প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেল ভারতে পাচারের শঙ্কা

আমাদের সময় : দেশে ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত চলতি সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেলের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লাখ মেট্রিক টনের মতো। সরবরাহ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। অধীনস্থ তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে সর্বত্র তেল সহজে পৌঁছে দিতে চায় সংস্থাটি। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কোথাও কোথাও জ্বালানির দাম বেশি হওয়ায় পাচারের আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, প্রায় প্রতিবছরই সেচ মৌসুমে কৃষকদের দোড়গোরায় জ্বালানি তেল পৌঁছাতে কোথাও না কোথাও তৈরি হয় সংকট। বিষয়টিকে মাথায় রেখে অতীতের বিভিন্ন সময়ের তেলের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে চাহিদা নির্ধারণ করেছে বিপিসি। আর এটি করতে কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে এবার। গতকাল রবিবার এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। এতে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আবুহেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল পৌঁছে দিতে সব ধরনের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সহজে তেল পরিবহনে ওয়াগন প্রস্তুত রাখতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শুষ্ক মৌসুমে যেসব নদীতে কম পানি সেগুলোকে ড্রেজিং করে তেল পরিবহনে তা স্বাভাবিক রাখতে। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর এবং কর্ণফুলী নদী এলাকায় রাতের বেলা জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকে, যা স্বাভাবিক তেল পরিবহনে বড় বাধা। তাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে সেচ মৌসুমে যাতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়া হয়।

ভারতে তেল পাচারের শঙ্কার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। কেননা প্রতিবেশী দেশটির কোথাও কোথাও বাংলাদেশের তুলনায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি। তাই স্থানীয় পাচারকারী ছাড়াও স্থলবন্দর দিয়ে যে ট্রাকগুলো দুদেশে পণ্য আনা-নেওয়া করে, সেগুলোর মাধ্যমে তেল পাচারের সুযোগ থাকে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিজিবিকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী পেট্রোলপাম্পগুলোকেও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নির্দেশনা।

গত নভেম্বরর থেকেই কৃষিকাজে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হয় ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত। চলতি বছর ডিজিলের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। আর লুব অয়েলের চাহিদা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন। বিপিসি বলছে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গুপ্তখালে ট্যাংকারে রাখা হয়। সেখান থেকে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ডিপোগুলোয়। এর মধ্যে গোদনাইল ফতুল্লা ডিপো থেকে ঢাকার আশপাশের জেলায়; খুলনার দৌলতপুর থেকে খুলনা-যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়; বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও পাবনার আশপাশে; রংপুর রেলহেড ডিপো থেকে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম অঞ্চলে তেল সরবারহ করা হয়। এ ছাড়া হরিয়ান রেলহেড ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হয় রাজশাহী অঞ্চলে; পার্বতীপুর ডিপো থেকে দিনাজপুরের আশপাশের বিভিন্ন জেলায় এবং শ্রীমঙ্গল, ভৈরব, বরিশাল, ঝালকাঠি এলাকায়। এর মধ্যে দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেলের চাহিদা, যার মধ্যে ১৬ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। তাই সেচকালে কৃষিকাজে ব্যবহৃত তেল সহজে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কন্ট্রোলরুম পর্যন্ত স্থাপন করে বিপিসি।

সেচ মৌসুমে কৃষিকাজে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছে। সে ক্ষেত্রে কৃষিকাজে জ্বালানি তেল সময়মতো পৌঁছে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যে প্রতিবছরই আমরা জ্বালানি তেল সরবরাহে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। আশা করছি এ বছরও কৃষকদের কাছে খুব সহজে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারব।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত