প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এদেশে স্বাধীনতা কোথায়, মানবিক মূল্যবোধ কোথায় প্রশ্ন মোশাররফের

শিমুল মাহমুদ : বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে চারটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে এসেছেন। একজন দেশের শিক্ষিত এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে যদি তার মতামত দিয়ে থাকে সেটির জন্য কি তাকে পিটিয়ে হত্যা করা যায়? তাহলে এদেশে কোথায় স্বাধীনতা কোথায় মানবিক মূল্যবোধ?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। আজকে এই গণতন্ত্রহীন দেশে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ কতটা নৃশংস কতটা অমানুষ হলে এই ধরনের বর্বর ঘটনা ঘটায়।সবকিছুকে আজকে এই স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকার লুটিয়ে দিয়েছে, ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকার ভোট ডাকাতির সরকার গণতান্ত্রিক সরকার নয়, জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন নাই ফ্যাসিস্ট সরকার।তাই তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ আজকে পেটুয়া লীগ এবং সন্ত্রাসী লীগে পরিণত হয়েছে। যেহেতু দেশে গণতন্ত্র নাই স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে পরিচালনা করছে। তাদের ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগ আজ কি পরিমাণ নৃশংস কি পরিমান সন্ত্রাসী কি পরিমাণ তাদের বর্বরতা অতিক্রম করেছে যার ফলে এতগুলো লোক মিলে একজন মেধাবী ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে। এটা ভাবতেও ঘৃণা লাগে কি পরিমাণ তাদের ভয়াবহতা।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন,’ কোনটা স্বার্থবিরোধী নয় ফেনী নদীর পানি ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে এই ফেনী কোন অভিন্ন নদী নয় এটা বাংলাদেশের নদী। ফেনী নদীর পানি ভারতকে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন।এইপানি তারা ব্যবহার করার ফলে আমাদের কৃষিতে ক্ষতি হবে আমাদের দেশের মানুষের জীবনযাত্রার অবনতি ঘটবে ঐ সমস্ত এলাকায় আমাদের সব ধরনের চাষাবাদের ক্ষতি হবে এটি যদি আবারার বলে থাকে তাহলে অন্যায় কোথায় করেছেন? আমাদের উপকূলে নাকি রাডার বসানো হবে? কার স্বার্থে এই রাডার বসানো হবে? রাডার বসালে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

গত ১০ বছর ধরে সারাদেশে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন,’উন্নয়নের ফাঁকা বুলি ছুড়ে লুটপাট করা হচ্ছে সর্বোচ্চ।সরকারের ছত্রছায়ায় ঢাকা শহর এখন ক্যাসিনো নগরীতে পরিণত হয়েছে। আজকে সরকার সেগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।আবরার কে হত্যা করার পর সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পুলিশ দিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ নিজেদের করায়াত্ব তো করতে চেয়েছিল কিন্তু বুয়েটের ছাত্রদের তোপের মুখে দুই ঘণ্টা পরে সেই ফুটেজ দিতে বাধ্য হয় যার ফলে অপরাধীরা ধরা পড়ায় সরকার তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়েছে। এরা কারা? প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সহ সংগঠনের নেতারা।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ জেহাদ স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে প্রথম রক্ত দিয়ে তার পতনের বীজ রোপন করে গিয়েছিল ঠিক একইভাবে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে শহীদ আবরার জীবন দিয়ে তাদেরও পতনের অঙ্কুর পুতে গেছেন শুভ সূচনা করে গেছেন। তার সমাপ্তি ঘটনার দায়িত্ব বর্তমান এবং সাবেক ছাত্রনেতাদের।মনে রাখতে হবে এ দেশের যত আন্দোলন হয়েছে সেইসব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্ররা। জনগণ জেগে উঠেছে ছাত্রজনতা ঐক্যবদ্ধ ভাবে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুৎফর রহমান, মোশারফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, ইসলাম খান আলীম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত