শিরোনাম
◈ গাজীপুরের শ্রীপুর সাফারি পার্কে বিলুপ্তপ্রায় নীলগাইয়ের ঘরে একসঙ্গে ৪ শাবকের জন্ম, বেড়ে সংখ্যা ১৩ ◈ প্রবাসীর টাকায় পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি, সহকর্মীকে বিয়ের পর কারাগারে শিক্ষিকা-প্রেমিক ◈ দেশে আমদানি নির্ভরতা কমাতে ভোলা-চট্টগ্রাম-নরসিংদীতে ৩ নতুন সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ সরকারের ◈ ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কি সত্যিই সম্ভব, প্রত্যর্পণ ও ট্রাভেল পাস নিয়ে যত জটিলতা ◈ সিঙ্গাপুর হংকং লন্ডন নিউইয়র্কের বাজারে ১ বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম বন্ড ছাড়ছে বাংলাদেশ, দায়িত্বে জেপি মরগান চেজ ◈ নোংরা মোজায় লুকিয়ে জার্মানিতে পাচার হচ্ছিল ৩০০০ মাকড়সা, মূল্য ১৫ লাখ ইউরো ◈ মেসির রাজকীয় বিদায়, রোনালদোর প্রস্থান বিতর্কে— দুই কিংবদন্তির প্রাপ‌্য সম্মান নি‌য়ে প্রশ্ন ◈ কুমিল্লায় পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, ভুয়া সন্দেহে এএসআইসহ ৩ জনকে ক্যাম্পাসে নিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা ◈ তৃণমূলে কোন্দল, স্থানীয় সরকার নির্বাচ‌নে একক প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খা‌চ্ছে বিএনপি ◈ এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, বিশ্বরেকর্ড ব্রাজিলের ফুটবলে!

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী, ২০২০, ০৮:৫২ সকাল
আপডেট : ২৮ জানুয়ারী, ২০২০, ০৮:৫২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাজীপুর দিল্লি নয়, বেঁচে থাকা কিশোরীও ‘নির্ভয়া’ নন!

 

আরাফাত খান : কোন দেশে আছি আমরা? এটুকু বললেই সবাই বুঝে ফেলেন কোনো খারাপ খবর শুনতে হবে। আসেন একটা খারাপ খবরই শোনাই। গাজীপুরে বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৫ বছরের এক মেয়ে। এই ঘটনায় দোষী চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে এটুকু হয়তো অনেকেই জানেন। আরেকটু বর্ণনা দিই পানীয়ের সঙ্গে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে মেয়েটিকে পান করানো হয়, অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে চারজন মিলে ধর্ষণ করে। একজন সেই ঘটনা ভিডিও করে। এরপর আবার তারা ফেসবুক লাইভে এসে হাসিমুখে বলে, ‘ফ্রেন্ডস, কাল হয়তো আমরা জেলে থাকতে পারি’। মানুষ কতোটা বেপরোয়া হলে এভাবে জনসম্মুখে নিজের কুকীর্তি স্বীকার করতে পারে। নাকি অন্য ভাষায় বলবো, দেশের আইন-বিচার এতোটাই ঠুনকো হয়ে গেছে যে অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে অপরাধ স্বীকার করে নিচ্ছে? ঘটনার ১০ দিনের মাথায় চার আসামিকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। অভিনন্দন। তারা অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হবে। কিন্তু আরেকটা কথা কি জানেন গ্রেপ্তার চারজনের বয়স হচ্ছে ১৬, ১৮, ১৯, ২০। তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে হয়তো কিছুটা কড়া শাস্তি (এই দেশে ধর্ষণের শাস্তি কড়া?) পাবে, কিন্তু ১৬ বছরের দুধের শিশুটার কী হবে?

কিশোর সংশোধন কেন্দ্রের হাওয়া-বাতাস খেয়ে, কিছুদিন গল্পের বই পড়ে, কয়েক পর্ব গোপাল ভাঁড়ের কার্টুন দেখে বছর দুয়েক পরই বেরিয়ে আসবে। হয়তো সে ভালো হবে, হয়তো হবে না। কিন্তু যার সর্বনাশ করে হাওয়া খেতে গিয়েছিলো তার কী হবে? সেই মেয়েটি কী আর আগের মতো হাসতে পারবে, নিশ্চিন্তে আর কোনো বন্ধুর বাসায় যেতে পারবে? আমাদের ধর্মান্ধ অতি আবেগী হুজুগে সমাজ তার দিকে কী বাঁকা চোখে না থাকিয়ে থাকবে? এই ধাক্কা কাটিয়ে মেয়েটি বাঁচতে পারবে তো? দিল্লির নির্ভয়া ধর্ষণকা-ের কথা সবাই জানে। ঘটনার সাত বছর পর গত ডিসেম্বরে ওই মামলার চার আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই ঘটনা টেনে আনার কারণ ওই মামলার আসামি ছিলো মোট ছয়জন। একজন কারাগারে আত্মহত্যা করে, চারজনের তো ফাঁসির আদেশ হলোই। বাকি একজন হচ্ছে ‘কিছু না বোঝা ১৬ বছরের শিশু’। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর অপরাধীদের জন্য প্রযোজ্য আইনে ২০১৫ সালে এই শিশুকে ৩ বছরের জন্য সংশোধনাগারে পাঠান ভারতের আদালত। তখন আইন অনুযায়ী সেটাই ছিলো অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ সাজা। কিন্তু শাস্তির মেয়াদ কাটিয়ে সেই তরুণ মুক্তি পেলে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদেরও ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ বিবেচনা করে বিচারের আইন পাস হয়।

জানি, গাজীপুর দিল্লি নয়। আমরাও রেড ইন্ডিয়ান(?) না। আমরা সবাই চেতনাযোদ্ধা। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মেয়েটি এখনো বেঁচে আছে। সে বেঁচে থাকা মানে তো আর সেই-ই মাপের কোনো অপরাধ হয়নি, এতো লাফালাফির কী আছে? তারা আসবে লাইভে, আরও আসবে, বুক ফুলিয়ে দাঁত কেলিয়ে বলবে, ‘ফ্রেন্ডস, শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি দুই বছরের জন্য। ফিরে এসে আবার নতুন ভিডিও দেখাবো, কেমন?’ সব পুরুষের স্বভাব খারাপ বা সব নারীর পোশাক খারাপ নয়, আসলে আমরাই খারাপ। আমরা এখনো অতোটা সভ্য হতে পারিনি। আমাদের দেশ উন্নয়নের মডেল হতে পারে, তবে বিচার ব্যবস্থার মডেল হতে পারেনি আজও। এই দেশেই আছি আমরা। ফেসবুক থেকে