প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুদিন পর পর ‘জুকারবার্গ’কে ‘জাকারবার্গ’, ‘তার’-এর ‘ত’-তে চন্দ্রবিন্দু দিয়ে ‘তাঁর’ লেখা, গড়ে সবাইকে ‘আপনি’ সম্বোধন করা, লেখকদের দীর্ঘ নামের শেষাংশ ছেটে ফেলার কাজকেই ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার উন্নয়ন-অগ্রগতি মনে করে?

লুৎফর রহমান হিমেল : সংবাদ ইংরেজি থেকে অনুবাদ ও সম্পাদনা সহজ কাজ নয়। আমরা যখন প্রথম আলোয় ছিলাম, সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করতাম। সেই সময়টাতেই হয়তো পত্রিকাটির গুণগত মান শীর্ষে ছিলো। এরপর চোখের সামনেই এর মান (অনুবাদ-সম্পাদনা) নি¤œগামী হতে থাকলো। এখনকার পত্রিকাটি দেখলে সম্পাদনায় বড় অযতœ চোখে পড়ে। অথচ দেশে বাংলা পত্রিকার মধ্যে প্রথম আলোই সেরা। এ কথা মানতেই হবে। সেই প্রথম আলোর একটি সংবাদ নিয়ে আলোচনা করা যাক। সংবাদটি দৈবচয়ন করে নেওয়া হয়েছে। মানে হুট করে যেটি সামনে এসেছে, সেটিকেই আলোচনার জন্য নেওয়া হয়েছে। খেলার পাতার খবর বলেই কি না জানি না, অনুবাদক লিখেছেন ‘ক্রিকেটার আজহারউদ্দিনের বিপক্ষে মামলা’। আমরা তো জানি কারও ‘বিরুদ্ধে’ মামলা হয়। এটিই আইনের পারিভাষিক শব্দ। খেলায় সাধারণত বলা হয়ে থাকে ‘বিপক্ষে বল করা’, ‘বিপক্ষে ব্যাট করা’ ইত্যাদি। মামলায় লেখা হয় ‘বিরুদ্ধে’। প্রথম প্যারাতেই বলা হয়েছে, আজহারউদ্দিন মামলার সত্যতা অস্বীকার করেছেন। অদ্ভুত বাক্য। আসামির এখানে মামলা না-হওয়ার সত্যতা কীভাবে অস্বীকার করা যাবে? এটা তো বলবে পুলিশ বা বাদী। আসামির এটা বলার সুযোগ নেই। খবরের শেষে অবশ্য বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছেন আজহার। তো মামলা অস্বীকার মামলার অভিযোগ অস্বীকারে তো অনেক ফারাক। খবরে সব জায়গায় আওরঙ্গাবাদকে লেখা হয়েছে আওরঙ্গবাদ। ভারতের একটি এয়ারলাইন কোম্পানি জেট এয়ারওয়েজের নাম লেখা হয়েছে ওয়ারওয়েজ। এতো ছোট একটি সংবাদেই যদি এতো ভুল থাকে, শীর্ষ পত্রিকার একজন গুণমুগ্ধ পাঠক হিসেবে বড় কষ্ট লাগে। অথচ পত্রিকাটির জনবল বেড়েছে, আয় বেড়েছে, জৌলুস বেড়েছে তারপরও কেন এই অবনমন? নাকি দুদিন পর পর ‘জুকারবার্গ’কে ‘জাকারবার্গ’, ‘তার’-এর ‘ত’-তে চন্দ্রবিন্দু দিয়ে ‘তাঁর’ লেখা, গড়ে সবাইকে ‘আপনি’ সম্বোধন করা, লেখকদের দীর্ঘ নামের শেষাংশ ছেটে ফেলার কাজকেই তারা পত্রিকার উন্নয়ন-অগ্রগতি মনে করে? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত