শিরোনাম
◈ সংস্কার না হলে আরও কমতে পারে প্রবৃদ্ধি, সতর্ক করল আইএমএফ ◈ ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অজনপ্রিয় সামরিক অভিযান: সিএনএনের বিশ্লেষণ ◈ এমপি নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ধোঁয়াশা, কাজীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক ◈ স্বর্ণ-নগদ টাকা নিয়ে ভাতিজার সঙ্গে উধাও চাচি, থানায় অভিযোগ চাচার ◈ এলএনজি টার্মিনাল বিকল, বেড়েছে গ্যাস সংকট ◈ আইন প্রণয়ন ও কমিটি গঠনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির ◈ বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ ◈ এনআইডি সংশোধনে মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি, অনলাইনে হবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন ◈ পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীতে বিএনপি কর্মী খুন ◈ ঘুষিকাণ্ডে বিতর্কে জড়ানোর পর প্রথমবার মুখ খুললেন পারেদেস

প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারী, ২০২০, ০৮:২৮ সকাল
আপডেট : ২৭ জানুয়ারী, ২০২০, ০৮:২৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ: রাজধানীতে দুই হাসপাতাল প্রস্তুত

যুগান্তর : চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলে যাতে তার চিকিৎসায় কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য ঢাকায় দুটি হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানারের পাশাপাশি অতিরিক্ত হ্যান্ড স্ক্যানার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন সকালে সভা করে ওই দিনের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

রোববার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ভাইরাসটি সম্পর্কে চীন প্রতিদিন সর্বশেষ তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেই তথ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সরবরাহ করে। এসব তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও করণীয় নির্ধারণে স্বাস্থ্য অধিদফতরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে করণীয় নির্ধারণে প্রতিদিন সকালে সভা করা হচ্ছে।

অধ্যাপক সানিয়া জানান, আমাদের দেশে এ ভাইরাস আসার ঝুঁকি রয়েছে। তাই আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পেলে চিকিৎসায় কোনো সমস্যা না হয়। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি থার্মাল স্ক্যানারের একটি নষ্ট হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত একাধিক হ্যান্ড স্ক্যানার পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্ক্যানার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের সব স্থল ও সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কিন্তু সমুদ্র ও স্থলবন্দরে এখনও স্ক্যানার বসানো হয়নি। তিনি বলেন, ভারতে আক্রান্তের বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হলে স্থলবন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এ ভাইরাসের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি। এ ক্ষেত্রে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দেন তিনি।

এ ভাইরাস কোন প্রাণী থেকে ছড়িয়েছে জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ভাইরাসটি বাদুর থেকে সাপ, পরে সাপ থেকে কোনো প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছে। তিনি বলেন, চীন থেকে আসা প্রায় ১৮০০ ব্যক্তিকে স্ক্যান করা হয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ হট নম্বরে ফোন করেও জ্বরের তথ্য জানান। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দু’জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু তারা মূলত কমন কোল্ড বা শীতকালীন জ্বরে ভুগছেন। তিনি বলেন, এ জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর তিন থেকে পাঁচ দিন সুপ্ত থাকে। এরপর জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়া হতে পারে। কারো ক্ষেত্রে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ নিষ্ক্রিয় হতে পারে। তাই ফিরে আসা মানুষদের ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর এলে অবশ্যই আইইডিসিআরএ যোগাযোগ করতে হবে। এদিকে, রোববার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভায় সাময়িকভাবে চীনে যাওয়ায় অনুৎসাহিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের আহ্বান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা নাও পড়তে পারে। চীনে বহুসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা এখন ফিরলে এ ভাইরাসের জীবাণু দেশে আসতে পারে। তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়