প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেঘালয়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ, শিলংয়ে কারফিউ

বাংলা ট্রিবিউন : নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (সিএবি) প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্য। আসামে পুলিশের গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পাশাপাশি অশান্ত হয়ে উঠেছে পাশের আরেক রাজ্য মেঘালয়। গত দুইদিন ধরে রাজ্যটিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা। তারপরও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার রাজ্যটির রাজধানী শিলংয়ের কয়েকটি এলাকায় জারি করা হয়েছে কারফিউ।

গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে ৩১১-৮০ ভোটে লোকসভার অনুমোদন পায় ‘দ্য সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৯’ শীর্ষক বিতর্কিত বিলটি। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আনা বিলটি বুধবার রাজ্যসভারও অনুমোদন পায়। বিলটিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিরোধীদলগুলো বিলটিকে ‘মুসলিমবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ করলেও দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভিন্ন দাবিতে উত্তাল। আসাম-ত্রিপুরা, মেঘালয়ে শরণার্থীদের অবৈধ অভিবাসীর স্বীকৃতি বাতিল ও এই অঞ্চলকে সিএবি আওতামুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ করছে তারা।

শিলংয়ে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে অন্তত দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে ওঠার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিলংয়ের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র পুলিশ বাজার। এছাড়া টুইটারে প্রকাশ পাওয়া আরেক ভিডিওতে শহরের অন্যতম একটি মূল সড়কে বিশাল একটি মশাল মিছিল দেখা গেছে।

এদিকে শিলং থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরের শহর উইলিয়ামনগরে এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের মুখে পড়েন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কঙ্কাল সাংমা। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর তার গাড়িবহর রওনা দিলে তাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেয় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। দেখানো হয় প্রতিবাদী প্লাকার্ড।

বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে মেঘালয় পুলিশ। টুইট বার্তায় শিলংয়ে কারফিউ জারির ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যে এসএমএস ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বাতিলের কথা জানিয়েছে তারা।

মেঘালয়ের পাশের রাজ্য আসামে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেনা টহল ও কারফিউ উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েকটি স্থানে গুলি চালায় পুলিশ। এতে অন্তত তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আরেক রাজ্য ত্রিপুরায় বড় ধরণের কোনও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। রাজ্যটির রাজধানী আগরতলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস বন্ধ রেখে বিক্ষোভ ঠেকানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

সর্বাধিক পঠিত