প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে আনসার আল ইসলামের ৪ সদস্য আটক

সুজন কৈরী: রাজধানীর কল্যানপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনটির ওই চার জনকে আটক করে র‌্যাব-৪। আটককৃতরা হলেন- মো. ওসমান ভ‚ইয়া ওরফে ওসমান (৩২), মো. তামিমুর রহমান ওরফে তামিম (২৬), মো. রমজান আলী চৌধুরী ওরফে রিপন (৩৩) ও মো. সোলেমান মিয়া ওরফে বাবুল (৩২)। তাদের কাছ থেকে সংগঠনের বিভিন্ন উগ্রবাদী বই, লিফলেট, ডিজিটাল কনটেন্টসহ মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, আটককৃতরা সংগঠনের নতুন সদস্য সংগ্রহ শাখার কর্মী। দেশের বিভিন্ন জেলায় দলের সদস্যদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে নতুন সদস্য সংগ্রহ করেন। কল্যাণপুরে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছিলো। অভিযানকালে সংগঠনের আরো বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। তবে তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠায় প্রতিহত বা বিরোধ সৃষ্টি কারীদের চ‚ড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা আটককৃতদের লক্ষ্য। তারা প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে কথিত ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা কারীদের ওপর তারা হঠাৎ আক্রমন করে কঠোর শাস্তি বা টার্গেট কিলিং করে থাকে। নিয়মিত তাদের সদস্যদের কাছ থেকে মেহেনতের মাধ্যমে ইয়ানত সংগ্রহ করে। তারা এন্ড্রয়েড মোবাইল বা ল্যাপটপের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রটেক্টিভ অ্যাপস্ ব্যবহার করে বিভিন্ন গোপন গ্রুপ তৈরি করে উগ্রবাদী সংবাদ, বই, ব্লগ ও উৎসাহ মূলক ভিডিও আপলোড ও শেয়ার করে নিয়মিত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছিলেন।

র‌্যাব জানায়, আটক ওসমান পেশায় ড্রাইভার। আনসার আল ইসলামের শীর্ষ স্থানীয় এক নেতা গ্রেপ্তার মুন্সিগঞ্জের সোহাগ হাওলাদারের সঙ্গে পরিচয়ের হয়। এরপর তাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাওয়াত দেয় এবং বিভিন্ন বই, লিফলেট ও ভিডিও সরবরাহ করে। সংগঠনের প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন প্রটেক্টিভ সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপস সম্পর্কে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়। একপর্যায়ে জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে অন্যতম এবং নরসিংদী এলাকায় সংগঠনের সমন্বয়ক। প্রায় ২ বছর ধরে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। পরে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতার সঙ্গে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ করছিলো। তার ব্যবহ্নত মোবাইল থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদি ডিজিটাল কন্টেন্ট পাওয়া গেছে।

আটক তামিম ব্যবসায়ী। ছাত্র জীবন থেকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম তাকে আকৃষ্ট করতো। ধীরে ধীরে তিনি সশস্ত্র জঙ্গীবাদে অংশগ্রহনে আগ্রহী হন। পরে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ স্থানীয় নেতা এবং নরসিংদীর পলাশ এলাকার প্রধান সমন্বয়ক ওসমানের সঙ্গে পরিচয় হয়। তার প্রস্তাবে সংগঠনে যুক্ত হওয়ার পর সংগঠনের সদস্য পদ গ্রহণ করেন। প্রায় ২ বছর ধরে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তিনি সংগঠনের জন্য বিভিন্ন ভিডিও, বইপত্র, মোবাইল অ্যাপস সংগ্রহ করতেন এবং সংগঠন পরিচালনা ও ব্যয় নির্বাহে প্রতি মাসে চাঁদা দিচ্ছিলেন। সংগছনের শীর্ষ নেতার সঙ্গে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ করেন।

আটক রমজান আলী একটি কারখানার চাকরিজীবী। ছাত্র জীবন থেকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম অনলাইনে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে আনসার আল ইসলামের সদস্য তামিমের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে সংগঠনে যোগ দেন। প্রায় দেড় বছর ধরে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

এছাড়া আটক সোলেমান মিয়াও ব্যবসায়ী। আনসার আল ইসলামের সদস্য তামিমের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে সংগঠনে যোগ দেয়। প্রায় এক বছর ধরে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত