প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকার ব্যস্ততায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর বাতিল হলেও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

তরিকুল ইসলাম: ইন্ডিয়ান ওশান সামিটে যোগ দিতে শুক্রবার বিকেলে নয়াদিল্লি সফর করার কথা ছিলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের।ওশান সামিটে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথাও ছিলো।সফরটি পূর্ব নির্ধারিত হলেও ঢাকার তুমুল ব্যস্ততা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য নীতিনির্ধারনী কর্মকর্তারা বিদেশে থাকায় ড. মোমেনের জন্য এই এই মুহুর্তে দেশটিতে সফর করা সম্ভব হচ্ছে না।তবে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ডিরেক্টের জেনারেল সামিটে অংশ নিচ্ছেন।

এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য ডিসেম্বর মাস সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।‘বুদ্ধিজীবী দিবস’ এবং ‘বিজয় দিবস’র বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্যই এই সফর বাতিল করতে হয়েছে। তাছাড়া আমাদের প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রসচিব দেশে নেই। তারা এখন দ্যা হেগে অবস্থান করছেন। সবকিছু বিবেচনা করে সফর বাতিল করে দেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাহোক, আগামী জানুয়ারিতে আমি অন্য একটি বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য ভারতে যাবো। তবে আমি আমার ডিজিকে চলতি বৈঠকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে ভারতে নাগরিকত্ব বিল পাশের জেরে ধরেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আচমকা দেশটিতে সফর বাতিল করেছে বলে দাবি করেছে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো। এনডিটিভি ও আনন্দ বাজার তাদের প্রতিবেদনে বলছে, লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও ছাড়পত্র পেয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। তা নিয়ে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়ছে আসম, ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। আর এ জন্যই মিস্টার মো ভারত সফর বাতিল করেছেন। দেশটির গণমাধ্যমের এমন খবর কূটনৈতিক মহলে হাস্যরসের তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের এনআরসি ও সিএবি এটা তাদের নিজস্ব বিষয়। বাংলাদেশ এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন নয়। কোনো দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অন্যদেশের মাথা ব্যথা হবার কথাতো নয়। ভারতীয় গণমাধ্যমে এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ দায়িত্বহীনতার পরিচয় বটে। প্রধানমন্ত্রী যখন পশ্চিমবঙ্গে গেলেন তাকে যথাযথভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়নি বলেও দেশটির গণমাধ্যমে খবর এসেছিল। তারা কি লিখে, কে কি বলে সেটা নিয়ে ভাবলে তো আর সুনির্দষ্ট কাজ সম্পন্ন করা যায় না। এসব রিপোটিং এর আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে। আমরা এসব নিয়ে ভাবছি না।

এদিকে ভারত সফর নিয়ে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। প্রতিবেশী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন না থামার কারণে ভারত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি এনেছে। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে দেশটির মন্ত্রী অমিত শাহ তার বক্তব্যে প্রসঙ্গে বুধবার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে বলে ভার যে তথ্য দিয়েছে সেটা সত্য নয়। যারা এ তথ্য দিয়েছেন তারা সত্য বলেননি। এবং যারা বুঝেছেন তারাও সত্য বলেননি। আমি আশা করব, বাংলাদেশে যারা সংখ্যালঘু নেতৃত্বে রয়েছে তারাই এ বিষয়ে কথা বলবেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় নির্যাতন হয় না। আমাদের দেশে ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। এখানে অন্য ধর্মের কেউ নির্যাতিত হয় না। আমাদের সরকারের অনেক বড় বড় সিদ্ধান্ত নেয় অন্য ধর্মের লোক। আমরা তাদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একই দৃষ্টিতে দেখি। কে কোন ধর্মের, সেটা আমরা বিচার করি না। বিচার করি যে, সে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা বা তার যোগ্যতার মাপকাঠি। আমাদের সবধরনের চাকরি-বাকরিতে সব ধর্মের লোক রয়েছে। তাদের আমরা অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখি। ভারত ঐতিহাসিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেখান থেকে পদস্খলন হলে দেশটির ঐতিহাসিক অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে।

গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বশেষ দিল্লি সফর করেছিলেন। তার দু’মাস আগে আগস্টে দিল্লির বিদেশমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। সেই সফরটি পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর এবং দিল্লির বিদেশমন্ত্রীর ঢাকা সফরে এনআরসি, তিস্তাসহ দুই দেশের সম্পর্কের বার্নিং সব ইস্যু নিয়েই আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ঢাকার পাশে সর্বোতভাবে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দিল্লি।

এর আগে ভারতে এনআরসি আতঙ্ক ও কথিত বাংলাদেশি খেদাও এমন পরিস্থিতিতে দেশটির নাগরিকদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সরকারিভাবে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ফেসবুকে অনেক কিছু বের হয়। সরকারিভাবে না জানলে আমার বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে বলে মনে হয় না। আমি ঠিক বুঝি না এনআরসি’র আতঙ্কটা। ভারতীয় সরকার আমাদের বারবার বলেছে, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনোভাবে বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

সীমান্তে পুশ ইন প্রসঙ্গে বলেন, আমি কিছু জানি না, পত্র-পত্রিকায় দেখছি পুশ হচ্ছে, কিংবা ভয়ে নাকি লোকজন আসছে। আমি ঠিক জানি না, এইটা নিয়ে আমাদের আলাপ-আলোচনা করতে হবে কিনা। আমাদের বড় বড় যতগুলো সমস্যা আমরা মোটামুটি আলোচনার মধ্যে শেষ করেছি। শুধু শেষ করেছি তাই না, অত্যান্ত পরিপক্কভাবে শেষ করেছি। আমাদের উভয় দেশের মধ্যে যে ট্রাস্ট, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট অ্যান্ড কনফিডেন্স, সেটা খুব কম দেশের মধ্যে থাকে। ভারতীয় সরকারকে আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্বাস করতে চাই।

সর্বাধিক পঠিত