প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাবিথ আমার ভাতিজা, তাই নির্বাচনটা হবে চাচা-ভাতিজার খেলা, বললেন আতিকুল ইসলাম

বার্তা২৪ ডেস্ক: আর মাত্র ২৪ দিন বাদেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা এরই মধ্যে নিজেদের নির্বাচনী এজেন্ডা নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার জন্য। কেমন হবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন? কে হবেন আগামীর নগরপিতা? নগরপিতা হয়ে কেমন নগর গড়তে চান? এ রকম নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আতিক। সোমবার (০৬ জানুয়ারি) বনানীতে তার নির্বাচনকালীন সমন্বয় অফিসে একান্ত আলাপচারিতায় ডিএনসিসি নিয়ে নিজের ভাবনাগুলো তুলে ধরেন তিনি।

প্রশ্ন: আপনি মাত্র নয় মাসের জন্য এ সিটির মেয়র ছিলেন। আওয়ামী লীগ আবার আপনাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দল আপনাকে কেন মনোনয়ন দিয়েছে বলে মনে করেন?

আতিকুল ইসলাম আতিক: `সাবেক মেয়র হিসেবে আমি মনে করি, যিনি ওই চেয়ারটাতে থাকবেন, তাকে ওই চেয়ারের মূল্যায়ন করতে হবে। যিনি ওই চেয়ারে থাকবেন, তাকে জনসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। যিনি চেয়ারটাতে থাকবেন, তাকে সবার কথা শুনতে হবে, সুন্দর শহর গড়ার চ্যালেঞ্জগুলো জানতে হবে। গত নয় মাসে আমি জানার চেষ্টা করেছি, কালশী খালের দীর্ঘ দিনের জঞ্জাল দূর করার চেষ্টা করেছি।’

`দায়িত্বে থাকাকালীন নয় মাসে যে কাজ করেছি, সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনের পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করে ফেলেছি। গত নয় মাস কাজ করেছি বলেই দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। আমি দলকে এ পুরস্কারের দাম দিতে চাই কাজের মাধ্যমে। আশা করি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটি সুন্দর সচল আধুনিক ঢাকা এবং দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন উপহার দিতে পারব। গতিময় ও জবাবদিহিতামূলক একটি সিটি করপোরেশন গড়তে পারব। এটা আমার প্রত্যাশা,’ যোগ করেন আতিকুল ইসলাম।

প্রশ্ন: ভোটররা কেন ভোট দেবেন?

আতিকুল ইসলাম আতিক: `ভোটররা দেখবেন, কে কাজ করেন, ভোটাররা প্রার্থীদের অতীত ইতিহাস দেখবেন। তারা দেখবেন, আমি তাদের সঙ্গে কতটুকু মিশতে পেরেছি, তাদের প্রত্যাশাগুলো অল্প সময়ের মধ্যে কতটুকু বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি। কাজেই ভোটররাই সবচেয়ে বড় ডিসিশন মেকার। আমার বিশ্বাস, ভোটররা আমার গত নয় মাসের কাজ দেখে আমাকে ভোট দেবেন। আমি সর্বোচ্চ সময় দিয়ে চেষ্টা করেছি। কাজেই তারা এ রকম মেয়রকে ভোট দিতে চাইবেন, যে মেয়র হলে কাজ হবে। যে মেয়র সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবেন। সরকারের সঙ্গে কোন কোন জায়গায় গেলে কাজ হবে, গত নয় মাসে সে অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। কাজগুলো অনেক গুছিয়ে ফেলেছি। আগামীতে ঢাকা শহরে যে ৪২ হাজার এলইডি লাইট লাগাব, সে ফাইল কোন পর্যায়ে আছে, আমি কিন্তু জেনে গেছি। তাছাড়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে ৪২০০ কোটি টাকা দিয়ে কীভাবে সুন্দর নতুন সিটি করতে পারব, এটির ফাইল ওয়ার্ক কিন্তু শেষ পর্যায়ে। কাজেই ভোটররা সব বুঝেই আমাকে ভোট দেবেন বলে আমার প্রত্যাশা।’

প্রশ্ন: নির্বাচিত হলে কোন কাজগুলো প্রথমে করবেন?

আতিকুল ইসলাম আতিক: `অপরিকল্পিত শহরকে পরিকল্পিতভাবে গড়াটা কিন্তু অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারো কাছে যানজট গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, কারো কাছে জলজট, আবার কেউ মনে করেন পর্যাপ্ত খেলার মাঠ-পার্কের অভাব, কারো কাছে মশা সমস্যাই প্রধান, কেউ চান স্মার্ট সিটি, এটাই কিন্তু বাস্তবতা। আমি বলেছি, সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে সবার জন্য ইনক্লুসিভ ঢাকা গড়ব। যেখানে শিশুরাও খেলতে পারবে, বৃদ্ধরাও চলতে পারবেন, নারীরাও নিরাপদে চলতে পারবেন। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।’

প্রশ্ন: মেয়র হলে আপনার পরিকল্পনা কী?

আতিকুল ইসলাম আতিক: `গত নয় মাসে আমি দেখেছি, কোথায় কোথায় কি কি সমস্যা আছে। সেসব সমস্যা সমাধানে আমি দীর্ঘ মেয়াদী, স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা করেছি। কোন এলাকার কোন রাস্তা খারাপ, এসব জরিপ করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে নগরবাসী এলইডির আলোয় আলোকিত নগরী দেখতে পাবেন।’

প্রশ্ন: বিজয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

আতিকুল ইসলাম আতিক: `দেখুন আওয়ামী লীগ এমন একটি দল, যে দল উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সে দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছি, আমার বিশ্বাস উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে জনগণ আমাকে বেছে নেবেন। আর এ নির্বাচনকে আমরা কোনো অংশেই খাটো করে দেখছি না। যার ফলে প্রধানমন্ত্রী সব কর্মীকে মাঠে নামতে বলেছেন। অবশ্যই সবাই মিলে কাজ করলে এবং সবাই মিলে আমাদের পরিকল্পনা ও কাজগুলোর কথা মানুষের দ্বারে দ্বারে জানালে, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। মানুষকে বোঝাতে হবে উন্নয়নের কথা, এ সরকারের মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা। আমরা দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন গড়ব। অপরিকল্পিত এ শহরকে পরিকল্পিত নগরীতে পরিণত করতে হলে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস, আমি তা করতে পারব। বিজয়ের ব্যাপারে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’

প্রশ্ন: প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

আতিকুল ইসলাম আতিক: `প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একটি রাজনৈতিক দল থেকে এসেছেন, আমিও একটি দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আমরা নির্বাচন করব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। এরই মধ্যে উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে আমার বাসায় দাওয়াত দিয়েছি। এটিই থাকা দরকার। নির্বাচনে হার জিত থাকবে। নির্বাচনের পরে যেন আমরা সবাই মিলে এক সঙ্গে এ নগরীর উন্নয়ন করতে পারি, সেটাই প্রত্যাশা সবার কাছে। অবশ্যই আমি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে খাটো করে দেখছি না। আমি নির্বাচনের মাঠে আছি। থাকব শেষ দিন পর্যন্ত।’

প্রশ্ন: নির্বাচনী মাঠে নামার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে কি?

আতিকুল ইসলাম আতিক: `না তার সঙ্গে (তাবিথ আউয়ালের) কথা হয়নি। তার বাবার (আব্দুল আউয়াল মিন্টুর) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তার বাবাকে আমরা সবাই চিনি। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, তিনি আমাকে বলেছেন, আমার ছেলে এবার ইলেকশন করবে। যেহেতু আমি তাকে (আব্দুল আউয়াল মিন্টু) ভাই বলে ডাকি, তার ছেলেকে আমি আংকেল বলেই ডাকব। চাচা-ভাতিজার খেলা। একটি সুষম সম্পর্ক রেখেই আমরা সে খেলা খেলব। রাজনীতির মাঠে আমি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আর তাবিথ বিএনপির মেয়র প্রার্থী। কিন্তু আমরা দু’জন চাচা-ভাতিজা।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত