প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসন্ন ডেঙ্গু মোকাবিলায় এবারো দুই সিটির ভরসা হবে স্বেচ্ছাসেবী আর চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ কর্মী

সুজিৎ নন্দী: দুই সিটির প্রধান সমস্যা মশা নিধনে এবারো ভরসা করতে হবে স্বেচ্ছাসেবী ও দৈনিক চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ কর্মীদের ওপর। নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য দুই সংস্থার প্রত্যেক বিভাগের অভিমতসহ ওই সাংগঠনিক কাঠামো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ঢাকা উত্তরের জনবল ১ হাজার ৮৫৮ জনের স্থলে ২ হাজার ৫শ’ এবং দক্ষিণের ২ হাজার ৪৮২ জনের স্থলে ৩ হাজার ৪শ’ করার প্রস্তাব করা হয়। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে ফাইল চালাচালি চলছে। কিন্তু এখনও অনুমোদন পায়নি। দুই সিটির স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, নতুন করে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া না হলে স্বেচ্ছাসেবী ও দৈনিক চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হবে।

বর্তমানে দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে মশানিধন কাজে ৩৪৪ জন জনবল রয়েছে। এর মধ্যে স্প্রে-ম্যান রয়েছেন ১৮৩ জন, ক্রু ১৫১ জন ও সুপারভাইজার ১০ জন। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটিতে এর সংখ্যা ৩১৭ জন। এর মধ্যে ১২০ জন স্প্রেম্যান ও ১৮৯ জন ক্রু-ম্যান। সুপারভাইজার রয়েছেন ৮ জন। এই জনবল নিয়ে এ বিশাল নগরীর মশানিধন কাজ পরিচালনা অসম্ভব বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। এ অবস্থায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীদের সমন্বয়ে কমিউনিটি অ্যাম্বাসেড়র নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি স্কাউট ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি) সদস্যদের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, জনগণকে যথাযথ সার্ভিস দেওয়ার জন্য অবশ্যই জনবল বাড়াতে হবে। জনবল খুবই কম। সে কারণে জরুরি সার্ভিস দিতে করপোরেশন হিমশিম খাচ্ছে।

এলাকাভেদে সিটি করপোরেশনের মশকনিধনকর্মী বণ্টনেও রয়েছে পার্থক্য। শহরের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির একেকটি ওয়ার্ডে মশকনিধনকর্মী আছেন ১৩ থেকে ১৪ জন। আবার রামপুরা, মিরপুর, লালবাগ এলাকার ওয়ার্ডগুলোতে মশকনিধনকর্মী আছেন ৫ থেকে ৭ জন।

দুই সিটি স‚ত্র জানিয়েছে, ১৯৮৯ সালের অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) দিয়েই এখনও পরিচালিত হচ্ছে বিভক্ত দুই সিটি করপোরেশন। সংস্থা দু’টি বিভক্তির পর ২০১২ সালের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দুই সংস্থার পক্ষে পৃথক দুটি সাংগঠনিক কাঠামোর প্রস্তাব পাঠানো হয়। তখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ঢাকা উত্তরের জন্য ১ হাজার ৮৫৮ এবং ঢাকা দক্ষিণের জন্য ২ হাজার ৪৮২ জন জনবল চ‚ড়ান্ত করে। দুই সিটি করপোরেশন মিলে ৪ হাজার ২৮০ জন। যদিও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মোট জনবল ছিল ৫ হাজার ১১৭ জন।

সূত্র মতে, ওই অর্গানোগ্রাম তৈরির দুই বছর পর ১৯৯১ সালে রাজধানী ঢাকার লোকসংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৪০ হাজার ১৩৭ জন। আর তখন নগরীর আয়তন ছিল ১২৯ বর্গকিলোমিটার । আর এখন নতুন করে ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় এর আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ বর্গকিলোমিটারে। ফলে শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো। পাশাপাশি এর আঞ্চলিক কার্যালয়ও বেড়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি।

সর্বাধিক পঠিত