প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইজিপিকে প্রধানকে বিচারপতির মর্যাদা দেওয়া হোক

নিউজ ডেস্ক : সংসদ সদস্যেরা দেশের জনগণের প্রতিনিধি|মানে সংবিধান অনুসারে প্রজাতন্ত্রের মালিকেরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন রাষ্ট্র পরিচালনা করতে আর আইন প্রণয়ন করতে|

আমাদের সংবিধানে আরো বলে, দেশে সংসদ, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ নামে তিনটি আলাদা স্তম্ভ থাকবে| কিন্তু বাস্তবিক অনেকদিন ধরেই নির্বাহী ও সংসদ বিভাগ একটি একক সত্ত্বা হয়ে গেছে| নিম্ন আদালতের  বিচারক থেকে কখনোসখনো কর্মরত প্রধান বিচারপতিও বলেন বিচার বিভাগকেও একই ছাতার নীচে আনার প্রক্রিয়া চলছে৷ কিন্তু তা চলুক বা বন্ধ থাকুক সেটা আরেক তর্ক৷ আজ আমরা দেখি আমাদের সংসদ সদস্যেরা কী বলছেন?

সব ধর্ষককে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ‘ক্রসফায়ার-এ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকার ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য৷ মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি সংসদে এ দাবি জানান তারা৷ ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়া ও এ ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূলে ‘ক্রসফায়ার’ দাবি করেন সংসদ সদস্যরা৷সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এমপিরা সরকারের কাছে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধনের দাবিও জানান৷

পশ্চিম কুনিয়া বাগানবাড়ি, বরিশাল৷ একজন মহিলা দেখতে পেলেন ধানক্ষেতে একটা মৃতদেহ পড়ে আছে৷ ব়্যাবের লোকজন তাদের গাড়ি থেকে গুলি এনে মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিচ্ছে৷ মহিলাটি প্রথম যখন মৃতদেহটা দেখেন তখন সেখানে কোনো গুলি ছিল না৷ আশেপাশে কোনো রক্তও ছিল না৷ ধানক্ষেতে পায়ে মাড়ানোর কোনো চিহ্ন ছিল না৷

সিরিয়াসলি! এমপি মহোদয়েরা!! এই হচ্ছে আইন প্রণয়ন সংক্রান্তে আপনাদের চিন্তা!!! আপনারা বিচার করার ভার তুলে দিতে চান তরুণ পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের ওপর? কারণ, আপনারা জানেন, বিচার আদালতে আমরা বিচার পাবো না, হাইকোর্টে গিয়ে ছাড়া পেয়ে যাবো, তাই?

মুখে স্বীকার না করলেও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাঝে-মধ্যেই আকারে ইঙ্গিতে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতে ক্রসফায়ারের কথা বলা হয়৷ এই যেমন মঙ্গলবার সংসদে জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনি ক্রসফায়ারে দিচ্ছেন৷ তবে কেন ধর্ষণের ঘটনায় একজনকেও দিচ্ছেন না?”

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার দলের বর্ষীয়ান এমপি তোফায়েল আহমেদ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আমাদের আরো কঠোর আইন দরকার৷ মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় যদি ক্রসফায়ার হয়ে থাকে, তাহলে ধর্ষণের ঘটনায় কেন নয়?”

আমার মনে হয়, এমপিরা যখন এ দাবি করছেন তখন তা শিগগিরই ঘটতেও চলেছে৷ চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফেসবুক, টুইটার পর্যন্ত ক্রসফায়ারের যে জনপ্রিয়তা আমরা দেখি তাতে একথাও মানতে হয় যে, পুলিশ বাহিনী বা পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব বিচার কাজ এমনকি সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন৷ তাই আমাদের দাবি, পুলিশ প্রধানকে প্রধান বিচারপতির মর্যাদা দেওয়া হোক৷ তার অধীনস্থ অফিসারদের দেওয়া হোক আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের পদমর্যাদা৷ তবে বর্তমান প্রধান বিচারপতিসহ অন্য জ্যেষ্ঠ বা কনিষ্ঠ বিচারকের পদ বা মর্যাদা কী হবে তা আমি জানি না৷ এটাও নিশ্চয়ই এমপি মহোদয়েরা ভেবে বার করতে পারবেন৷

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত