আসিফ কাজল : পেশায় ভ্যানচালক বাবা তিনবছর আগেই ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। মা আছিয়া বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তানিয়ার বসবাস ঝিনাইদহ জেলার শহরের এককোণে খুঁপড়ি ঘরে। আশাহীন জীবনে শিক্ষাগ্রহণেই তিনি ভবিষ্যতের আলো খুঁজেছেন। তানিয়া সুলতানা বলেন, আজ আমার স্বপ্ন পূরণের দিন। আজ আমি ভবিষ্যতের সিড়িতে পদার্পন করলাম।
অভাব, দারিদ্রকে জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তানিয়া সুলতানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে মেধা তালিকায় তার স্থান ৮৫৬।
অথচ ঝিনাইদহের কাঞ্চননগর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেলেও অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষার আশা শেষ হয়ে যায় তার। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম কেনার অর্থও তাদের ছিল না। এখবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবার পরে আমেরিকা প্রবাসী তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন।
তানিয়া বলেন, আমি পড়াশুনো শেষ করে ব্যাংকার হতে চাই। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মায়ের জন্য বাড়ি করতে চাই। আমার মায়ের মুখে হাসি ফোঁটাতে চাই।
ঢাকায় আমার থাকার জায়গা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আসন তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে জানান তিনি।