প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশটা একটা ডোবাখানায় পরিণত হয়েছে!

 

কামরুল হাসান মামুন : সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন প্লেটো। প্লেটোর ছাত্র ছিলেন অ্যারিস্টটল। অ্যারিস্টটলের ছাত্র ছিলেন আলেক্সজান্ডার। এই পরম্পরার মাধ্যমেই গ্রিক ফিলোসফি তথা গ্রিক সভ্যতার বিস্তার। ধরা হয় সক্রেটিসই ছিলেন পশ্চিমা দর্শনের জনক। এর মাধ্যমে সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠে। কিন্তু বাংলাদেশকে যারা গত ৩০-৪০ বছর যাবৎ চালিয়েছেন বা চালাচ্ছেন তারা সম্ভবত এটি বোঝে না। অথবা অতি বুঝে অত্যন্ত সুন্দরভাবে শিক্ষকদের মান-মর্যাদা সমাজের তলানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যার ফলও দেখছি। আমরা সভ্য হওয়ার বদলে অসভ্য হচ্ছি। চারদিকে চোরামী, ডাকাতি আর লুটপাট চলছে দেদারছে। ব্যাংক হয়ে গেছে তাদের বন্ধু। সরকার উন্নয়নের নামে অবকাঠামো উন্নয়নে নজর দিয়েছে বেশি কারণ এটি সহজে চোখে পড়ে এবং এতে চুরিচামারি করা যায় বেশি। এই যে অত্যন্ত সুচারুভাবে শিক্ষা আর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে এটা কি কোনো বৃহৎ পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব? ধ্বংসের এই পরিকল্পনায় কোনো ভুল দেখি না। প্রথমেই ধ্বংস করা হয় প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্কুল, তারপর হাই স্কুল ও কলেজ, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়। ভাবা যায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার মতো শিক্ষক নেই কিন্তু ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ফেলা হয়েছে। বিদেশি শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা অথচ বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

দেশ যে পেছাচ্ছে তার নমুনা চোখ খুললেই নজরে আসে। একজন মন্ত্রী, তাও আবার পরিকল্পনামন্ত্রী, বলেন ‘কচুরিপানার পাতা খাওয়া যায় না কেন। গরু তো খায়। গরু খেতে পারলে মানুষ খেতে পারবে না কেন’? আবার এদিকে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন ‘আসলে শিক্ষায় আমরা কম খরচ করি না। শিক্ষা যদি শুধু মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দেখা হয় তাহলে হয়তোবা দেখা যেতে পারে কিছুটা আন্তর্জাতিক মানদ- থেকে কম। তবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা নয়। যেমন আমাদের স্বাস্থ্য শিক্ষা সেটা আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরে। আমাদের অনেক টেকনিক্যাল এডুকেশন আছে যেগুলো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আসলে শিক্ষাটা অনেক বড় সংজ্ঞা। সার্বিকভাবে যেটা বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দের যেই বিষয়টা সেটা কিন্তু আমাদের আছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক যদি বলেন সেটা আপনারা সমালোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে পারেন সেটা কিছুটা কম আছে।

শিক্ষার যেই সংজ্ঞাটা সেটা কিন্তু কেবল মন্ত্রণালয়ভিত্তিক নয়’। অর্থাৎ ভবিষ্যতে শিক্ষায় বরাদ্দ বর্তমানের মত ২% শতাংশের আশপাশেই থাকবে। ওদিকে আরেক হুজুর বলেন, ‘দাড়ি আজকের পৃথিবী বলছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান বলছে দাড়ির সঙ্গে নার্ভের সম্পর্ক। এ জন্য পৃথিবীর কোনো বড় সায়েন্টিস্ট দাড়ি কামাতেন না। কোনো বড় সায়েন্টিস্ট নয়। একদম যার নামই ুড়ঁ হধসব রঃ। দাড়িটা মানুষের পুরুষের পৌরুষ। চেহারা সুন্দর করে দেয়। একজন তথাকথিত ধার্মিক মানুষ ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে জনসমক্ষে এ রকম মিথ্যা কথা বলে বেড়ান আর সামনের মানুষজন বাহবা দিয়ে উৎসাহিত করেন। আরেক হুজুর শুনলাম বলছেন ‘একটি দোয়া পড়লেই নাকি করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব’।

আরেকটি নাটকের একটি অংশ দেখলাম ‘সৃষ্টি করতে আছে না নাই এই দুটি নাকি ৫০-৫০ পার্সেন্ট প্রোবাবিলিটির ব্যাপার। বিজ্ঞান নাকি তাই বলে। তাই বিশ্বাস করাটাই যুক্তিযুক্ত নয়? সবাই দেখি বিজ্ঞান দিয়েই বিজ্ঞানকে কুপোকাত করে ধর্মকে জিতিয়ে দিচ্ছে আর সেই খুশিতে গদগদ। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক আছেন তাদের নানা কথা ও লেখা পড়লেও এই তালের যুক্তি দেখতে পাই। একটি গানের দুটো লাইন দিয়ে লেখাটি শেষ করছি : ‘থাকিলে ডোবাখানা, হবে কচুরিপানা’। দেশটা আসলেই একটা ডোবাখানায় পরিণত হয়েছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত