প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৫ আগস্ট : জিয়া, এরশাদ ও খালেদা সরকারই খুনিচক্রের রক্ষক

দীপক চৌধুরী : মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকা-ের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর একটি শোকের দিন ১৫ই আগস্ট। এদিনটি আমাদের জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, বিশ্বের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ, বাঙালির নিরন্তন প্রেরণার চিরন্তন উৎস, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। নরপিশাচরূপি খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্কের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়।

জাতির পিতার সুযোগ্যকন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন। আমরা জানি, ১৯৭৫ সালের আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কুশীলবেরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরি য়ে নিতে কাজ শুরু করে। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমল থেকে ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মাধ্যমে রাজনীতিকে নষ্ট করে। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। সত্যিটা হলো, জিয়ার আমলেই রাজনীতিকে চরিত্রহীন করা হয়, নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়। রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিকে মেনে নেওয়ার প্রবণতা জোরদার হতে শুরু করে তার আমলেই। লুটপাট, দুর্নীতি আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস জাতিকে কলঙ্কিত করে। জিয়াউর রহমানের পর আবার স্বৈরাচারী এইচ এম এরশাদের আমল থেকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক উভয় প্রকারের দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকতা অর্জন করে এবং গত খালেদা জিয়া ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে অর্থনীতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্নীতি দমনে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে দেশের অর্থনীতিতে অপ্রতিরোধ্য গতি সঞ্চার করাই আমাদের প্রত্যাশা এখন। সারা বিশে^ বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করবে। সেই স্বপ্নময় ভবিষ্যতের বিনির্মাণের জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করবে জাতীয় শোক দিবস।

এটা স্পষ্ট যায় যে, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রায় পঁচিশ বছর ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে এদেশের মানুষের মধ্যে দেশের লক্ষ্যাদর্শ সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান তৈরি হয় বঙ্গবন্ধুর কারণেই। জনগণের পক্ষে সংগ্রামের ময়দানে তাঁর উচ্চারিত বক্তব্যগুলোতে ছিল মানুষের মনের কথা। মুক্তিযুদ্ধের পর এই ভূখ-কে জনগণের করে তুলতে বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিচক্রকে রক্ষার দায়িত্ব নেন জিয়াউর রহমান। জিয়া যুদ্ধাপরাধী ও ঘাতকচক্রকে বুকে টেনে নেন। জামায়াতের পুনরুজ্জীবন, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন, বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার হত্যার বিচার রুদ্ধ করেন তিনি। ফলে তাঁদের অবদানকে অস্বীকৃতি, রাষ্ট্রের নীতিতে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বীজ প্রবেশ করান জিয়াউর রহমান। এসব কর্ম বিনা বাধায় সম্ভব করার জন্য তিনি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেন। খুনিচক্রকে রক্ষা করতে ও চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করতে যে কাজটি তিনি শুরু করেন তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এইচ এম এরশাদ। আমরা দেখলাম, রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা প্রবেশের পথ জিয়ার মতো এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার আরো প্রশস্ত করেন। সবাই জানেন, ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ- দেশনির্বিশেষে প্রায় সব বাঙালিকে জয় বাংলার চেতনায় এক লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন যা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের অভূতপূর্ব অর্জন ছিল। এর ঠিক উল্টোপথ আবিষ্কার করেন তারা। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দিয়ে এরশাদ দল গঠন করেন। ‘ফ্রিডম পার্টি’ গঠন করেন খুনিদের দিয়ে। খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিচক্রের নেতাদের সংসদে বিরোধীদলের নেতার আসনে বসিয়ে জঘন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সংক্ষেপে বলা যায়, খুনিচক্রকে রক্ষা করেন জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার।

 

শেখ হাসিনা সবরকম সুখ-আনন্দ-ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে এদেশের মানুষের কাতারে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৭৫ থেকে ২০১৯ এই সুদীর্ঘ সময় এদেশের নানা প্রতিকূল পরিবেশেও কোনো ভয় বা অপশক্তি তাঁর মাথা নোয়াতে পারেনি। পিতার পর তাঁকেও হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়। হত্যার টার্গেট করা হয় ১৭ বার। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীর বিচার, নারকীয় বিডিআর হত্যাযজ্ঞের বিচার করতে সক্ষম হয়েছে তাঁর সরকার। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে। জনগণের সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে টার্গেট করার মূল কারণ, কোনো লোভ বা ভয় দেখিয়ে তাঁকে কোনোভাবেই দেশপ্রেম থেকে দমানো যায় না। পৃথিবীর ইতিহাসে যে কয়জন সৎ, মানবতাবাদী, গণতন্ত্রপ্রেমী, মহান রাষ্ট্রনায়ক বা সরকারপ্রধান জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি তাঁদের অন্যতম। মানব কল্যাণের অগ্রদূত, বাঙালির সভ্যতা-সংস্কৃতিতে জাগ্রত তিনি। রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় অসাধারণ দক্ষ জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রকৃত অর্থেই দেশরত্ন। বিশ্বচিন্তাবিদদের তালিকায় তিনি। তরুণ-তরুণীদের ভরসার জায়গা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মেধা, শ্রম ও দক্ষতা শেখ হাসিনার চারিত্রিক দৃঢ়তার এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। তাঁর মতে, দুর্নীতিকে ঘৃণা করার মানসিকতা সবার মধ্যেই থাকা দরকার। সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে আমি মনে করি, দুর্নীতি করলে রাজনীতি নয়। আমরা জানি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতুদ-। কিন্তু এটাও জানি, আমাদের দেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শাস্তির মেয়াদ বদলে যায়। খুনি বা দুর্ধর্ষ ডাকাত, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের রাতারাতি মুক্তি দেওয়া হয়। রাজনীতি এজন্যেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, লুটপাটের আবির্ভাব ঘটে। এখান থেকে আমাদের বেরুতে হবে; শেখ হাসিনা এটাই চান। সুতরাং এবারের শোক দিবসের অঙ্গীকার হোক, দুর্নীতিবাজদের কোনোরকম ছাড় নয়। মন্ত্রী-এমপি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, লেখক-সাংবাদিক তথা শক্তিধর খুঁটির জোর যতই শক্তিশালী হোক না কেন, শাস্তি পেতেই হবে।
লেখক : উপ-সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত