প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কিশোর কুমার দাশ, বিদ্যানন্দ আশ্রম এবং সামাজিক মিডিয়ায় আত্মপ্রচার

 

অজয় দাশগুপ্ত : সামাজিক মিডিয়া কী শুধু নিজের প্রচারের জন্য? এই জগতে এমন কিছু কাহিনি থাকে যা আমাদের জানা উচিত। যার প্রচার প্রসারে নিজের ও সমাজের কল্যাণ হয়। আমি কিশোর কুমার দাশ নামের এই ভদ্রলোককে জানি না। তিনি এখন পেরুর দেশের রাজধানী লিমায় ভালো চাকরি করেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ কিন্তু বড় হয়েছেন চাটগাঁর কালুরঘাটে। তার জবানবন্দিতে তিনি ছেলেবেলা থেকে মেজবানের নামে যেমন খাবারের অপচয় দেখেছেন তেমনি পূজা উৎসবের নামে খাবার বিতরণে দরিদ্র মানুষের হাহাকার ও আহাজারী তাকে ব্যথিত করেছে। নিজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর তিনি কী করেছেন জানেন? ঢাকায় ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের জন্য আহারের ব্যবস্থা করেছেন। শুরুতে বিনামূল্যে হলেও এখন তার বিনিময়মূল্য এক টাকা। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তারা। কেউ যেন নিজেকে ভিখারি মনে না করে তাই এই ব্যবস্থা। যাদের বয়স বারো পর্যন্ত কিংবা যারা ষাট বা তার উপরে তারা পারবেন এক টাকায় এই খাবার কিনে খেতে এবং তা পৌঁছে দেয়া হয় স্কুলসহ নানা জায়গায়। প্রতিদিন ডাল, ভাত, সবজি, ডিম আর সপ্তাহে একদিন মাংসও থাকে মেন্যুতে। শুরু থেকে হাজার পেরিয়ে এখন লাখের উপর এর ভোক্তা। প্রতিদিন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মসহ নানা জায়গায় এই খাবার বিতরণে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে পাঠাও।

আপনি ছবিগুলো দেখুন। মন দিয়ে দেখুন। বাংলাদেশের খুব কম মানুষ আছেন যারা জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে খাবারের জন্য সংগ্রাম বা কষ্ট করেননি। মাত্রাভেদে আমরা সবাই এর শিকার। কিন্তু আমরা দু-একজন ফকির ভিখারিকে হয়তো খাওয়াই, কিন্তু বিদ্যানন্দের মতো কোনো প্রকল্প বা সাহায্যকারী সংস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। অথচ এ দেশে ঘুষ, টাকা লুট, ব্যাংক লোপাট কিংবা লোক দেখানো দাতাদের অভাব নেই। শতকোটি, হাজার কোটি চোরদের কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি। যে কারণে আগে দশ হাজার লোকের রান্না করতে পারা তারা এখন দু’ হাজারের বেশি মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন না। কেমন সমাজ আমাদের? পুরস্কার পদক স্বীকৃতি ভোটের বাক্স খালি থাকার পর ও সে জন্য কোটি কোটি টাকা বাজেট। অথচ এসব দিকে নজর নেই কারও। খবরে দেখলাম তারা বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করেছেন সম্প্রতি। এবার হয়তো কিছু হলেও হতে পারে। বয়সে কিনা জানি না, আজকাল এ সব ছবি ও খবরে চোখের জল বাঁধ মানে না। শুধু মনে হয় আমার জনম গেলো বৃথা কাজে/আমি কাটানু দিন ঘরের মাঝে। স্যালুট বিদ্যানন্দ আশ্রম ও সংশ্লিষ্টজনদের। আপনরাই বাংলাদেশ। আপনারাই আমাদের ভালোবাসার বাতিঘর। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত