প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মা যৌতুক দিতে না পারায়, বাবার স্বীকৃতি পাচ্ছেনা জুঁই

আফজাল হোসেন : দুই বছরের শিশু সামিয়া আক্তার জুঁই। জন্মের পর এখনও বাবার কোলে চড়তে পারেনি। শিশুটির স্বীকৃতি দিতে বাবা ২লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেছেন মায়ের কাছে,তবে সে যৌতুক দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই তার মায়ের।

মা-বাবার সেই যুদ্ধ শুরু হয়েছিলো শিশুটি গর্ভে আসার পর পরই। সেই যুদ্ধের বলি হয়ে আদালতের বারান্দায় নিয়মিত কেটে যাচ্ছে এখন মা-মেয়ের দিন। তবে এই দিন কেটে যাওয়ায় তাদের কোন আক্ষেপ নেই,তবে হতাশা রয়েছে বিচার না পাওয়ার।

গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের উত্তর পেলাইদ গ্রামের হতদরিদ্র প্রতিবন্ধি নুরুল ইসলামের মেয়ে নাজমা বেগম(২৫)। বিগত ২০১২ সালে তাকে বাড়ী থেকে অপহরণ করে নিয়ে জোড়পূর্বক বিয়ে করেন একই গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে সায়াদ আলী। লোকলজ্জার ভয়ে অসহায়ত্ব নিয়ে এমন ঘটনাও মেনে নিয়েছিলেন এই পরিবারটি। তবে পরের ঘটনা শুরু হয় এর কয়েকবছর পর যখন জুঁই মায়ের পেটে আসে। শুরু হয় নাজমা-সায়াদ দম্পত্তির যুদ্ধ।

শিশুটির মা নাজমার ভাষ্য, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্বেও সায়াদ আলী তাকে জোড়পূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে অনিচ্ছা সত্বেও বিয়ে করেন। আসামির হুমকীতে তারা তখন আইনের আশ্রয় না নিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভেবে তা মেনে নেন। তবে জুঁই মায়ের গর্ভে আসার পর গর্ভেই ভ্রুন নষ্ট করার জন্য তাকে চাপ দেন সায়াদ আলী। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে স্বামীর কাছ থেকে তাড়িয়ে দেন তাকে, ফিরে আসেন বাবার বাড়ীতে। বাবার বাড়ীতে এসেই তাকে নতুন ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এসময় এলাকার লোকজন গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের মার্চে জন্ম হয় জুঁইয়ের।

মেয়ে জন্মের পর তার স্বামী কোন খোঁজখবর নেননি, উপরোন্ত মেয়েকে স্বীকৃতি দিতে তার স্বামী ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন, কিন্তু সে টাকা দেয়ার মত কোনো ব্যবস্থা হয়ে না উঠায় এখনও তার শিশু তার বাবার স্বীকৃতি যেমন পাচ্ছে না তেমনি তিনিও পাচ্ছে না স্ত্রীর স্বীকৃতিও।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় ভাবে কোন বিচার না পেয়ে গত বছর গাজীপুর আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গত বছর ২৫ আগষ্ট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সায়াদ আলীর বিরুদ্ধে গেপ্তারী পরোয়ানা জারী করেন।

নাজমার আক্ষেপ, গ্রেপ্তারী পরোয়ানা নিয়েও সায়াদ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাকে ও তার বাবাকে নিয়মিত হুমকী দিচ্ছে। এখন বাহিরে যেতেও মা ও মেয়ের ভয় হয়। পুলিশকে আসামির তথ্য দিলেও তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।  তাই বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ দানা বাধছে তাদের মনে।

নাজমার বাবা নুরুল ইসলামের ভাষ্য,তিনি প্রতিবন্ধি নিজে কাজ করতে পারেন না,এখন মেয়ে ও তার শিশু নাতির খরচ চালাতে হাত পাততে হচ্ছে মানুষের কাছে। নিজের সহায় সম্বল যা কিছু ছিল তা বিক্রি করে মেয়ের ভালোর জন্য ইতিপূর্বে ১লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছিলাম, এবার আরো দাবি  ২ লাখ টাকা। যা দেয়ার মত কোনো ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয় ইউপি ওয়ার্ড সদস্য নাসির উদ্দিন জানান, এ বিষয়টি সুরাহার জন্য কয়েকবার গ্রাম্যভাবে বসা হয়েছিলো। তবে সায়াদের অসহযোগিতায় বিষয়টির সমাধান হয়নি। যৌতুকের জন্য একটি শিশু ও তার মায়ের ভবিষ্যত অনিশ্চিত গড়ে তোলায় সায়াদের বিচার হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) লিয়াকত আলী জানান,সায়াদ আলীকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার অভিযান করা হয়েছে তাকে পাওয়া যায়নি। ফের আবারো তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। সম্পাদনা: জেরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত