প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অনুমোদনহীন ম্যাসাজ পার্লার

মো. তৌহিদ এলাহী : রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ম্যাসাজ পার্লার-স্পার সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। শরীর ম্যাসাজ, শরীরের ব্যথা নাশ, ‘ফুল বডি থেরাপি’, ‘নুরু ম্যাসাজে’র জন্য এখন আর থাইল্যান্ড-চীন-ভারতে যেতে হয় না। গুলশান-বনানী-বারিধারা-ধানমন্ডিতে পাওয়া যাচ্ছে এই ‘বিশেষ সেবা’। চীন ও থাইল্যান্ড থেকে প্রশিক্ষক এনে খোলা হয়েছে অনেক ট্রেনিং সেন্টার। বিউটি পার্লারের সঙ্গে জমে উঠেছে এই ম্যাসাজ-স্পা ব্যবসা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টুইটারে বিজ্ঞাপন দিয়ে টানা হচ্ছে সেবা গ্রহীতা। বিজ্ঞাপনে থাইল্যান্ড ও চীনের মেয়েদের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইত্তেফাক

এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আদৌ কোনো লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র নেই। সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে হোটেল, বিউটি পার্লার, সেলুন আর ব্যায়ামাগারের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চলছে এ ব্যবসা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ বিষয়ে বলেন, স্পা ও ম্যাসাজ পার্লারগুলোর অনুমোদন নেই। অনেকের বিরুদ্ধে অনৈতিক-অশ্লীল কর্মকাণ্ডের অভিযোগও আছে। কোথাও অভিযোগ পাওয়ামাত্রা পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

তবে ঢাকা শহরে কতগুলো স্পা ও ম্যাসাজ পার্লার আছে তার কোনো হিসাব নেই পুলিশের খাতায়। অভিজাত এলাকার মূল সড়কের সামনে নয়, ফ্ল্যাট, বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছে এসব স্পা-ম্যাসাজ পার্লার। তবে এর কোনো সাইনবোর্ড নেই। মূলত ফেসবুক-ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপনেই মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানা দেওয়া থাকে। কোনো কোনো স্পার কোনো ঠিকানা থাকে না, কেবল মোবইল নম্বর থাকে। এদের বিজ্ঞাপনগুলোর ভাষা এবং ছবিতে থেরাপি বা ম্যাসাজের চেয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত থাকে বেশি। কেউ কেউ অশ্লীল ছবি দিয়ে লিফলেট তৈরি করে গুলশান-বনানী-ডিওএইচএস মহাখালীর হোটেল-গেস্ট হাউজগুলোতে বিলি করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই ম্যাসাজ পার্লার-স্পাগুলোর বাইরে থেকে ভেতরের পরিবেশ অনুমান করা খুবই কঠিন। ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে একটি পরিপাটি সেলুনের মতো পরিবেশ। অথচ এর মধ্যে চলছে অন্য কর্মকাণ্ড। অশ্লীল বিজ্ঞাপন দিয়ে গুলশান-২-এর ৫৫ নম্বর রোডের ফেমাস স্পা গ্রাহক টানার চেষ্টা করছে। ফেমাস স্পার পেইজে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, গ্রাহক টানার জন্য এই ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।

একটি স্পা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ম্যাসাজ পার্লার বা স্পা-এর নামে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই করোরই। যাদের আছে তারা সেলুনের লাইসেন্স ব্যবহার করছে। অধিকাংশ স্পা ও ম্যাসাজ পার্লার থেকে প্রশাসন মাসোহারা পায়। আমরা থানা-পুলিশ থেকে সবকিছু ম্যানেজ করেই ব্যবসা করি। আর বেশিরভাগ মালিকই প্রভাবশালী। ফলে কোনো সমস্যা হয় না। থানা-পুলিশ ম্যানেজ করার জন্য আছে সিন্ডিকেট। তবে ঠিকমতো টাকাপয়সা না দিতে পারলে পুলিশ উত্পাত করে।

কয়েকটি স্পা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা ঘটিয়েছে । ২০১৮ সালের অক্টোবরে গুলশান ও বনানী এলাকার ডব্লিউ বিউটি অ্যান্ড স্পা, মহাখালী ডিওএইচএস-এর ফনিক্স হেলথ কেয়ার, গুলশানের হোয়াইট বিউটি সেলুন অ্যান্ড স্পা সেন্টার এবং ডায়মন্ড বিউটি অ্যান্ড স্পায় অভিযান চালিয়ে ৪০ জনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের বিরুদ্ধে তরুণীদের দিয়ে স্পা করানোর পর সে সময়ের ছবি ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ ছিল। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, অসংখ্য স্পার আড়ালে চলছে মাদক ও অসামাজিক বাণিজ্য। তবে এদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা গুলশান বিভাগের ডিসি বরাবর কয়েকবার অভিযোগ করলেও প্রতিকার পায়নি। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত