প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উড়ে যায় টাকার পাখি

 

তুষার আবদুল্লাহ : আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস জন্মগত। চাঁদ-তারা ঘুড়ি দেখা, পাখি-মেঘ দেখার অভ্যাস ছাড়তে পারিনি। এখন সেই অভ্যাসের সঙ্গে নতুন কিছু যোগ করার চেষ্টা করছি। শখ হয়েছে টাকা উড়া দেখার। জানালা দিয়ে তাকাই দেখতে পাই না। চারপাশের উঁচু দালান আকাশ ঢেকে রেখেছে। পথে হাঁটতে গিয়েও একই বিপদ। দুই দিক থেকে যেন দালানের গজিয়ে উঠা শিং আকাশ ঢেকে দিয়েছে। এবার তো ভোটের পোস্টারে মাঘের পূর্ণিমা দেখা হলো না। ছাদে উঠে যেতে পারি, কিন্তু সেখানেও বাধা। চিলেকোঠার সিঁড়িতে তালা। কারও যদি উদার আকাশ দেখে নিজেকে হত্যার সাধ জাগে। জাগতেই পারে। এমন ঘটনা হয়নি যে এমন নয়। প্রেম ধরা দিলো না বলেই যে জমিনে পতন তা নয়। মুঠভর্তি টাকা উড়ে যাওয়া কিংবা দুই চোখে টাকার সুনামির পূর্বাভাস ধরা না দেয়াও পতনের কারণ। ১৯৯৬ থেকে ২০২০ কতোজন এমন হয়েছে? সংখ্যা কম নয়। কারও খবর গণমাধ্যম জেনেছে। কেউ অভিমানে সরে গেছে কাউকে না জানিয়েই।

তবে জানার বাকি থাকেনি ফাটকাবাজারের টাকা কোন জাদুতে হাওয়া হলো। এক আনা, দুই আনা নিয়ে যারা পুঁজির সার্কাস দেখতে গিয়েছিলো তারা ফিরেছে নিঃস্ব হয়েও। কারও কারও মুঠে তো এক আনা, দুই আনা বড় অঙ্কের চকচকে নোটের লোভ হয়ে জ্বলজ্বল করেছিলো, সেই লোভের পাপে মরণও হয়েছে অনেকের। তবে জাদুকররা কোনোবার হারেনি। বাজিমাত করে চলছেনই তারা। এক, দুই সাত দিনে হাজার কোটি, পাঁচ হাজার কোটি হাপিস করে দিচ্ছেন তারা। সেই টাকা নাকি আকাশ উড়েই ভিন দেশে যায়, আমি তাই দেখতে আকাশে তাকাই। ভেবেছিলাম হাজার কোটি টাকা উড়ে। এই কয়েক টাকা উড়ে গেলে কি হবে? ওমা পরে দেখি। লাখ কোটি টাকার দলও উড়ে যায়। ব্যাংক থেকে হাজার দশেক, লাখ বা কোটি টাকা কর্জ করি, দেখবো আমার প্রাণ যায় যায়। চুলের রং বদলে গেছে। শত রোগ এসে জাপটে ধরেছে।

আর ব্যাংকের বাঘর দাঁত, নখ এসে আমাকে খাচ্ছে ছিঁড়ে, খুবলে। কিন্তু যারা বুক চিতিয়ে হাজার কোটি, পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার হিম্মত দেখালো তারা তো বীর পুরুষ। সেই বীরদের জন্য পুরস্কারও তৈরি। টাকা ফেরত না দিলেও চলবে। উল্টো চাইলে তারা আরও কিছু পেতে পারে। যদি হন ব্যাংকের মালিক কোনো কথাই নেই। নিজ মনে তুলে নিয়ে যাচ্ছে যতো খুশি। শহরের পথেই শোনলাম লাখ টাকা নিজের মনে করে নিয়ে চলে গেছে তারা। উড়িয়ে দিয়েছে আকাশে। সেই টাকা পাখা মেলে চলে গেছে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া। একই পথে যাচ্ছে টাকা অফিস সহকারীর সিন্দুক থেকে। স্বাস্থ্য সহকারী, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি পুঁটি রাঘব কর্তাদের পাশাপাশি ঠিকাদার, রাজনৈতিক দলের পাতি-অতি নেতাদের টাকা শিমুল তুলার মতো ফুটছে আর উড়ছে। নাস্তায় মুড়ি কিনতে গিয়ে লাখ টাকা নেই। বালিশ তুলতে গিয়ে হাজার টাকা। পর্দা কিনতে, সিলিং পাখা কিনতে গুণিতক হারে বেড়ে গেছে ক্রয় মূল্য। টাকা উপর যে গজিয়ে উঠলো টাকা। সেই টাকা তো আর পকেটে বস মানতে চায় না। উপচে পড়ে। আশপাশের মানুষ দেখে ফেলে। কুড়িয়ে নেয় যদি। তাই ছুড়ে দেওয়া আকাশ পানে। টাকা পথ চেনে। উড়োজাহাজের পিছু নিয়ে ঠিক পৌঁছে যায় গন্তব্যে। আগে চলে টাকা। পেছন পেছন সুখন আর সখিনা। সুখন সখিনা হওয়ার জন্য হা-পিত্যেশ নেই। টাকা কুড়িয়ে নেওয়ার জিভ তৈরি হয়নি। সাধ শুধু আকাশে পাখির ন্যায় উড়ে যাওয়া টাকা দেখার। লেখক : বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত