প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমিল্লায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে রুম নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

মাহফুজ নান্টু , কুমিল্লা : শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষাকে কেন্দ্রে করে কুমিল্লা আবাসিক হোটেল ভাড়া হয়ে গেছে। তবে হোটেলগুলোর মান যেমনই হোক ভাড়া দ্বিগুন কোথাও তিনগুন বেশী ভাড়া রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলেও ভর্তি পরীক্ষার সর্বশেষ প্রস্তুতি ঠিক রাখতে অতিরিক্ত ভাড়ার যন্ত্রণা সয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে নগরীর শাসনগাছা থেকে কান্দিরপাড় এবং কান্দিরপাড় থেকে রানীরবাজার পর্যন্ত হোটেলগুলো ঘুরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেও সাথে কথা বলে জানা যায়, বাদশা মিয়ার বাজারের আবাসিক হোটেলের সিঙ্গেল রুম আগে আড়াই’শ থেকে তিন’শ টাকা করে ভ্রাম্যমাণ ফেরীওয়ালা বা দূরবর্তী নিম্ন আয়ের মানুষ থাকতেন। কিন্তু বিশবিদ্যালয়ের পরীক্ষার কারণে গতকাল সিঙ্গেল রুমগুলো ৬’শ টাকা এবং ডাবল রুম আগে ১২’শ টাকায় ভাড়া দেন হোটেল মালিকরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক অভিযোগ করেন। কম ভাড়ার হোটেলগুলোর মধ্যে শাসনগাছা বাদশা মিয়ার বাজার এলাকার হোটেল ময়নামতি,কান্দিরপাড়েরর আল রফিক, মাসুম, জোনাকি উল্লেখযোগ্য।

এদিকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার থেকে ক্যান্টনম্যান্ট পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেলর অবস্থা একই রকম ছিলো। একটু বিলাশ বহুল হোটেলগুলোতে গতকাল সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুম বুকিং করতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভীড় লেগেছিলো। কেউ কেউ বাড়তি ভাড়ার বেশী দিয়েও হোটেল বুক করতে পারেনি। অগত্য হোটেলের সামনের লবিতে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থী অভিভাবকরা।

গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় কুমিল্লা রেলস্টেশনে রাত পার করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো আরমান, সফিক ও সিফাত। তারা জানান, অতিরিক্ত ভাড়া বাড়তি চাহিদা থাকার কারণে হোটেল বুকিং করতে পারেননি। স্টেশনে চাঁদর বিছিয়ে শেষ প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। সিফাত জানান,গতকাল সন্ধ্যায় ফেনী থেকে কুমিল্লা পৌঁছেছি, আত্মীয়-স্বজন নেই। আর মাত্র দু রাত থাকবো। তাই খুব একটা কষ্ট হবে না বলে জানান সিফাতের বন্ধু আরমান ও সফিক।

এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ছেলেদের জন্য পুলিশ লাইনস ও মেয়েদের জন্য জিমনেসিয়ামে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীর জানান, আমরা যে পরিমাণ থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি তাতে অন্তত দু’হাজার শিক্ষার্থীও জন্য যথেষ্ট হবে।

৬৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীর বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে যতোটুকু করা যায় আমরা করবো। তবে আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করেছি। আমরা আশাকরি যে যেখান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে আশা করি সমস্যা হবে না।

এদিকে নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো, সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সার্বিক পুলিশি টহল জারি থাকবে। এছাড়া, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হবে। আশাকরি কোথাও কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।

উল্লেখ্য, এ শিক্ষাবর্ষে ছয়টি অনুষদের অধীনে মোট ১ হাজার ৪০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৬৮ হাজার ৭৭ জন শিক্ষার্থী। ‘এ’ ইউনিটে (বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ) সাতটি বিভাগে মোট ৩৫০টি আসনে ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২৬ হাজার ৯৭৫ টি।

‘বি’ ইউনিটে (কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) আটটি বিভাগে ৪৫০টি আসনের বিপরীতে ২৮ হাজার ২৯৫ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) চারটি বিভাগে ২৪০টি আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। ‘এ’ ইউনিটে একটি আসনের বিপরীতে ৭৭ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৩ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৫৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সম্পাদনা : জেরিন মাশফিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত