে, বেশ কাব্যিক নাম, ‘করোনায় করোÑ করোনা’’, ‘করোনায় করণীয়’। থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহারের দৃশ্য, নষ্ট হওয়ার খবর। থার্মাল স্ক্যানারে তো জ্বর থাকলে ধরা পড়ে। ধরি যদি তিনি ভাইরাস দেহে প্রবেশের পর উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার মাঝখানে আছেন, দেশে প্রবেশের পর উপসর্গ দেখাবেন, হাঁচি দেবেন। আবার জ্বর আছে, কিন্তু প্যারাসিটামল খেয়ে তা কমিয়ে রেখেছেন, তাকে ধরা এ মেশিনের পক্ষে সম্ভব নয়। অতএব, মানুষ কারও কথা না শোনে নিজের ভেতরে জাগনা দেওয়ার মতো প্রস্তুত হচ্ছে হরদম। মাস্ক হরেক পদ, বেশিই আকামা আর নকল। এ সুযোগে আবার নকল কারখানাও খোলা হয়ে গেছে, দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, ধরাও পড়ছে। বলা হচ্ছে যদিও সাবানই উত্তম, তবু তরল সাবান, অ্যালকোহলের তরল হেক্সিসল, ডেটল, স্যাভলন ড্রামে ড্রামে, টিস্যু-টয়লেট কেনা হলে পর গেছে তারা বাজারে নেমে। যদি বাসায় কোয়ারেইন্টাইন করতে হয়, তখন? এ যেন কার্ফিউ ভাঙার মতো। বড় সাবধানী জাতি। সাবধানের মার নেই। চাল, ডাল, নুডুলস, পাস্তা সব কিছু, পারলে বাজারটারে কিনে ঘরে নিয়ে আসে। তবে রাস্তায় ময়লা ফেলতে, থুথু ফেলতে, খোলা মুখে হ্যাঁচ করে হাঁচি দিতে খক করে কেশে দিতে জুড়ি নেই তাদের।
এবার ডাক্তারের খবর নেই : সবচেয়ে বিপদে আছে তো ডাক্তার, তার সঙ্গে সব সেবা কর্মী। তারা যাবে রোগীর যতো কাছে আর কারও ততো কাছে যাওয়ার বিপদ নেই। তারা রোগীর শ্লেষ্মার সঙ্গে মিশে যাবে কখনোÑ নাকে নল, সাকশন, প্রেসার মাপা, থার্মোমিটার দেওয়া সব কিছু, শোনলেও ডর লাগে। আর আইসোলেশনে তাদের কাজ তো আরও ভয়ানক। এর আগে ডেঙ্গু চিকিৎসায় কতো ডাক্তার জীবন দিলো, অন্য সব মানুষের সঙ্গে, একক পেশা হিসেবে তারাই প্রথম। তারা কে? কিবা পরিচয়? তাদের সন্তানেরা এখন কেমন। কোনো তালিকাটালিকা আছে কিনা। বাদ দাও স্বীকৃতির। বাদ দাও ইনসেনটিভ, ক্ষতিপূরণ। চিকিৎসকরাই মনে রেখেছে কিনা তাদের ভাইকে, দিয়েছে কিনা কোনো স্বাকৃতি। তাহলে অন্যের কথা কী বলি আর। আবার এলো তাদের বিপদের কাল। বোধহয় ডাক্তারেরাও বেখবর তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে। নতুবা তারা কী জানে আছে কিনা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পোশাকÑ বিশেষ মাস্ক, গগলস, গ্লাবস, গাউন। সব জেলা হাসপাতালে রক্ষিত বেডের খবর জানি, জানি না এ সবের খবর। আছে কি মজুদ? আনা হয়েছে কী। ডাক্তার নন তিনি, লেখক, গবেষক, সমাজকর্মী একজন, সাদা চাদর পরেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সম্প্রতি এনটিভির চ্যানেলে জানতে চান চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়, জানতে চান এ সব প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্টের খবর। আমিও ভাবছি ক’দিন ধরে। কষ্ট পাই, আমি না হয় হাসপাতাল সেবা দিতে যাবো না (যাবো প্রয়োজনে ডাক পড়লে), রিটায়ার্ড, আমাদের সন্তানেরা যারা ডাক্তার, তাদের তো যেতে হবে। তারা মানুষের সেবায় জীবনদানে কুণ্ঠিত হলে তো হবে না। তারা যুদ্ধের ময়দানে সৈনিক। মা যেমন যুদ্ধদিনে তার সন্তানকে বলেছিলেন, যাও বাবা, দেশের জন্য প্রাণ দিতে, বেঁচে থাকলে এসো, পতাকা নিয়ে। এভাবেই স্বাধীনতা পাই, আজও এভাবেই বলতে হবে দুর্যোগকালে।
তারা অরক্ষিত হয়ে সেবা দিয়ে ঘরে এলে ঘরের মানুষগুলোর কী হবে। ডেঙ্গুর সময় আমার সন্তান একদম কেন্দ্রে ঘন রোগীর অবস্থানে সেবা দিয়ে ঘরে এলে কেবল ভাবতাম নাতিটির কথা। সৈয়দ আবুল মকসুদের মতো জানতে চাই, ধন্যবাদ তাকে, তিনি চিকিৎসকদের কথা ভেবেছেন, এটাকে চিকিৎসকের জন্য ভাবনা বললে ভুল হবে, সবার জন্য এ ভাবনা, কেননা সৈন্য অরক্ষিত থাকলে যুদ্ধ জয় হবে কী করে? এ সব সাজ পোশাক প্রয়োজনমতো আছে তো মজুদ? দেখি তো অন্য দেশে রাস্তাতেও কর্মী কাজ করছেন এ চাঁদের পোশাকে। আমাদের এখানে যদিও দেখিনি এখনো। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত