প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরত এক হাজার চীনা নাগরিক রয়েছে সরকারি তদারকিতে

নুরুল আলম, মিরসরাই প্রতিনিধি : চীন থেকে সংক্রমিত করোনাভাইরাস রোগ চড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বেও বিভিন্ন দেশ যখন আতংতিক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শিল্পপার্কে বিভিন্ন কোম্পানীতে কর্মরত চীনা নাগরিকদের বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চীনা নাগরিকদের আপাতত নিজ দেশে যাবার বিষয়টি তদারকি করতে বলা হয়েছে। এছাড়া তাদের মধ্যে কেউ নিকটতম সময়ের মধ্যে চীনে গিয়েছিলেন কিনা, দেশে ফেরার পর তাদের মধ্যে জ্বর কিংবা অন্যান্য কোনো উপসর্গ দেখা দিয়েছে কি-না সে বিষয়ে হাসাপাতালগুলোতে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে
এছাড়া সার্বিকভাবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ব্যবস্থা না থাকলেও চট্টগ্রামের তিনটি হাসপাতালে পৃথক বিশেষায়িত ওয়ার্ড করা হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো ধরনের আতঙ্ক ছড়াক সেটা আমরা চাই না। তারপরও এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে বেজা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শিল্পপার্কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার চীনা নাগরিক কর্মরত রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে কোন চীনা নাগরিক অসুস্থ হয়ে ভর্তি হচ্ছে কি না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী, ফেনীর সোনাগাজী ও সীতাকুন্ড উপজেলা নিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে বড় বঙ্গবন্ধু শিল্পপার্ক গড়ে উঠছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিশ্বেও বিভিন্ন দেশের মধ্যে চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ইতমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাওয়ার দারপ্রান্তে রয়েছে।

সিনা হাউড্রো, ঝেজিয়াং, চায়না হারবার, জেনিয়ন ক্যামিকেল ইন্ড্রাষ্টিজ, সিআরসি সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার চীনা নাগরিক কর্মরত রয়েছে। তারা অর্থনৈতিক এলাকা ছাড়াও মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও চট্টগ্রাম শহওে বসবাস করছে।

বেজার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘আপাতত আমরা এখানে বসবাসরত চীনের নাগরিকদের তাদের দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মৌখিকভাবে নিরুৎসাহিত করার জন্য বলেছি। আপাতত কেউ যেন চীনে না যান। চীন থেকে আপাতত না আসতে বলা হয়েছে।

যদি চীন থেকে কেউ আসেন তাদের স্ক্যানিং করা হচ্ছে। তাদের অধিকাংশই ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দর দিয়ে দিয়ে যাওয়া-আসা করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে পৃথক তিনটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন। প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঁচটি করে শয্যা থাকবে। উপজেলায়ও হাসপাতালগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি মেডিকেল টিম রাখা হচ্ছে। তারা চীন বা আশপাশের দেশ থেকে আসা যাত্রীদের যদি সর্দি, হাঁচি বা কোনো অন্য লক্ষণ থাকে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে।

তবে গত ২০ জানুয়ারি থেকেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় বিষয়টি দেখভাল করছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পপার্কে কর্মরত চীনা নাগরিকেদর বিষয়টি আমার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। সম্পাদনা : জেরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত