প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১২ মাসে প্রায় ১০ লাখ অভিবাসীকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র

সাইফুর রহমান : যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনী মেক্সিকো সীমান্তে গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে আটক অথবা ফেরৎ পাঠিয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, চলতি বসন্তে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী সীমান্ত অতিক্রম করলেও এই সংখ্যা অন্য সময়ের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে এবং তা সম্ভব হয়েছে মেক্সিকোসহ মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর সহযোগিতার কারণে। মার্কিন কাস্টমস এন্ড বর্ডার প্রটেকশনের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মার্ক মরগান সাংবাদিকদের জানান, এবছরের সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিন-পশ্চিম সীমান্তে মাত্র ৫২ হাজার অভিবাসী আটক অথবা ফেরৎ গেছেন। গত মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সালের পর থেকে এক মাসের হিসেবে এই সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ডেইলি সাবাব, ইউএসনিউজ.কম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কারণে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং গত ৩ মাসের গ্রেপ্তারের হার হ্রাসের চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা এবং এল সালভাদরের অভিবাসীরা যাতে মেক্সিকোকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে মেক্সিকোর সহযোগিতা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া তাদের অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করতে প্রথম যেদেশে প্রবেশ করবে সেদেশেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের পরামর্শ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাশীদের ¯্রােত ঠেকাতে প্রেসিডেন্টের দপ্তর সীমান্তে ৩ হাজার ২শ কিলোমিটার জুড়ে দেয়াল নির্মানের পরিকল্পনা করলে কংগ্রেসের বাধার মুখেও প্রতিরক্ষা দপ্তর এর জন্য অর্থ বরাদ্ধ দিতে সম্মত হয়। মরগান জানান, ইতোমধ্যেই ১৪৪ কিলোমিটারজুড়ে নতুন করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে এবং ২০২০ সালের মধ্যে তা ৭২৪ কিলোমিটারে গিয়ে দাঁড়াবে।

২০২০ সালের নির্বাচনে অভিবাসন ইস্যুটিকে আবারো ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার প্রশাসন রাজনৈতিক আশ্রয় এমনকি বৈধ ইমিগ্রেশনের পথকেও জটিল করে তোলার পদক্ষেপ নিচ্ছে, যদিও এর বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছেন অনেকে। সেপ্টেম্বরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি বিতর্কিত আদেশ কার্যকরের অনুমতি দিয়েছে, যার ফলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ¯্রােত কিছুটা কমবে বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এর বিরুদ্ধেও আদালতে পাল্টা রিট হয়েছে।
গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে এল সালভাদরের অভিবাসন প্রত্যাশী বাবা এবং শিশুকন্যার ভেসে আসা মৃতদেহ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। মেক্সিকোর গণমাধ্যম একে ২০১৫ সালে তুরস্ক উপকূলে ভাসতে থাকা আইলান কুর্দির লাশের সঙ্গে তুলনা করেন। এই ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে দারিদ্র, সংঘাত এবং মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুরে ধরছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত