প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের বিবেকবান মানুষ ও আমরা শঙ্কিত, বললেন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান (ভিডিও)

টিভিএনএ রিপোর্ট: ভারতের বারাণসীর রাস্তায় একই সঙ্গে নামাজ পড়া ও কোরআন পাঠ এবং রামায়ণের স্তোত্র পাঠ শোনা যায়। কারণ পাশাপাশিই রয়েছে লথ ভৈরব মন্দির ও লথ মসজিদ।রামলীলার সময় শিল্পীরা যখন রাম-রাবণের গান ধরেন, তখন একই প্রাঙ্গণে চলে নামাজ আদায়। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ভারতে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এমনই সম্প্রীতির নজির দেখা যায় সেখানে। বারাণসীর রাজঘাট থেকে মাত্র পাঁচশ মিটার দূরে রয়েছে ওই জোড়া মন্দির-মসজিদ। দুটির প্রাঙ্গণ একই হওয়ায় হৃদ্যতা আরও বেড়েছে।

১৫৪৩ সাল থেকে এই প্ল্যাটফর্মে রামলীলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।সাড়ে তিনশ বছর ধরে এখানে নামাজও চলছে। একই রকমভাবে নামাজ ও পূজা চলছে কাশি মথুরাসহ আরও অনেক মন্দির ও মসজিদে।সম্প্রতি বাবরি মসজিদের রায়ের ফলে এখন বিশ্ব হিন্দুসভা, বিজেপি, আরএসএস ও আরও কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের নেতারা বলছেন যে অযোধ্যায় মাত্র একটি ঝাঁকি দেয়া হলো। এখন ভারতে আরও যেসব মসজিদ মন্দির পাশাপাশি রয়েছে সেখান থেকে মসজিদ উচ্ছেদ করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তাদের এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, কাশী মথুরা ও বেনারসের মতো জায়গায় মসজিদ মন্দির ও ঈদগাহ পাশাপাশি আছে শতাব্দীর পর শাতাব্দী ধরে। কিন্তু মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনগুলো থেকে যেসব কথা বলা হচ্ছে তাতে আমরা এবং ভারতের বিবেকবান মানুষ শঙ্কিত। কারণ ভারতের সংবিধানে গ্যারান্টি থাকা সত্বেও অযোধ্যায় বাবরি মসজিদকে রক্ষা করা যায়নি।

তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে ভারতে উপসনালয় রক্ষার জন্য যে আইন করা হয়েছে তাতে এসব মসজিদকে রক্ষা করা হবে সে বিষয়ে যাথেষ্ট সন্দিহান আমরা। ভারতবর্ষে বিভিন্ন সময় বহিরাগতরা এসে শাসন করেছে। মুসলিম শাসকরাও এখানে বহিরাগত। তবে মুসলিম শাসন আমলে হিন্দুদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এমন কোনো নজির নেই। সম্প্রতি একজন মার্কিন গবেষক বলেছেন, যদি মুসলিম শাসকরা হিন্দুদের জোর করে মুসলমান করতো তাহলে ভারতে একজন হিন্দুও থাকতো না।

অধ্যাপক ছিদ্দিক বলেন, ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছে সুফী সাধকরা। যারা খুবই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন। কোনো লোভ লালসা তাদের মাঝে ছিল না।

ভারতের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মৃদুলা মুখার্জি বিবিসিকে বলেছেন, এলাহাবাদ বা মুঘলসরাইয়ের নাম বদলের মতো ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে বিজেপি তাদের 'দৈনন্দিন সাম্প্রদায়িকতা' করে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই এলাহাবাদ শহরের নাম বদলে দিল, কিংবা মুঘলসরাই স্টেশনের নাম রাখল বিজেপি-জনসঙ্ঘের তাত্ত্বিক নেতার নামে। এই ধরনের পদক্ষেপ কিন্তু তারা নিতেই থাকবে। যেটাকে আমরা বলতে পারি 'এভরিডে কমিউনালিজম' বা রোজকার সাম্প্রদায়িকতা!

তিনি বলেন, সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের মধ্যে যে গভীর একটা অ্যান্টি-মুসলিম বায়াস বা প্রবল মুসলিম-বিদ্বেষ আছে সেটা তো অস্বীকার করা যায় না। ফলে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের সেই মূল লক্ষ্য বাস্তবায়ন পর্যায়ক্রমে চলছেই। আর সে কারণেই কাশীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ বর্তমান আকারেই চিরকাল অক্ষত থাকবে, তা খুব জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

https://youtu.be/C39er9HN12M

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত