প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১০ বছরে বদলেছে জঙ্গিবাদের ধরন

মাজহারুল ইসলাম : জঙ্গিবাদে জড়ানোর কারণও বদলেছে। ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত নিম্নবিত্ত, দরিদ্র, অশিক্ষিত ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতো জঙ্গিরা। এখন শিক্ষিত ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের ভেড়াচ্ছে জঙ্গিরা। আগে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ হয়ে আক্রমণ চালালেও, এখন এককভাবে বা সর্বোচ্চ দু’জন আক্রমণে যাচ্ছে।

জঙ্গিবাদ নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগ ও পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ওই গবেষণা বলছে, আগে চল্লিশোর্ধ্বরা জঙ্গিবাদের পথে পা বাড়ালেও, বর্তমানে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সিরা উগ্রবাদে লিপ্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৫১ জন (বয়স ১৬-৩২) জঙ্গির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ৪৭ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট। ১২ শতাংশ মাদরাসাছাত্র আর ৩ শতাংশ অশিক্ষিত।

১৪ জঙ্গির পরিবার, ১০ পুলিশ অফিসার ও ১৫ বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশে জঙ্গিবাদের শুরুর দিকে ধর্মীয় উগ্রপন্থি নেতাদের বই পড়ে যুবক ও বয়স্ক পুরুষরা এ পথে পা বাড়াতো। কিন্তু এখন ইন্টারনেটকে মূল হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা। স্পর্শকাতর ভিডিও দেখিয়ে তারা মগজ ধোলাই করছে। যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করছে হোয়্যাটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা এনক্রিপটেড অ্যাপ। ইন্টারনেটে প্রোপাগান্ডামূলক পোস্ট দেখে এ পথে উদ্বুদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে আটক অনেক জঙ্গি। গবেষণায় জানা গেছে, জঙ্গিবাদে জড়ানোর কারণ হিসেবে তারা দাবি করেছে, ইরাক ও সিরিয়ায় মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের রাগ ও ক্ষোভ থেকে তারা এ পথে পা বাড়িয়েছে।

জঙ্গিবাদের পথে আগতদের পারিবারিক বিষয়ে গবেষণা বলছে, এ পথে আসা অধিকাংশ তরুণ ছোটবেলা থেকে পরিবারে ঝগড়াঝাটি বা কলহ দেখে আসছিলো। তাদের চলাফেরায় ছিলো বাধা-বিঘ্ন। তাদেরকে মেয়ে ও ভিন্নধর্মী কারও সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হতো না। জঙ্গিবাদের আত্মপ্রকাশের প্রথম দিকে পুরুষরা জড়িত হলেও এখন নারীরাও এ পথে পা বাড়াচ্ছে। এর কারণ জানতে চাইলে তরুণীরা জানায়, নিজ পরিবারে তারা নিগৃহীত। তাদের কেউ পাত্তা দিতো না। তারা অভাব-অনটন আর নির্যাতন সহ্য করে বড় হয়ে মগজ ধোলাইয়ের কবলে পড়ে এ পথ বেছে নিয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, যুবকদের টার্গেট করে র‌্যাাডিকালাইজড (উগ্রবাদী মগজ ধোলাই) করছে জঙ্গিরা। যুব সমাজকে তারা যেনো নতুন করে র‌্যাাডিকালাইজড না করতে পারে সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।

সিটিটিসি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের আক্রমণের ধরন ও আচরণ সম্পূর্ণভাবে বদলে গেছে। আগে নব্য জেএমবির সদস্যদের টার্গেট ছিলো বিদেশিরা। তবে বর্তমানে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও টার্গেট করছে। এছাড়া তারা নিজেরাই শক্তিশালী বোমা তৈরি করছে। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত