প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রথম আলোর অজ্ঞতা, রূহ এবং নফসের মধ্যে পার্থক্য

শহিদুল ইসলাম রিপন : মৃত্যু অনিবার্য, অবশ্যম্ভাবী। কোরআনে সূরা আল ইমরানে স্পষ্ট বলা আছে, ‘কুল্লুন নাফসিন জাইকাতুল মউত’। অর্থাৎ যিনি জীবন ধারণ করেছেন তাকে মৃত্যুর স্বাদ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। সৃষ্টি জগতে এর কোনো ব্যতয় হয়নি, হবেও না। অন্যদিকে মাগফেরাত মানে হলো পরিত্রাণ চাওয়া, ক্ষমা চাওয়া ইত্যাদি। ফলে কোনো মানুষের মৃত্যু হলে তার নফসের জন্য অর্থাৎ জীবাত্মার জন্য মাগফেরাত কামনা করাই যায়। কিন্তু অনেকেই হরহামেশা রূহের মাগফেরাত কামনা করে বসেন। প্রথম আলো সম্প্রতি তাদের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি করেছেন। রূহ আসলে কী, সে বিষয়ে অজ্ঞতার কারণেই এমনটা হয়, রূহ ও নফসকে মিলিয়ে ফেলেন। কিন্তু কোরআনুল মজিদে একবারের জন্যও উল্লেখ নেই ‘কুল্লুন রুহিন জাইকাতুল মউত’, অর্থাৎ রূহকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। উল্লেখ থাকার কথাও নয়, কারণ রূহ জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ নয়, হবার প্রশ্নও আসে না।

ফলে যার জন্ম নেই, তার মৃত্যুও নেই, তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গও নেই। তাহলে রূহ কী? বাংলায় নফসকে প্রাণ বা জীবাত্মা বলা হলে একে বলা যেতে পারে পরমাত্মা। রূহ হচ্ছে রবের আদেশ। আর রবের আদেশ রবেরই অংশ, যা প্রতিপালক রূপে নফসের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে। আত্মসাধনার মাধ্যমে নফসকে পরিশুদ্ধ করতে পারলে তখন রূহ পরিপূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়, যাকে নূর-ই-মোহাম্মদী বলা হয়ে থাকে। রূহ যে প্রতিপালকের অংশ তার প্রমাণ রয়েছে কোরআনের বত্রিশ নম্বর সুরা সাজদার নয় নম্বর আয়াতে। সেখানে বলা হয়েছে : সুম্মা সাওয়াহু ওয়া নাফাখা ফিহি মির রুহিহি ওয়া জাআলা লাকুমুস সামআ ওয়াল আবসারা ওয়াল আফয়িদাতা কালিলাম মা তাশকুরুন। অর্থাৎ, ‘তারপর তাকে সুঠাম করেছেন এবং তার মধ্যে রূহ ফুৎকার করেছেন তার (আল্লাহর) রূহ হতে এবং দিয়েছেন শ্রবণ শক্তি ও দেখার শক্তি এবং অন্তঃকরণ, যার জন্য তোমরা কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো’। ফলে দেখা যাচ্ছে, রূহ যেহেতু রবের অংশ সেকারণেই কোরআনে কোথাও উল্লেখ নেই রূহর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের কথা। ফলে কেউ যদি রূহের মাগফেরাত কামনা করেন, তবে তিনি অজ্ঞতাপ্রসূত রবেরই মাগফেরাত কামনা করলেন। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রূহের সঙ্গে নফসের বন্ধন ছিন্ন হয়। তখন ওই মৃতদেহ পচতে থাকে, গন্ধ ছড়ায়, তখন তাকে কবরস্থ করতে হয়। কিন্তু যতোদিন রূহ-নফস মিলেমিশে থাকে ততোদিন মানুষ রবকে চিনতে পারার অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জীবিত থাকেন। মানুষের নফসের সঙ্গে রূহ থাকে বলেই মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব অর্থাৎ আশরাফুল মখলুকাত বলা হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জীবদ্দশায় নফসকে কেন পরিশুদ্ধ করতে হয়? আল্লাহ কোরআন মজিদের সূরা নাসে বলেছেন, ‘কুল আউযু বিরাব্বিন নাস/ মালিকিন্ নাস/ইলাহিন্ নাস/ মিন্ শাররিল ওয়াস্ ওয়াসিল খান্নাস/আল্লাযী ইউওয়াসবিসু ফি ছুদুরিন্নাস/মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস’ অর্থাৎ ‘বলুন, আমি মানুষ ও জিনের অন্তরে আত্মগোপন করে থাকা ওই খান্নাসরূপী শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পেতে আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির কাছে।’ মানুষের (ও জিনের) অন্তর ছাড়া আর কোথাও শয়তানের বাস নেই। তাকে বাস করার অধিকারও দেয়া হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, খান্নাসরূপী ওই শয়তান কীভাবে প্রলোভন দেখায়, যার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আশ্রয় গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে? উত্তর হলো : লোভ-লালসা, কাম, অহঙ্কার, ঘৃণাএসব রিপুর মাধ্যমে আল্লাহর পথে পরিচালনা না করে, শয়তান মানুষকে বিপথে চালিত করে। তাই এসবকে নিয়ন্ত্রণ করে নফসকে পরিশুদ্ধ করতে হয়। একা হয়ে রবকে ডাকতে হয়, তার কাছে আশ্রয় নিতে হয়।

আল্লাহ বলেছেন, আমরা তোমার শাহারগের কাছেই আছি। আমাকে ডাকো একা হয়ে, আমি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেবো। প্রথম আলোর প্রসঙ্গে ফিরি। সম্প্রতি পত্রিকাটির সাময়িকী কিশোর আলোর আনন্দ-আয়োজনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরার রাহাত। তার মৃত্যু নিয়ে বিপাকে আছে পত্রিকাটি। এরই মধ্যে সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সহপাঠীর মৃত্যুতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় প্রথম আলোর বর্ষপূর্তির সব অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। এ মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তিও ছেপেছে তারা। ওই বিজ্ঞপ্তিতে তারা আবরারের রূহের মাগফেরাত কামনা করেছে। অজ্ঞতাপ্রসূতই তারা এমনটি করেছে বলে মনে করি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত