প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র কবিতা, বললেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি প্রতিনিধি : বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় যন্ত্র, বড় অস্ত্র এবং বড় উপাদান কবিতা। কবিতাকে অন্য শিল্প থেকে আলাদা করার সুযোগ নেই সমস্ত শিল্পের মূল নাম এবং সমস্ত জন্মেরই মূল নাম কবিতা। তা শুধু পাঠকের দেখা ও বোঝার দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনস্থ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী’র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নক্ষত্র নিভে যায়’ -এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা উৎসবে এসব কথা বলেন তিনি৷

আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘নক্ষত্র নিভে যায়’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার কবিতাকে দুই পর্বে ভাগ করে তার জীবনের কবিতাগুলোকে এই কাব্যগ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। তার জীবনের অভিজ্ঞতার যা কিছু সঞ্চয় ছিলো, তিনি সেই সঞ্চয়কে এই গ্রন্থের মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে ভাগ চেয়েছেন।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এই গ্রন্থ৷ প্রকাশনা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশনী সংস্থা অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনা করেন, শিক্ষাবিদ ও কথা শিল্পী অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তিনি তার এই গ্রন্থে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সংকট নিয়ে কবিতা লিখেছেন। তার সব কবিতার পেছনে কোনো না কোনো চিন্তাকে নাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি গ্রন্থে অনেক প্রেমের কবিতাও লিখেছেন। তবে তিনি কখনোই প্রেমের আবেগে ভাসিয়ে যায়নি, একটা সূক্ষ্ম বুদ্ধির খেলা তিনি সবসময় চালিয়ে গেছেন।

‘নক্ষত্র নিভে যায়’ কাব্যগ্রন্থ প্রসঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, কাব্যগ্রন্থের প্রথম অংশ পড়ে আমার মনে হয়েছে, একজন মানুষ যেখানে নিজের কথাকে অন্যের মত করে বলতে পারে, ব্যক্তিকে সংস্কৃতিতে উত্তীর্ণ করতে পারে সেখানেই কবিতার সার্থকতা। আহাদুজ্জামানের কবিতার অন্তস্রোতে সবসময় প্রবাহিত হতে থাকে একটি দার্শনিক বোধ। কষ্টকে কিভাবে শিল্প করে গড়ে তোলা যায় তার কবিতা এর প্রকৃষ্ট উদাহারণ।

পরবর্তিতে প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন সংসদ সদস্য ও খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।

অনুষ্ঠান শেষে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ‘নক্ষত্র নিভে যায়’ বইটির বইটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আহসান আলী বিশ্ববিদ্যালয় আমার সহকর্মী বলেই জানতাম কিন্তু আজ সকালে তার কাব্যগ্রন্থটি সকালে হাতে পেয়ে জানতে পরলাম তিনি একজন কবিও। কাব্যগ্রন্থে তিনি মানুষের অন্তর্নিহিত ভাব, প্রেম, ভালোবাসা, আবেগ তেমনি প্রকাশ পেয়েছে প্রকৃতির বিপন্নতা, সমাজের বিভিন্ন অন্যায় ও সামাজিক নানান অবক্ষয়ের গভীর অনুভূতি মূর্ত হয়ে উঠেছে।

তিনি আরোও বলেন, তার কবিতায় শব্দচয়ণ এবং তার কবিতার গঠনশৈলীর ব্যাপারেও তিনি খুবই সতর্ক ছিলেন। এর পরে তিনি ‘নক্ষত্র নিভে যায়’ কাব্য গ্রন্থ থেকে ‘দুবার বলা যায় না’ কবিতা আবৃত্তি করেন।

উল্লেখ্য, আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একজন প্রাক্তন শিক্ষক। তার ‘নক্ষত্র নিভে যায়’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। পল ক্লি -এর চিত্রকর্ম অবলম্বনে গ্রন্থটির প্রচ্ছদ তৈরি করেন মাসুম রহমান।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত