প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মসজিদ পরিচিতি
মুঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতি নোয়াখালীর বজরা শাহী জামে মসজিদ

আমিন মুনশি : মুঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতি এখনো বহন করছে নোয়াখালীর বজরা শাহী জামে মসজিদ। ঐতিহাসিক এ মসজিদ নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে সোনাইমুড়ী উপজেলায় ঢাকা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে ৩শ’ মিটার পশ্চিমে অবস্থিত। প্রায় ২শ’ ৭৫ বছর পূর্বে মুহম্মদ শাহের রাজত্বকালে তার নির্দেশে ও অর্থে মিয়া আম্বর সাহেবের সহযোগিতায় জমিদার আমান উল্ল্যা খান কর্তৃক ১৭৪১ সালে দিল্লির শাহী মসজিদের আদলে নির্মিত বজরা শাহী জামে মসজিদ। অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ, বিভিন্ন রঙ্গের পাথর-চীনা মাটির তৈরি তৈজসপত্রের খণ্ডিত অংশের ব্যবহার এ মসজিদটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলেছে।-ডেইলি বাংলাদেশ

মসজিদের বহুভাঁজ খিলানোর কোনায় ফুল ও নকশা, আয়তাকার খোপের মধ্যে খিলানো নকশা, আয়তাকার উপরিভাগে পাতা নকশা, পাতার নকশার ওপরে দড়ির মতো গোলাকার বাঁধনের খোপে ফুল ও লতার নকশা রয়েছে। এছাড়া দরজায় আয়তাকার খোপের ওপর তারা ও বরপি নকশা, টারেটর গায়ের জেব্রাক্রসের মতো নকশা বিভিন্ন রঙের পাথর ও তৈজসপত্রের খণ্ডিত অংশের সংমিশ্রণে করা হয়েছে। মসজিদটির গম্বুজের গায়ে চাঁদ তারা ও পাখা নকশা ছাড়া গম্বুজের একবারে ওপরের দিকে পদ্মার পাঁপড়ি নকশা ও লম্বা চুড়াতে কলসির মতো ধাতব বস্তু স্থাপন করে গম্বুজগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

অষ্টভুজ আকৃতি কর্নার টাওয়ারে মোটা দড়ির মতো বাঁধনের সাহায্যে ঘূর্ণায়মান আয়তাকার খোপ নির্মাণ করে প্রত্যেক বাহুর খোপের ভিতরে অন্ধখিলান নকশা, খিলানের ভিতরে বিভিন্ন প্রকারের ফুলদানি নকশা, তারা নকশা দিয়ে অলংকৃত করা হয়েছে। চত্বরের সামনের দিকে প্রধান ফটকের দুই পাশে ও মিনারে মসজিদের মতো বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কার ছাড়াও ডোরাকাটা নকশা অত্যন্ত আকর্ষনীয়। অভূতপূর্ব স্থাপত্যকলায় নির্মিত এই মসজিদ দেখতে দূর-দুরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ বজরায় আসেন। মসজিদটির আয়তন ১৬ দশমিক ৪৫ বাই ৮ দশমিক ৯ মিটার। মসজিদে প্রবেশের জন্য তিনটি পাথরের দরজা আছে। মধ্যবর্তী প্রধান দরজাটি তুলনামূলকভাবে বড়। এর সম্মুখভাগ তিনটি অংশে বিভক্ত। মসজিদের মধ্যবর্তী স্থানের দেয়াল সামনের দিকে বাড়ানো। এ বাড়ানো দিকের মধ্যবর্তী অংশে ২ দশমিক ১৩ মিটার প্রশস্ত অর্ধবৃত্তাকৃতি একটি বহুভাজ খিলান রয়েছে। মসজিদের প্রধান প্রবেশ পথের দুই দিকে দুটি দরজা প্রধান প্রবেশ পথের মতো হলেও ছোট আকৃতির। দরজার উপরিভাগে আয়তাকার খোপের মধ্যে সাদা পাথর বা চীনা মাটির তৈরি আরবি বর্ণমালার লেখা “লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুলাহ”।

মসজিদের চার কোনে চারটি অষ্টভুজাকৃতি কর্নার টাওয়ার রয়েছে। কর্নার টাওয়ারকে দড়ি নকশার মাধ্যমে বাঁধন সৃষ্টি করে কয়েকটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। বাঁধনের ভিতর আয়তাকার খোপের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অন্ধখিলানের ব্যবহার রয়েছে। কর্ণার টাওয়ারের ওপরের অংশ কিছুটা সরু করে এ খিলানের ১ দশমিক ২২ মিটার ভেতরে পাথরের মূল দরজাটি তৈরি হয়েছে। বহুভাজ খিলানটি একটি আয়তাকার খোপের মধ্যে নির্মিত। এ খিলানের উভয়পাশে আয়তাকার খোপের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অন্ধ খিলান রয়েছে। খিলানের ওপর দিকে মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে শিলালিপি।

মসজিদের সামনের বাড়ানো অংশের দুই প্রান্ত সীমায় অষ্টভুজাকৃতি কর্নার টারেট ক্রমশ সরু হয়ে ওপরের দিকে উঠে গেছে। কর্ণার টারেটের নিচের দিকে অনেকটা ফুলের টবের মতো নির্মিত। মনে হয় টরেটগুলো টবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গম্বুজাকৃতি চূড়া তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণ দিকের মধ্যবর্তী অংশের বের হয়ে আসা জায়গায় কোনাকৃতির দুটি পাথরের দরজা রয়েছে। দরজার দুই পাশে রয়েছে টারেট। মসজিদের পশ্চিমাংশের বাইরের দিকেও এর সম্মুখভাগের মতো নির্মিত। মসজিদের ওপরের দিকে সারিবদ্ধ রয়েছে তিনটি গম্বুজ। মধ্যবর্তী গম্বুজটি তুলনামূলকভাবে বড়। প্রত্যেকটি গম্বুজ অষ্টাকৃতির। মসজিদটির সম্মুখভাগে রয়েছে পাকা চত্বর। চত্বরের পূর্বপাশে বহু ভাঁজ খিলানযুক্ত প্রধান ফটক রয়েছে।

এছাড়া মসজিদের মুসলিমদের ওজু, গোসলের জন্য রয়েছে একটি দীঘি। সব মিলিয়ে মসজিদটি যেন মুঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতিকে আজো আগলে রেখেছে স্ব-মহিমায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত