প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উর্দুভাষীদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চান ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ডেইজি

সুজন কৈরী : নির্বাচিত হলে তার ওয়ার্ডে বসবাসকারী উর্দুভাষীদের জন্য আলাদাভাবে ভাবতে চান আলেয়া সারোয়ার ডেইজি। আটকে পড়া এসব পাকিস্তানিরা যেহেতু বাংলাদেশের নাগরিক, তাই তাদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার কথা জানান তিনি।

ডেইজি বলেন, ‘অবাঙালিরা আমাদের নাগরিক। তারা কতটুকু নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে, সেটিও আমাদের দেখতে হবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য করণীয় সকল কিছু করা হবে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে, অবাঙালিদের জন্য বাজেটের আবেদন করব।‘

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচারণায় নামে এই কাউন্সিলর প্রার্থী। ক্লিন ইমেজের কারণে কাউন্সিলর হওয়ার দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য বলা হচ্ছে তাকে। এবার তিনি লাটিম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটির প্যানেল মেয়র ও ৩১, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১২ এর কাউন্সিলর। এবার লড়ছেন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে। গত পাঁচ বছরে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড সহ উত্তর সিটির নানা উন্নয়নমূলক কাজে তার অংশগ্রহণ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় এই আওয়ামী লীগ এই প্রার্থী।

ক্যাসিনোকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, সন্ত্রাসী লালন, সিটি করপোরেশনের সভায় উপস্থিত না থাকা, পাঁচ বছর কাউন্সিলর থেকেও কোনো উন্নয়ন কাজ না করার কারণে জনপ্রিয়তা খুইয়েছেন ওয়ার্ডটির সমালোচিত কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টু। যদিও এবারও তিনি প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। কিন্তু কৃত কর্মের কারণে ভোটারটা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত নূরজাহান রোড, রাজীয়া সুলতানা রোড, শহীদ সলিমুল্লাহ রোড, টাউনহল, আসাদ এভিনিউ, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, জাকির হোসেন রোড, টাউনহল উর্দুভাষীদের ক্যাম্প সহ উল্লেখ যোগ্য এলাকা নিয়ে গঠিত ওয়ার্ডটির আয়তন ০ দশমিক ৬২৯ বর্গ কিলোমিটার। ছোট এই ওয়ার্ডে হোল্ডিং সংখ্যা ২ হাজার ৪৫০ টি।

উন্নয়নের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা এবং তা বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়ে ডেইজি বলেন, ‘ভোটারদের সমর্থন পেয়েছি। তারা উন্নয়ন চায়। দূর্নীতিমুক্ত ওয়ার্ড চায়। আমি নির্বাচিত হতে পারলে, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাল্লাহ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। তা সত্ত্বেও এখানে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর হিসেবে কাজের অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই চাইলেও আমি অনেক কিছু করতে পারিনি। জনগণ যদি আমাকে ভোট দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত করে তাহলে আমি তাদের সমস্যা সমাধানে অবশ্যই কাজ করব। সেটিই আমার দায়িত্ব।‘

তিনি আরও বলেন, ‘খেলার মাঠে মেলা বসত। আমি সেগুলোকে উচ্ছেদ করেছি। এখন শিশু কিশোররা মাঠে নির্বিঘ্নে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। কিছু মাঠে মাদকের আড্ডা বসে। আমি সেগুলোকে বন্ধ করব। এক্ষেত্রে মাঠে লাইটের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে। যানজট নিরসনে কাজ করতে হবে। দুই বাড়ির মাঝখানে যে পেসেজগুলো রয়েছে তা পরিষ্কার রাখতে শতভাগ কাজ করতে চাই। সারা বছর মশক নিধন কার্যক্রম বহাল থাকবে। কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, ওয়ার্ডে খেলার মাঠগুলো সংস্কার। সেখানে বসার জায়গা তৈরি করা, মাঠগুলোতে আলাদা হাঁটার জায়গা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি পার্ক নির্মাণের কাজ আমি এরইমধ্যে হাতে নিয়েছি। আশা করছি, দ্রত সময়ের মধ্যে সেটি বাস্তব করতে পারব।’

ওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরো ওয়ার্ডে সিটি টিভি ক্যামেরা লাগাতে চাই। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। চুরি-ছিনতাই বন্ধ হবে। প্রশাসনের সঙ্গে বসে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।‘

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত